অবৈধ ভাবে জমি দখল ; মামলার মূল আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

কালের সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশের অনেক জায়গাতেই ভূমি নিয়ে জাল-জালিয়াতি ও জবর দখল অনেকটাই নিয়মিত ঘটনা। সমাজের কিছু অসৎ ও প্রভাবশালী লোকের ভূমিখেকো মানসিকতার কারণে আব্দুর রাজ্জাকের মতো ভোগ-দখলকৃত জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। তখন জমির মূল মালিক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এ সম্পত্তি তখন ভূমিখেকোর ভোগ-দখলের বিষয়ে পরিণত হয়।

এসব ভূমিখেকো সন্ত্রাসী চক্র আব্দুর রাজ্জাকের নিজ সম্পত্তি দখল করে ২৫,০০০০০/= (পঁচিশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করেন । এবং তাহার ঘর বাড়ি ভেঙ্গে গুঢ়িয়ে দেন । ২৫,০০০০০/= (পঁচিশ লক্ষ) টাকা দিলে জমিতে দখল দিবেন বলে জানান ভুমি খেকো সন্ত্রাসী চক্র । তখন সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য শারমিন আক্তার চায়না নিজে জমির মালিক দাবি করে জমিতে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেন । এবং জমির মালিক আব্দুর রাজ্জাক ভাষানটেক থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন,  ১৬ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখে । যাহার এফ আই আর (মামলা) নং -১৭/২২১ । তাদের বিরুদ্ধে ভাষানটেক ও ইব্রাহীমপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। মামলার আসামীরা হলেন – ১। মো. সাব্বির দেওয়ান (জনি), ২। হাবিব দেওয়ান, ৩। শারমিন আক্তার চায়না দেওয়ান ।

মামলার পর উক্ত সাইন বোর্ড  পরিবর্তন করে  মো. আব্দুল আজিজ বাবু  নিজ নামে জমির মালিকানা দাবি করে পুরনায় সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেন ।  মো. আব্দুল আজিজ বাবু নিজেকে আ.লীগের নেতা ও মহানগর উত্তরের কোন এক মহিলা লীগের সদস্যের ভাই বলেও দাবি করে নিজ প্রভাব থাটান । বর্তমানে তাদেরই একজন লিটু নামে এক ব্যক্তি আমার জমিতে এসে আমার কার্যক্রমে বাধা দেয় ।

আইনের প্রতিকার পাওয়ার জন্য নিজের ভূমি রক্ষা করতে আব্দুর রাজ্জাক আবারো ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে ভাষানটেক থানায় মামলা করেন । যার মামলা নং- 0৪/২৫১ ।মামলায় আসামীরা হলেন-  ১। আবদুল আজিজ বাবু (পিতা – আব্দুল জলিল), ২। মো. সাব্বির দেওয়ান (জনি), ৩। মো. মারুফ হোসেন (পিতা – তমিজ উদ্দিন), ৪।  মজিবুর,  ৫। তারেক, ৬। দুলাল, ৭। মো. হাফিজ উদ্দিন( পিতা – হাতেম আলী) সহ মোট ১২ জন এ ভূমিখেকো সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য । উক্ত মামলাটি সিআইডিতে প্রক্রিয়াধীন ।

 মো. আব্দুল আজিজ বাবু নিজের সাইনবোর্ড আবারো পরিবর্তন করে মোকাম বিজ্ঞ ৩য় যুগ্ন জেলা জজ আদালত, ঢাকা । দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-২৯/২০১৪ ।  ”সর্ব সাধারণের প্রবেশ নিষেধ” বলে সাইনবোর্ড দেন।  আব্দুর বাজ্জাক ঐ দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-২৯/২০১৪ এর নকল উত্তলোন করেন এবং তাহাতে দেখা যায় ঐ মামলাটি তমিজ উদ্দিন গং বাদী বনাম সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় গং বিবাদী। বিজ্ঞ ৩য় যুগ্ন জেলা জজ আদালত, ঢাকা । দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-২৯/২০১৪ । এর ০১/০৪/২০১৫ ইং সালে বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জবাব দেন যে, বাদীগণের মামলা ভিত্তিহীন ও দুষ্ট প্রকৃতির ।

আব্দুর রাজ্জাক সন্ত্রাসীদের ভয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি অবস্হান করছেন । এবং বরাবর নির্বাহী হাকিম এর আদালত, ঢাকা । পিটিশন মামলা নং-১৫৭/২০১৯, তাহাতে আদালত উভয় পক্ষকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ।

আব্দুর রাজ্জাক তার নিজ ভূমির অবস্হান ঢাকা জেলার ভাষানটেক থানাধীন ৪/৪৭ জেট শ্যমল পল্লী, ভাষানটেক, খতিয়ান নং- ৩৬৮,  সি এস -১২, এস এ -৬ ,  আর এস নং-  ৪২, ঢাকা সিটি জরিপ-১৪২,  মৌজা-ধামাল কোট , দাগ নং- সি এ ও এস এ. ১, আর এস ১/১১৯, ঢাকা সিটি জরিপ -০২ নং দাগের ০৫.৫০ শতাংশ । বর্তমানে সিটি হল্ডিং নং ৪/৪৭ জেট, শ্যামল পল্লী, ভাষানটেক,  মিরপুর, ঢাকা । বাংলা ১৪২৬ সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করেন।

উল্লেখ্য এই সম্পত্তি আব্দুর রাজ্জাক নিজ নামে আইসিবি  ইসলামী ব্যাংকে বন্ধক তাহার প্রতিষ্ঠান এস আর এন্টারপ্রইজ এর নামে লোন গ্রহন করেন ।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ,  ভূমিখেকো সন্ত্রাসী চক্রের দ্বারা এভাবেই হয়রানী হচ্ছে নিরীহ জমির মালিক । আব্দুর রাজ্জাক তার নিজ ভূমি রক্ষা করতে মাসের পর মাস ছোটাছুটি করছেন আদালতে । ভুক্তভোগী জমির মালিক এই ভূমিদস্যুরে হাত থেকে রেহাই পেতে কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন ।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category