Thursday, June 16th, 2022




শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনাযোগ্য

শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনাযোগ্য

কালের সংবাদ ডেস্কঃ আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবকে বিবেচনাযোগ্য বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। তিনি বলেছেন, অপ্রদর্শিত অর্থকে অর্থনীতির মূলস্রোতে আনার লক্ষ্যে এই প্রস্তাব বিবেচনা করা যায়।

গতকাল বুধবার শেয়ারবাজারের প্রেক্ষিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট শীর্ষক এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিএমজেএফ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান। এতে মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বিএমবিএর সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান।

মূল উপস্থাপনায় বিএমবিএর সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড বিতরণের সময় কেটে রাখা আয়করকে (উৎসে কর) তার চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করা, মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।

তিনি তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির করহারের ব্যবধান ৭.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান। এতে দেশি-বিদেশি বড় ও লাভজনক কম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হবে।

তিনি আরো বলেন, নানা কারণে বড় উদ্যোক্তারা শেয়ারবাজারে আসতে তেমন আগ্রহী নয়। তাদের আগ্রহী করে তুলতে ভালো আর্থিক প্রণোদনা প্রয়োজন। অতীতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির করহারে ১০ শতাংশ ব্যবধান ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে তা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে তালিকাভুক্ত কম্পানির পাশাপাশি অতালিকাভুক্ত কম্পানির কারহারও আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতে এই দুই ধরনের কম্পানির করহারের ব্যবধান ৭.৫০ শতাংশই থেকে যাচ্ছে। এটি থাকলে ভালো কম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে নিরুৎসাহ হবে। বিএমবিএ সভাপতি করহারের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) হারেও ব্যবধান রাখার প্রস্তাব করেন।

বাজেটের পর ঘুরে দাঁড়াল পুঁজিবাজার

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনের দিন থেকে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে টানা চার কর্মদিবস শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে। অবশেষে গতকাল সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবস পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে ইউটার্ন নিয়েছে উভয় শেয়াররবাজার।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩.১২ পয়েন্ট বা ০.২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭৪.৫১ পয়েন্ট। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১.৯২ পয়েন্ট বা ০.১৩ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বা ০.০৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৮৯.৫৯ এবং দুই হাজার ৩০১.৯১।

ডিএসইতে টাকার পরিমাণে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৯৪৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার।

ডিএসইতে ৩৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৫টির বা ৪৫.৮১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৬১টির বা ৪২.১৫ শতাংশের এবং ৪৬টির বা ১২.০৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৬১.৯৭ পয়েন্ট বা ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৭২.৯২।

একে  আরিফ/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category