Monday, May 16th, 2022




সুমন নামক জোঁকার হিরো আলম সমাচার।

রুম্মান আকবর :- এদিক ওদিকের গুঞ্জন সালাউদ্দিন  সুমন ইদানিং যেখানে সেখানে নিজ বন্ধুদেরকেই জোরপূর্বক অটোগ্রাফ দিয়ে আবার বিখ্যাত সব লেখকের ভাব নেয়! আর ছবি তুলে ফানি সব কর্মকাণ্ড করে দর্শক মহলে হয়ে পড়েছে ২য় জোঁকার হিরো আলম। তবে সে মানসম্পন্ন ভিডিও বানায়। নওয়াব সিরাজ-উদ-দাওলাহ্’র প্রকৃত ওয়ারিশ নওয়াবজাদা আলী আব্বাস-উদ-দাওলাহ্ আরেবকে নিয়েও সে কিছু ভিডিও বানিয়ে রাতারাতি খ্যাতি পায় ও নওয়াবজাদার ভিডিও-র বদৌলতে সে বিপুল অর্থ সম্পদ বানিয়ে ফেলে। তারপর সুমনের সাথে নওয়াবজাদার কোন কারণে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, তার ফলশ্রুতিতেই উদয় হয় ‘সুমনের আবিষ্কার’ মাহ্দী চাচার। সে বেচারাকে নিয়ে খুব তুর্কী নাচ নাচলো, অতঃপর বেচারা চাচাকেই বাটপারে প্রমাণ করার পায়তারা করলো! তারপর লাগলো স্পষ্টভাবে নওয়াবজাদার বিরুদ্ধে ও তারপর তার পূর্বপুরুষ নওয়াব সিরাজ-উদ-দাওলাহ্’র বিরুদ্ধে!!

কেন আমরা নওয়াবজাদা আরেবের পক্ষে? Why we support Nawabzada Areb? ( Nawabzada Abbas-ud-Dawlah alias Syed Golam Abbas Areb the 9th descendant of 5th Nawab of Bengal Siraj-ud-Dawla, why we support him? If you wanna know, then pls watch the full Video & stay with us for our next episodes ). (  https://www.youtube.com/watch?v=zz5uOdsKQEc  )।

মাহ্দী-উদ-দাওলাহ্ ভন্ড-প্রতারক! নওয়াবজাদা আরেবের হাতের আংটি কি আসলেই নওয়াবী আংটি? উনি কি সত্যিই নওয়াব সিরাজ-উদ-দাওলাহ্’র বংশধর? সিরাজ-উদ-দাওলাহ্ আসলে কি ছিলেন এই মর্মে একের পর এক ভিডিও দিচ্ছে বাটপার সালাউদ্দিন সুমন। ভেবেছে এই নিয়ে কোন টু-শব্দ হবে না! কিন্তু হবে, হতেই থাকবে। তার প্রতিটা কুযুক্তি ও মিথ্যেচারের জওয়াব দেয়া হবে ইনশা আল্লাহ্। এবং তার মুখোশও টেনে খুলে দেয়া হবে।

গত মার্চ ২০২২-এ সুমনের নাটকীয় ফলাফল ও অতি-মাত্রায় লাফা লাফি!

সুমন মার্চ ২০২২-এ বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ করে তার একটিতে রাউজানের সেই চাচাকে ক্ষেপিয়ে আবারও নিজের নষ্টামী প্রকাশ করে দিয়েছে। যাইহোক, একটা মন্তব্য দেখলাম ওর ঐ ভিডিওটিতেই। চাচার ঐ বস্তুগুলো নিয়ে না কি সরকারী ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’ ইতিমধ্যেই তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করেছেন (মার্চ ২০২২)। তার ফলাফল আর কারও কাছে থাক বা না থাক সুমনের কাছে নিশ্চই আছে, তাই সে ২/১ দিনের মধ্যেই সেই ‘ফলাফল’ সম্বলিত ভিডিওটি প্রকাশ করবে! যাইহোক আমার বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই যে ওগুলোর কোনটিই নওয়াব সিরাজ-উদ-দাওলাহ্’র ব্যবহৃত / সম্পর্কিত নয়। যাচাই-বাছাই কমিটি’ এই নামটাই ১ম শুনলুম দাদা। খোঁজ খবর করেও প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরে এমন কিছুরই খোঁজ পেলাম না! আর হ্যাঁ আরও ১টি ব্যাপারের নিশ্চয়তা দিচ্ছি এ ব্যাপার নিয়ে সরকারী মহলে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা হলে তা ৩টি স্থানের ১টিতে নিশ্চিত পাওয়া যেতো। এগুলো হচ্ছে-

(১) ঢাকার আগারগাঁও-এ অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতর,

(২) ঢাকার শাহ্বাগে অবস্থিত জাতীয় যাদুঘর এবং

(৩) ঢাকার নিমতলীতে অবস্থিত এশিয়াটিক সোসাইটি।

আপনারা নিজেরাও সুমনের কথিত এই ‘যাচাই-বাছাই’ কমিটির খোঁজ নিতে পারেন। ও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওর মতোই কিছু লোককে দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব পরীক্ষা করাচ্ছে। সেহেতু এর ফলাফল কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশ সরকার সুমনের মতো লোককে দুই পয়সা পাত্তাও দেয় না। সরকারীভাবে পরীক্ষার জন্য এগুলো আনা হলে তা উপরে উল্লেখিত ৩টি স্থানের কোন না কোনটিতেই জানা যেতো ও সরকার কোন না কোনভাবে এতে জড়িত থাকলে তা আর না হলেও বিটিভিতে দেখানো হতো, না হয় ‘প্রত্নচর্চা’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হতো। যাইহোক নওয়াব সিরাজ-উদ-দাওলাহ্’র ওয়ারিশ নিয়ে সুমনের এই উঠেপরে লাগাকেই বোধহয় বাংলায় বলা হয়- ‘আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর’ নেয়া। সরকারী ভাবে ওসবের পরীক্ষা করা হলে ফলাফল এটাই বেড়ুবে যে- ওগুলো আদৌ নওয়াব সিরাজ-উদ-দাওলাহ্’র তো নয়-ই, বরঞ্চ কোনভাবেই তা নওয়াবের সাথেও সম্পৃক্ত নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, এর স্ক্রীণশর্ট রেখে দিয়েন। আর সুমন তার শ্রেণীর লোকদের দিয়ে পরীক্ষা করালে? কি হতে পারে নিজেরাই বুঝে নেন!

এমবিবিএস পড়ার মাধ্যম ইংলিশ, সেজন্যেই আপনি যদি ইংলিশে অনার্স করা ছেলেকে অপারেশন করাতে দেন- তাহলে রোগীর ভাগ্যে যা ঘটবে ঠিক সেটাই ঘটবে সুমনের এই ফলাফলে।

বন্ধুরা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম,  যে এগুলো আদৌ নওয়াব সিরাজ-উদ-দাওলাহ্’র তো নয়-ই! বরঞ্চ নওয়াবের সাথে সম্পৃক্ত কোন জিনিস-ই নয়? তাহলে এগুলো কার? ও জিনিসগুলো আসলে কি কি? তার উত্তর আমি সুমনের ভিডিও’র জওয়াবে করা আমার পূর্বের ভিডিওতে দিয়েছিলাম-

https://www.facebook.com/Nawab.Sirajuddaula.Generation/videos/476773663928170  ) ।

সুমনের দাবীকৃত এই উপ-রক্ষকের জ্ঞান সম্পর্কে আমার তীর্যক মন্তব্য কি ঠিক ছিলো?

পূর্বে কি বলেছিলাম? বলিনি যে- সুমনের দাবীকৃত ঐ কমিটি আদৌ কোন সরকারী কমিটিই নয়! এই ভিডিওতে সুমন যাদের এনেছে তারাও যে আদৌ সরকার কর্তৃক গঠিত কোন কমিটির কেউ নয়- তার প্রমাণ এই ভিডিওতেই আছে! বারংবার ‘মূল কমিটির’ কথা বলা হচ্ছে। যা আদৌ প্রতিষ্ঠিতই হয়নি! যেটাই হচ্ছে সরকারী কমিটি। আর ইলিইয়াস সাহেব তো স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছেন যে- ‘মূল কমিটির দেখার কোন প্রয়োজন-ই নেই’।

বন্ধুরা সিরাজের এই কথিত ওয়ারিশ নাটকে কেউই যেনো বৃদ্ধ চাচাকে দোষ দেবেন না! কারণ- উনি বৃদ্ধ। বরিশালে ১টা কথা আছে ‘বুড়া আর গুরা’ মানে বৃদ্ধ আর বাচ্চা- দুইই সমান। বৃদ্ধকালে মানুষ শিশুই হয়ে যায়। এর দোষ ১মাত্র সুমনের- যার ইতিহাস জ্ঞান ক-অক্ষর শূকর মাংশ! অথচ সেই ‘ইতিহাসের ময়নাতদন্ত’ করার ও ‘ইতিহাসের বই’ লেখার দুঃসাহস করে!!

SISB group এর চট্টগ্রামের সদস্যদের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই যারা জানিয়েছিলেন ঐ ভোজালী চট্টগ্রামের স্থানীয় জিনিস। প্রথম আমাকে ঐ ভোজালী যে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য একথা জানিয়েছিলো আমার সম্পর্কিত ভাই অন্তু। অসংখ্য ধন্যবাদ হাসনাঈন ভাইকেও ।

বন্ধুরা খুব শিঘ্রীই এই সব ব্যাপারে আরও নতুন নতুন ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য পাবেন ইনশা আল্লাহ্।  এই সুমন আসলেই কে? ও তার উদ্দেশ্য কি? দেখতে আমাদের সাথেই থাকুন।

লেখক :- ( ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক,ঢাকা বাংলাদেশ )।

এস চৌধুরী/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category