যশোরে মাদকের অবাধ, যুবসমাজ ধ্বংসের পথে

নিলয় ধর, যশোর: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়ায় মাদকের অবাধ ব্যবহার এখন ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। দেখার যেন কেউ নেই। পুলিশ আসে-পুলিশ যায়, কিন্তু মাদক যেন তার শক্ত অবস্থানেই রয়েছে। মাদকের প্রতিরোধ যেন কোনভাবেই সম্ভব নয়- স্থানীয়দের এমনই অভিমত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে কোন লাভ নেই, কারণ মাদক কোথায় এবং কিভাবে বিক্রি হচ্ছে এই সংবাদ পুলিশের কাছে জানালে পুলিশ উল্টো তাদেরকে শেল্টার দিয়ে তাদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়া শুরু করে এবং তাদের সুযোগ করে দেয়। এমনও অবস্থা রয়েছে, অনেক সময় সংবাদদাতার নাম মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট প্রকাশ করে তাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করার চেষ্টা করে। অনেক সময় তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে।এলাকাবাসির অভিযোগ মাদকের এই ভয়াবহতায় যুবসমাজ ধ্বংশ হয়ে গেছে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে তাদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

অভিভাবকদের উদ্বেগ উৎকন্ঠা দিন দিন বেড়েই চলছে। এতসব অভিযোগ নিয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম-এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এই দিকে এতে ধ্বংস হচ্ছে লেখা পড়া, বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে গোটা সমাজ ওপরিবার। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া, মহিষদিয়া, পোড়াডাঙা নেহালপুর, সুজাতপুর, হাটগাছা আলিপুর, ঢাকুরিয়া, জয়পুর, সুবলকাঠিসহ কয়েকটি এলাকায় মাদকের বিস্তার লাভ করছে। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান চালালেও আসল মাদক সেবী ও ব্যাবসায়ীদের ধরতে পারছে না, তারা থাকে সব সময় ধরা ছোয়ার বাহিরে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়াসহ কয়েকটি আঞ্চলের কয়েকটি সড়কের চলাচলের পথ দিয়ে, উল্লেখ্য কিছু ব্যাগে গোপন ভাবে, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরণের লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ মাদক কেনা বেচা চলছে। একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই সব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। ভারত থেকে আসা মাদক, বেকারত্ব, হতাশা, হীনমন্যতা থেকে মাদক সেবন ও ব্যবসায় যুব সমাজ সম্পৃক্ত হয়ে উঠেছে।নেশাগ্রস্থ হয়ে এরা মানসিক অবসাদ, স্বাস্থ্যগত ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক ভাবে দারুন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এলাকার যুব সমাজের একটি অংশ মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় থাকে। এমনকি এলাকায় বছর খানেক আগে ৩/৪ জন যুবক মদ পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। এই সব মাদকসেবীরা তাদের আয়ের এক তৃতীয়াংশ টাকা মদপান করে এবং মাদক নিয়ে বিনাশ করছেন। অতঃপর ঘরে গিয়ে হানাহানি, বিশৃঙ্খলা, মারধোর ও জিনিসপত্র ভাঙচুর নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

সিগারেট থেকে নেশা শুরু করলেও মাদকের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে শুরু হয়। বেশির ভাগই শুরু হয় বন্ধুবান্ধবদের সাহচর্যে। মূলত মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়েই কিশোর-তরুণরা ব্যাপকভাবে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এই সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা কাজে তাদের ব্যবহার করে থাকে। মাদকের এই নেশার জালে একবার জড়িয়ে পড়লে কেউ আর সহজে এই জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে মাদকসেবীরা দিনে দিনে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। বর্তমানে মাদকাসক্তদের পরিসংখ্যানের কোনো তথ্য না থাকলেও বেসরকারিভাবে দেশে প্রায় ৮০ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে এবং মাদকসেবীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই যুবক, তাদের ৪৩ শতাংশ বেকার। ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। কিছুদিন আগেও যারা ফেনসিডিলে আসক্ত ছিল তাদের অধিকাংশই এখন ইয়াবা আসক্ত। সম্প্রতি ইয়াবা আমাদের দেশের তরুণ যুবসমাজকে গ্রাস করেছে। প্রতিদিন যেমন ইয়াবা ধরা হচ্ছে তেমনি প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ইয়াবা তরুণরা গ্রহণ করছেন।

মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বর্তমানে এই প্রভাব অতটা বোঝা না গেলেও সুদূরপ্রসারী অনেক প্রভাব রয়েছে। প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এর বিস্তৃতি।

একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, মাদকসেবীরা গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ কোটি টাকার মাদক সেবন করে থাকে হিসাব অনুযায়ী মাসে ৬০০ কোটি টাকা।অন্যদিকে সারাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মাদক ব্যবসায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা করে। আরো একটি ভয়ঙ্কর চিত্র হচ্ছে যে, সারাদেশের ছড়িয়ে পড়া ইয়াবার শতকরা ৮৫ ভাগই ভেজাল। যার ফলে এসব ইয়াবা গ্রহণকারী মাদকাসক্তরা নানান ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তার মধ্যে কিডনি, লিভার ছাড়াও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শতকরা ৮০ ভাগ খুনের সঙ্গে মাদকাসক্তরাও কোনোভাবে জড়িত।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category