Wednesday, March 3rd, 2021




শার্শায় মা ছেলেকে বেধড়ক কুপিয়ে পিটিয় রক্তাক্ত যখম এর অভিযোগ

শার্শায় মা ছেলেকে বেধড়ক কুপিয়ে পিটিয় রক্তাক্ত যখম এর অভিযোগ

নুরুল কবির, বেনাপোল: শার্শার কন্যাদাহ গ্রামে জিল্লুর রহমান নামে এক যুবক ও তার মা নুরজাহান বেগমকে কুপিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। আর এই মারটিটের হুকুম দাতা হিসাবে অভিযোগের তীর ছুড়ছে উলাশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আয়নাল হোসেন এর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ এক যুগ ধরে জিল্লুর রহমান এর পরিবারের প্রায় ৭০ বিঘা জমি আয়নাল হোসেন ও তার সহযোগিরা ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি ওই জমি হাতছাড়া হওয়ার পর ওই চেয়ারম্যান মরিয়া হয়ে উঠে । এমন অভিযোগ করেছেন জিল্লুর রহমান এর পরিবারের সদস্যরা।

আহত জিল্লুর রহমান শার্শার উলাশী ইউনিয়ন এর কন্যাদাহ গ্রামের খায়বার সরদার এর ছেলে ।

আহত যুবকের ভাই জুলফিকার আলী ভুট্রো বলেন, আয়নাল হোসেন শার্শায় একজন ত্রাস। তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সে এলকায় দখলবাজী সহ একক আধিপত্য বিস্তারে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। এই আয়নাল হোসেন বিএনপির এর একজন সক্রিয় কর্মী ছিল। সে এলাকায় আজিজুল হত্যার দায়ে প্রায় দেড়যুগ জেল খাটে। এরপর সে আওয়ামীলীগে যোগদান করার পর থেকে এলাকায় একের পর এক হত্যা কান্ড ঘটায়। তার হুকুমে নুরইসলাম মেম্বার, মোজাম্মেল, কিতাব গাইন আজিজুল নিহত হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমাতায় আসার পর ।

এই ৪ জন একই বংশের। এরা ১ বছরের মধ্যে তার বাহিনীর হাতে নিহত হয়। ওই সময় সে দল বদলীয়ে আাওয়ামীলীগে যোগদান করে এলাকায় নৃশংশ মুলক কাজ করে আসছে। আয়নাল হক তার পিতা খয়বার সরদারের প্রায় ৭০ বিঘা জমি দখল করে দীর্ঘ দিন যাবৎ ভোগ করে আসছে। এ জমি তারা বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিয়ে উদ্ধার করার পর সে আবারও হিং¯্র হয়ে উছে। তার ভয়ে আমার পরিবার প্রায় এক যুগ বাড়ির বাইরে পলিয়ে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি তার পিতা চরম অসুস্থ হলে নিজ বাড়ি যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলে আমরা সেখানে মা ও ছোট ভাই সহ তাকে পাঠিয়ে দেই। এরপর গত সোমবার আমাদের বাড়ির মেহগনি গাছ আমার ছোট ভাই জিল্লুর রহমান বিক্রি করতে বাড়ি গেলে তাকে আয়নাল হোসেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী ইউনুছ হোসেন, শফিকুল, আলম হাসান সহ একাধিক লোক নিয়ে বাড়ি যেয়ে ঘরের মধ্যে রড, দা , লাঠি সোঠা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে।

এসময় তার মা নুরজাহান বেগম ছেলের আর্তনাদ সহ্য করতে না পেরে ঠেকাতে গেলে তাকেও মারপিট করে আহত করে। রক্তাক্ত জিল্লূকে স্থানীয়রা ধরে প্রথমে নাভারন বুরুজ বাগান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরপর অবস্থা অবনতি হলে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খয়বার সরদার এর স্ত্রী নুরজাহান বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন তার ছেলে বাড়িতে মেহগনি গাছ বিক্রি করতে আসলে তাকে আয়নাল চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও কুপিয়ে আহত করে। আমি ছেলেকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে আমাকেও তারা মারধর করে। আমার হাতে কুপানো হয়। লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।

এ ব্যাপারে উলাশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যন আয়নাল হোসেন বলেন, আপনারা এসে দেখে যান জমি কে ভোগ করছে। আর জিল্লু উলশী ইউনিয়ন এর মেম্বার তরিকুল ইসলাম মিলনকে এর সাথে আঁতাত করে আমাকে মারার জন্য এলাকায় এসেছিল। এ খবর পেয়ে তাকে দুচারটা বাড়ি ধুড়ি মারা হয়।

উলাশী ইউনিয়ন এর মেম্বার তরিকুল ইসলাম মিলনকে ফোন করলে সে ফোন রিসিভ করে নাই।
শার্শা থানা ওসি বদরুল আলম বলেন কন্যাদাহ গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমরা শুনেছি। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। তবে থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category