Friday, July 1st, 2022




হলি আর্টিজান বেকারি রাজধানীর গুলশানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বর্তমানে মামলার অবস্হান

কালের সংবাদ ডেস্ক: হলি আর্টিজান বেকারিতে রাজধানীর গুলশানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ছয় বছর পূর্ণ হলো আজ। এ ঘটনায় বিচারিক আদালতের রায়েরও কেটে গেছে প্রায় ৩১ মাস। কিন্তু এখনও মামলাটিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টের শুনানির অপেক্ষায় ঝুলে আছে। তবে আশার খবর হলো, মামলার পেপারবুক ইতিমধ্যে প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে। তবে সব গুছিয়ে উঠতে ব্যয় হবে আরও কিছু সময়।

এই দিনে (২০১৬ সালের ১ জুলাই) ছয় বছর আগে নব্য জেএমবির পাঁচ জঙ্গি বেকারিতে ঢুকে প্রথমে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এছাড়া রাতভর জিম্মি করে রাখে বেকারিতে আসা বেশ কয়েকজন অতিথি ও বেকারির স্টাফদের। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে পার হওয়া সেই রাত শেষে ভোরে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিটের নেতৃত্বে পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। উদ্ধার করা হয় হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি অবস্থায় থাকা দেশি-বিদেশি অতিথি ও বেকারির স্টাফসহ প্রায় ৩৫ জনকে।

চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী বিশ্বজুড়ে ওই ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত হয়ে শুরু হয় বিচার। মামলার আট আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। টানা এক বছর মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালত তার রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও একজনকে খালাস দেন।

আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হামলার মূল সমন্বয়ক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুসারে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও খালাস চেয়ে করা আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য মামলার নথিপত্র বিচারিক আদালত থেকে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। বিচারিক আদালতের এসব নথির মধ্যে মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, চার্জ শিট, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও রায়সহ মোট ২ হাজার ৩০৭ পৃষ্ঠার নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় জমা করা হয়।

বিচারিক আদালত থেকে আসা মামলাটির সব নথিপত্র একত্রিত করে আপিল শুনানির জন্য উত্থাপনের জন্য পেপারবুক তৈরি করতে হবে। আর সে লক্ষ্যে সুপিম কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে নথিপত্রগুলো বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

শুনানির প্রসঙ্গে ও পেপারবুক প্রস্তুতের অগ্রগতি জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে চলে এসেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে মামলার নথি যেহেতু রেফারেন্সে এসেছে সেহেতু মামলায় আসামিদের নিযুক্ত হবে। এসব বিষয় শেষ হলে মামলটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হবে। তখনি প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করবো, স্পর্শকাতর এই মামলাটি যেন দ্রুত শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কেননা ওই ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ও সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র বলেন, মামলটির পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক কিছু কাজ চলছে। সেগুলো শেষ হলেই শুনানির জন্য উঠবে।

এস চৌধূরী/-

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category