রোজায় ইফতার ও সেহরিতে কি খাবেন, কি খাবেন না

কালের সংবাদ ডেস্ক: শুরু হয়ে গেল সিয়াম সাধণার মাস পবিত্র রমজান। ৩০ দিন রোজা পালন করবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। এসময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস পালন করা অত্যন্ত জরুরী। সারা দিন রোজা পালন শেষে ইফতারে অনেকেই অনেক বেশি খেয়ে ফেলে। আবার সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে এই কথা চিন্তা করে অনেকেই সেহরিতে জোর করে অনেক বেশি খাবার খায়। কিন্তু এ সময় খাদ্য তালিকায় মুখরোচক ভাজাপোড়া নয় বরং পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে এবং পরিমিত আহার করতে হবে। শরীরের চাহিদার থেকে খাবারের পরিমাণ কম বা বেশি কোনটিই ভালো নয়।
চলুন জেনে নেই রমজান মাসে ইফতার ও সেহরিতে কি খাবেন ও কি খাবেন না।

আবার রমজান মাসে সবাই খাবারের প্রতিযোগিতা নেমে পড়ে। কে কত খেতে বা রান্না করতে পারে। কিন্তু এসব ভাজা-পোড়া, গুরুপাক খাবার খেয়ে কী হতে পারে, তা কি জানি? সারা দিন রোজা রেখে পাকস্থলী খুব ক্ষুধার্ত ও দুর্বল থাকে। তারপর যদি এত রকম গুরুপাক খাবার একসঙ্গে খাওয়া হয়, তাহলে কী অবস্থা হবে? পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, অবসাদ, আলসার, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা ইত্যাদি হবে রোজার নিত্যসঙ্গী। অনেকের ওজনও বেড়ে যায়।

কি খাবেন-
-একজন রোজাদার ইফতার ও সেহরিতে কি খাবেন তা নির্ভর করবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ও বয়সের উপর।
-সেহরি ও ইফতারে সহজে ও তাড়াতাড়ি হজম হয় এমন খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
-রোজাদারের জন্য ইফতারিতে খেজুর বা খুরমা, ঘরের তৈরি বিশুদ্ধ শরবত, কচি শসা, পেঁয়াজু, বুট, এবং ফরমালিন মুক্ত মৌসুমি ফল থাকতে হবে।
-রুচি অনুযায়ী বাসার রান্না করা নুডুলস বা পাস্তা খেতে পারেন।
-প্রচুর সবুজ শাকসবজি, ফলমূল আহার করা উচিত।
-ইফতার ও সেহরি সময়ের মধ্যে অন্তত পক্ষে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করতে হবে। তবে একবারে নয়, থেমে থেমে।
-এশা ও তারাবির নামাজের পর অভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণ মতো ভাত, মাছ অথবা মুরগির মাংস, ডাল ও সবজি খাওয়া যাবে।
-সেহরিতে ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজি, মাছ অথবা মাংস খাওয়া যাবে।
-প্রতিদিন একটি করে ডিম খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে।
-যাদের দুধ খাওয়ার অভ্যাস আছে তাঁরা সেহরির পর এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন।
-খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেতে হবে যা হজমে সহায়ক হবে।

কি খাবেন না-
-এনার্জি ড্রিংক, কার্বনেটেড ড্রিংক এবং সোডা জাতীয় পানীয়। এগুলো এসিডিটি বাড়িয়ে দেয়।
-পারতপক্ষে বাইরের দোকানের তৈরি ইফতার না খাওয়াই ভালো।
-তেহারি বা হালিম না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে বদহজম হতে পারে।
-অনেকেই সেহরিতে খেতে চান না। শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখেন কিন্তু কখনোই শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখা যাবে না।
-অধিক তেল, অধিক ঝাল, অধিক চর্বি জাতীয় খাবার সেহরিতে খাওয়া একদম উচিত নয়।
-সুগার ড্রিংক, চা ও কফি যতটা সম্ভব কম পান করতে হবে।
-রান্নার সময় খাবারে ডালডার পরিবর্তে সয়াবিন তেল ব্যবহার করতে হবে তবে যতটা সম্ভব কম পরিমাণে।
-অতিরিক্ত লবণ ও লবণাক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category