Friday, November 20th, 2020




রাজনীতিকের চেয়েও সরকারি কর্মকর্তারা বেশি টাকা পাচার করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতিকের চেয়েও সরকারি কর্মকর্তারা বেশি টাকা পাচার করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কালের সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশে রাজনীতিকদের চেয়ে সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশে বেশি টাকা পাচার করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, কানাডার টরেন্টোতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সম্পর্কে গোপনে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। আমার ধারণা ছিল রাজনীতিকদের সংখ্যা বেশি হবে; কিন্তু যে তথ্য এসেছে তাতে আমি অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে। তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানেই থাকে।

ড. মোমেন বলেন, আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে, এর মধ্যে রাজনীতিক হলেন চারজন। এ ছাড়া তৈরী পোশাক শিল্পের কিছু ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যাই বেশি। তবে এটি সামগ্রিক তথ্য নয়। আমরা আরো তথ্য সংগ্রহ করছি। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া খুব কঠিন। শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা। তবে মিডিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার যেসব খবর বের হয়, আসলে সংখ্যাটি তত নয়।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতির জন্য কিছু বিদেশী সরকারও দায়ী। যেমন বাংলাদেশের কে কে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে টাকা রেখেছে, সেই তথ্য চাইলেও আমাদের দেয়া হয় না। অথচ তারা স্বচ্ছতার কথা বলে। এটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। তিনি বলেন, বিদেশে কেউ বৈধভাবে টাকা নিলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তারা বলে ফিরিয়ে নেবে; কিন্তুবাস্তবে নেয় না। মিয়ানমারের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। পৃথিবীর বড় দেশগুলো যদি চাপ দিত, তাহলে হয়তো ফিরিয়ে নিত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাশিয়া ও চীন তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি চায় না। তারা বলে, এটা তোমরা নিজেরা সমাধান করে নাও। আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে নিয়ে যেতে সরকার আগ্রহী; কিন্তু আন্তর্জাতিক এনজিও এতে বাধা দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না যাওয়ার জন্য এনজিওগুলো প্রচারণা চালাচ্ছে; কিন্তু কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভূমিধস হলে কে দায়িত্ব নেবে? পরে বিদেশীরা বলবে, বাংলাদেশ সরকার কিছুই করেনি। এ জন্যই সরকার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনি এখনো পালিয়ে আছে। দু’জন খুনির অবস্থান আমরা জানি। একজন আমেরিকায়, আরেকজন কানাডায়। আইনি প্রক্রিয়ায় কানাডা থেকে খুনিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এখনো সুরাহা হয়নি। আমেরিকায় অবস্থানরত খুনিকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আশ্বাস পেয়েছি। তাদের অ্যাটর্নি জেনারেলকে সব তথ্য পাঠিয়েছি, তারা একটা সিদ্ধান্ত দেবে।

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী আট বাংলাদেশীকে ফেরত আনতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। তারা ওমান থেকে পাকিস্তানে গেছেন। তিন মাস জেলও দিয়েছিল পাকিস্তানের আদালত। সেটি শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, করোনার কারণে পাকিস্তানের সাথে বর্তমানে বাংলাদেশের সরাসরি ফ্লাইট নেই। এখন পাকিস্তানে বন্দী বাংলাদেশীরা প্রথম ওমানে যাবেন। তারপর ওমান থেকে ফ্লাইটে দেশে আসবেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর এক লাখ ৬০ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। অধিকাংশই সৌদি আরব থেকে এসেছেন। ফিরে আসা প্রবাসীরা যাতে দেশে ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারেন, সে জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সাত শ’ কোটি টাকার তহবিল দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে সমস্যার মুখে থাকা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের জন্য ৭০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ভারতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ডিসেম্বরে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হবে। পানিবণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রচুর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়। সে তুলনায় বাংলাদেশে এই প্রবণতা অনেক কম। বাংলাদেশে প্রতি লাখে ১০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়; কিন্তু ওপেন সেক্সের দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকায় ধর্ষণের হার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category