Tuesday, August 3rd, 2021




নওগাঁয় পুলিশ কনেস্টবলের দেওয়া খাবার খেয়ে দিনপার করছেন এক হতদরিদ্র প্রতিবন্দি

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, নওগাঁ: নওগাঁয় এক মানবিক পুলিশ কনেস্টবলের দেওয়া খাবার খেয়ে দিনপার করছেন আমজাদ হোসেন (৪৮) নামের এক দরিদ্র প্রতিবন্দি। এক সময় প্রতিবন্দি আমজাদ হোসেনের বাবা, ভাই, বোন সহ স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, সংসার সবই ছিলো, ইতি মধ্যেই তার মেয়ে বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সংসার করছেন আর ছেলেও ঢাকাতে চাকুরীরত।

অজানা এক ঝড়ে তার সেই সপ্নের সংসার ভেঙ্গে যায়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ডির্ভোসের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে প্রতিবন্দি আমজাদ হোসেনের ছেলে-মেয়ে, ভাই বোন সহ স্বজনরা কেউ খবর রাখেন না। সংসার ভেঙ্গে যাবার পর থেকেই প্রতিবন্দি হত-দরিদ্র আমজাদ হোসেন হয়ে পড়েন দিশেহারা। এক পর্যায়ে পেটের খিদে মেটাতে তিনি নওগাঁর রানীনগর উপজেলা সদরে একটি ছোট্ট ঢোক ঘড়ে অল্প কিছু টাকার মালামাল দিয়ে দোকান সাঝিয়ে দিনে কেনাবেচা করে যে সামান্য আয় হয় সেই টাকায় খাবার কিনে খেয়ে ছোট্ট সেই ঢোপের দোকান ঘড়ের ভেতরই এক প্রকার নির্ঘুম রাত পার করে আসছিলেন।

এরিমাঝে করোনা ভাইরাস নামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনিক ( বিধিনিষেধ) লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিবন্দি আমজাদ হোসেন খাবার সংকটে ও পেটের খিদের জ্বালায় দিশেহারা হয়ে পড়েন এমন-ই এক সময় মানবিকতার টানেই সহযোগীতার এগিয়ে আসেন নিকটস্থ্য রানীনগর থানায় কর্মরত মানবিক পুলিশ কনেস্টবল সরোয়ার । বিগত লকডাউনের সেই শুরু থেকেই পুলিশ কনেস্টবল সরোয়ার তার নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি থানার পার্শ্বেই ভাড়া বাসা থেকে প্রতি নিয়ত খাবার নিয়ে এসে প্রতিবন্দি আমজাদ হোসেন কে দেন, আর খাবার রান্না থেকে সাজিয়ে দিয়ে সহযোগীতা করেন কনেস্টবল সরোয়ার এর স্ত্রী।

প্রতিবন্দি আমজাদ হোসেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার

বিষ্ণপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে।

তার সংসার ভেঙ্গে যাবার পরই থেকেই রানীনগর উপজেলা সদর রেলগেট সংলগ্ন ক্রিষ্ণচুড়া গাছের নিচে একটি ছোট্ট ঢোপ ঘড় বসিয়ে সেই ঢোপ ঘড়ে দোকান সাঝিয়ে দিনে কেনাবেচা ও রাতে সেই ছোট্ট ঢোপ ঘড়েই থাকেন।

এব্যাপারে হত-দরিদ্র প্রতিবন্দি আমজাদ হোসেন জানান, বাবারে আমার মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী সহ ছেলে- মেয়ে ও সংসার সবই ছিলো। কোন এক অজানা ঝড়ে আজ আমি পথে। খাবার ত দূরের কথা প্রতিবন্দি হওয়ায় আমার খোঁজ-খবর নেওয়ারও এখন কেউ নেই বাবা। এরিমাঝে যখন আমি পেটের খিদের জ্বালায় ভুগতে থাকি সে সময় থেকেই থানার এক পুলিশ তার বাসা থেকে প্রতিদিন খাবার এনে আমাকে দেন, আমি অনেক দিন থেকেই সেই পুলিশের দেওয়া খাবার খেয়ে বেঁচে রয়েছি বাবা, দোয়া করি আল্লাহ যেন ঐ পুলিশ ও তার পরিবারকে ভালো রাখেন।

সরকারি কোন অনুদান পান কি না প্রতিবেদকের প্রশ্নে তিনি বলেন, অনেক আগে দু’বার পঙ্গু ভাতা পেলেও এখন আর পাই না  বাবা বলেই তিনি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।

এব্যাপারে রানীনগর থানায় কর্মরত সেই মানবিক পুলিশ কনেস্টবল সরোয়ার এর সাথে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, প্রতিবন্দী ঐ ব্যাক্তির মুখ থেকে তার কষ্টের কাহিনী জানার পর থেকেই আমি নিজের দায়িত্ব পালনের ফাঁকে যখন বাসায় খাবার খেতে যাই, সেই সময় ওনার জন্যও বাসা থেকে খাবার এনে দেইমাত্র।

পুলিশ কনেস্টবলের এমন মানবিকতায় ( খাবার এনে দেওয়ার দৃশ্য দেখে) স্থানিয়রা বলাবলি করছেন এমন মানবিক মানুষদের জন্যই এখনো আমজাদ হোসেনের মত অসহায় হত- দরিদ্র মানুষরা খাবার খেতে পারছেন।

এস সামিউল/ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category