হঠাৎ কনকনে শীত ; ফুটপাতের দোকানে ক্রেতার ভীড়

খায়রুল ইসলাম, (কালের সংবাদ): শীতের আগমনী বার্তায় এভাবেই জোরে ডাকাডাকি করে ফুটপাত মাতিয়ে তুলছেন হকাররা। বাইছা লন ১’শ, দেইখা লন ১’শ, দাদার কাপড় ১’শ, দাদীর কাপড় ১’শ, শীতের কাপড় ১’শ,  একদাম ১’শ । হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই রাজধানীসহ সারাদেশে জমে উঠেছে ফুটপাতে শীতের কাপড় কেনা বেচা। ফুটপাত থেকে অভিজাত বিপণীকেন্দ্র পর্যন্ত শীতের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত নিম্নমধ্যবিত্তের ভরসা ফুটপাত ।এজন্যই  ক্রেতাদের চাপ বেশী লক্ষ্য করা গেছে ফুটপাত গুলোতে।

আজ বৃহ:বার সরেজমিনে রাজধানীর উত্তরা ঘুরে দেখা যায়, সকালের দিকে ফুটপাত ও বিপণীকেন্দ্র গুলোতে মানুষের চাপ কম থাকলেও দুপুর গড়তেই ক্রেতাদের আনাগনা বেড়ে যায়  । বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতা সমাগমে নগরীর শীতের পোশাকের বাজার গরম হয়ে উঠছে। কেউ বলছে এই দোকানের পোশাক ভালো আবার কেউ বলছে এই দোকানেরটা বেশী ভালো। এভাবেই পাল্লা দিয়ে যে যার মতো বিক্রী করছেন শীতের পোষাক। আর ক্রেতারাও উৎফুল্ল হয়ে কম দামে গরম পোষাক ক্রয় করছে।

তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা, কনকনে ঠান্ডা পড়ায় পোশাকের বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ী লাভলু বলেন, হঠাৎ বেশী পড়াতে লোক সমাগম অনেক বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবার। শীতের আভাসের কারনেই মূলত সবাই ভারী জামা কাপড় ক্রয় করতে শুরু করছেন। গত বারের তুলনায় এবার ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশী। হঠাৎ শীত পড়াতে মানুষের চাপও বেড়ে গেছে । এ বিষয়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ী কমরুল বলেন, আশা করছি শীতের প্রভাব আরো বাড়লে তখন আরও চাপ পড়বে ফুটপাতে।

এদিকে ফুটপাতে কম টাকায় ভালো পন্য পাওয়ার কারনে অভিজাত বিপণীকেন্দ্র গুলোতে লোক সমাগম কম থাকলেও মোটামুটি ভালোই বিক্রী হচ্ছে বলে জানিয়েছন দোকানদাররা। তবে ফুটপাতে একটু কমে শীতের পোষাক পাওয়ার কারনেই বেশীর ভাগ ক্রেতা সেদিকেই ছুটছেন। তারপরও ক্রেতাদের কমতি নেই মার্কেট গুলোতে।

এ বিষয়ে রাজধানীর উত্তরার কূশল সেন্টার মার্কেটের দোকানী রুহুল আমিন জানান,  কনকনে ঠান্ডা পড়ার কারণে ক্রেতাদের আগমন বেড়ে গেছে।  ক্রেতারা ভীড় জমাচ্ছেন মার্কেট গুলোতে । মার্কেটের চেয়ে ভালো পোষাক তো আর ফুটপাতে পাওয়া যায় না। ফুটপাতে পোষাকের দাম একটু কম থাকায় বেশীরভাগ মানুষ সেদিকেই ছুটছেন। তবুও শীতের পোষাক বিক্রীর কমতি নেই আমাদের মার্কেটে।

পরিবারের জন্য শীতের পোষাক কিনতে আসা আকাশ জানান, শীত আসলেই আমাদের জন্য ভিন্নরকম একটি উৎসবের ঋতু। কারন শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন অনেকটা পাল্টে যায়। অন্য সব ঋতুর চেয়ে শীতে সবকিছুর ধরনই অনেকটা পরিবর্তন হয়ে যায়। শীতের পোষাক কিনতে আসা মহিলা জানান, শীতের পোষাক কিনতে চলে এসেছি, কিন্তু দাম অনেক বেশী তাই কেনাকাটা খুব হিমশিম থেতে হচ্ছে । মানুষের ভীড়ের কারনে যদিও হাঁটাচলা করতে একটু সমস্যা হচ্ছে তারপরও এটি একটি অন্য রকম আনন্দ বলে তার মনে হয়।

ফুটপাত থেকে কেন শীতের পোষাক ক্রয় করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে উপজাতি জিমেক্স জানান, আমার মতে ফুটপাত আর মার্কেটগুলোতে একই কোয়ালিটির পোষাক পাওয়া যায়। কারন এর আগে মার্কেট থেকে বেশী দাম দিয়ে পোষাক কিনেছিলাম কিন্তু মান তেমন ভালো ছিলো না। ঈদানিং ফুটপাত থেকেই বেশী কেনাকাটা করি। কারন ফুটপাতে পন্যের দাম যেমন কম থাকে তেমনি পোষাকের মানও ভালো থাকে। এছাড়া এবছরে শীতের কাড়রের দাম অধীক হওয়ায় কিনতে পারছেন না বলে জানান জিমেক্স ।

ছোট বড় সব দোকানে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নবজাতক, কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে সব বয়সীদের জন্য রঙ বে-রঙের সোয়েটার, জ্যাকেট, লম্বা প্যান্ট, কানটুপি, ফুল হাতা গেন্জি, ফুলের তেরী মাফলার, হাতমোজা ইত্যাদি। বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন রকমের পোশাক। এক কথায় শীতের আভাসেই পল্টে গেছে নগরীর চিত্র পাশাপাশি জমে উঠেছে শহরের ফুটপাত ও মার্কেটগুলো।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category