লালমনিরহাটে একটি স্কুলের দুই নাম, শিক্ষার্থী ১২ জন

তন্ময় আহমেদ,লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটে একটি স্কুলের দুইটি নাম। শিক্ষার্থী ১২জন। শিক্ষার্থীদেও জন্য নেই খেলাধুলার মাঠ বিভ্রান্ততে অভিভাবক।

বেকার যুবক/যুবতীর চাকুরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্কুলের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আঃ রাজ্জাক পালিয়ে যাওয়া পরিকল্পনায় (২০ডিসেম্বর) জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ করে লালমনিরহাট-মোগলহাট রোডস্থ সংলগ্ন মসলা গবেষণা উপ-কেন্দ্রের পাশে খোঁচাবাড়ি এলাকায় মফিজুল হকের বাসা ভাড়া নিয়ে “শিবরাম প্রি-ক্যাডেট পাবলিক স্কুল” এর সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়। উক্ত স্কুলের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আঃ রাজ্জাক-এর বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানাধীন ২নং সোনারাম ইউনিয়নের পশ্চিম কৃষক বৈদ্যনাথ গ্রামের দেছার আলীর পুত্র। তার চাচা আব্দুল মতিন ওই স্কুলের সভাপতি। তিনি একজন স্কুল শিক্ষক হলেও বসবাস করেন গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে।

“শিবরাম প্রি-ক্যাডেট পাবলিক স্কুল” সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বেকার যুবক/যুবতী প্রায় ১১জনের নিকট থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৪০হাজার থেকে ৫০হাজার টাকা গ্রহন করছেন পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আঃ রাজ্জাক। প্রথম দিকে “শিবরাম প্রি-ক্যাডেট পাবলিক স্কুল” সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফিস্টুন, মাইকিং করে স্কুলটি প্লে- থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ওই স্কুলটির নাম রাতারাতি পাল্টিয়ে “এস.এম প্রি-ক্যাডেট পাবলিক স্কুল” নামকরণ করা হয়। ফলে এলাকায় অভিভাবকের মাঝে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ওই স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা ১২জন।

স্কুলটি মাত্র ৮শতক জমির উপর একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়া হলেও ছাত্র/ছাত্রীদের নেই কোন খেলাধুলার মাঠসহ বিনোদন ব্যবস্থা। অথচ বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি (ই-তথ্য সংগ্রহ) ছক-২০১৮ ও ইমমআইসি কোড-৭০৬০৪১৮৪৯ কে জি বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্যাবলিতে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা ভুলে ভরা। ১৩/১১/২০১৮ইং তারিখে প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠ্যপুস্তক চাহিদা/উদ্ধৃত্ত ছক-২০১৯, পাঠ্যপুস্তক চাহিদাঃ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৩০জন, প্রথম শ্রেণিতে ২৪জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২২জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৭জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৪জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১২জন উল্লেখ করে শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে বইয়ের চাহিদা দাখিল করা হয়েছে। পারুল আক্তার, সাইদুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন, সুফরা আক্তার, নয়ন কুমার কে শ্রেণি শিক্ষক দেখানো হলে তারা কিছুই জানেন না এবং বই চাহিদাপত্রে স্বাক্ষর করেন নাই। বর্তমান দুই নামীয় স্কুলটিতে ১১৯জন ছাত্র/ছাত্রী দেখানো হলেও বাস্তবে সবশ্রেণি মিলে ১০/১২জন ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে। তাহলে এসব সরকারী বই কালোবাজারে বিক্রিসহ চাকুরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্কুলের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আঃ রাজ্জাক পালিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে পারুল আক্তার, সাইদুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠ্যপুস্তক চাহিদাপত্রে আমরা কোন স্বাক্ষর করি নাই। আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা নই। আমাদের শিক্ষক হিসেবে দেখানো হলেও আমরা কিছুই জানি না।
পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আঃ রাজ্জাক বলেন, আমি প্রথমে নতুন একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান করি। যার নাম রাখা হয় শিবরাম প্রি-ক্যাডেট পাবলিক স্কুল। শিবরাম নামে লালমনিরহাটে আরও একটি প্রতিষ্টান রয়েছে। তাই শিবরাম নামটি পরিবর্তন করে “এস.এম প্রি-ক্যাডেট পাবলিক স্কুল” নামকরণ করা হয়েছে। এতে কিছুটা সমস্যা হলেও তা কেটে উঠেছি।

ওই স্কুলের এসএমসি সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, আমি গাইবান্ধা জেলার একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগতা করি। আঃ রাজ্জাক আমার ভাতিজা লালমনিরহাটে সে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল করবে বলে আমাকে সভাপতি রেখেছেন। সেই কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি নাম কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুই বলতে পারেনি।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন সরকার বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২টি নাম কেন রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এনআই/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category