Friday, November 6th, 2020




সংস্কার করা হচ্ছে যশোরের ২'হাজার কিলোমিটর গ্রামীণ পাকা সড়ক

সংস্কার করা হচ্ছে যশোরের ২’হাজার কিলোমিটর গ্রামীণ পাকা সড়ক

নিলয় ধর, যশোর: যানবাহন ও পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচল করাতে যশোরের ২ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ককে সংস্কার করা হচ্ছে। এই সব সড়কে চলাচল করতে যাতে কোনো রকম বিঘ্ন না ঘটে এই লক্ষ্যে সারাবছর মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি।এরফলে, যশোরের মানুষ দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবে। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান এলজিইডির কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রামীণ সড়কে মানুষ যাতে স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এলজিইডির আওতায় যশোরে সর্বমোট ৯ হাজার ৭শত ছয় কিলোমিটার সড়ক আছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৯শত’ ৪৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক ও ৭ হাজার ৭শত ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে ৩ হাজার ২শত’ ৬৯ কিলোমিটার সড়ক পাকা। বাকি সব কাঁচা রাস্তা। পাকা রাস্তার মধ্যে ২হাজার কিলোমিটার সড়কে যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত রাখতে বছরব্যাপী মেরামতের কাজ শুরু করেছে এলজিইডি।

এই দিকে, এলজিইডি যশোর কার্যালয়ের আয়োজনে ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।  দিনব্যাপী চলে এই কর্মশালা। সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ময়মনসিংহ বিভাগ)  নূর হোসেন হাওলাদার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (খুলনা বিভাগ) মোখলেসুর রহমান, প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মাননিয়ন্ত্রণ) রেজাউল করিম, যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল বাছেদ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস।

কর্মশালায় অংশ নেয় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও যশোর জেলার ৮ উপজেলা প্রকৌশলী ও কমিউনিটি অর্গানাইজাররা। কর্মশালার আয়োজন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ইফতেখার আলী।

কর্মশালায় প্রশিক্ষকরা বলেছেন, বাংলাদেশ একটি গ্রাম প্রধান দেশ। দেশের অর্থনীতির সাথে গ্রামীণ যোগাযোগ সরাসরি সম্পৃক্ত। দেশে এলজিইডির আওতাভূক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মোট ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩শত’ ৫৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক আছে।

বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৫শত’ ২৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এসব সড়ক প্রধানত গ্রোথসেন্টার ও বাজার, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, খামার, আর্থিক, শিক্ষা, সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান এবং পল্লীসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে যাতায়াত সুগম করেছে। যার ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণ সুবিধা, খামার পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হয়েছে।

গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক দেশের বর্তমান অগ্রসরমান অর্থনীতিকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে উন্নয়নকৃত গ্রামীণ এ পাকা সড়ক- নেটওয়ার্কগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নির্মিত অবকাঠামোর স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসাথে টেকসই সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, সড়ক হবে সংস্কার’ এই স্লোগানের বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর জন্যে চলতি অর্থবছর এলজিইডি ৩০ দিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ মাস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category