Tuesday, July 5th, 2022




মাগুরায় এসপি বাবুল-মিতু’র শিশু সন্তানদের জবানবন্দী গ্রহন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গের অভিযাগ

মাগুরায় এসপি বাবুল-মিতু’র শিশু সন্তানদের জবানবন্দী গ্রহন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গের অভিযাগ

খন্দকার নজরুল ইসলাম মিলন, মাগুর: সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ও মাহমুদা খানম মিতু দম্পতির দুই শিশুর জবানবন্দী গ্রহনকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গের অভিযাগ তুলছেন বাবুল আকতারের ছোট ভাই এ্যাডভাকেট হাবিবুর রহমান।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় মাগুরা জেলা সমাজসবা কার্যালয়ে হাজির হয় মিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ওমর ফারুক। শিশুদের দীর্ঘ তিন ঘন্টা ধরে জবানবন্দী গ্রহন করেন।

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের দুই শিশু সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৩ জুন ২০২১ তারিখ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্রুনাল নম্বর ০৭, শিশু আদালত চট্রগ্রাম এর জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আরা বাবুল আক্তারর দুই শিশু সন্তানদের মাগুরা জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে এসে শিশু আইন মেনে জবানবদী গ্রহনের নির্দেশ দেন। এক বছর আগে আদালতর নির্দেশনা থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা না এসে শিশুদের চট্রগ্রামে হাজির করার উদ্দশ্যে ষড়যন্ত্র করতে থাকে । যা পরবর্তীতে শিশুদের চাচা এ্যাডভাকেট হাবিবুর রহমান মহামান্য হাইকোর্টে রিভিশন করেন। মহামান্য হাইকোর্ট ৮ জুন ২০২২ তারিখ আবারও তদন্ত কর্মকর্তাকে বাবুল আক্তারের শিশু পুত্র ও কন্যাকে মাগুরা জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে এসে জবানবন্দী গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন বলে শিশুদের চাচা এ্যাডভাকেট হাবিবুর রহমান দাবি করেন।

বাবুল আক্তারের পিতা অবসরপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ পরির্দশক আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া জানান, শিশু বাচ্চাদের বিরতিহীন ভাবে ৩ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে ওয়াসরুমে যাওয়ার কথা বলে বাইরে চলে আসে। এবং ১০ মিনিট পর মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রুমে প্রবেশ করে আবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। মহামান্য হাইকোর্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা, একজন মহিলা পুলিশ অফিসার, মাগুরা সমাজ সেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা ও শিশু দুইটির দাদাকে থাকার নির্দেশনা দিয়ছিলেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা সেখানে অতিরিক্তি পুলিশ সদস্য চট্টগ্রাম পিবিআই’র এএসআই রাজিবকে সাথে রাখেন। এছাড়াও মেজবাহ নামে পিবিআই চট্টগ্রামর এক জন পরিদর্শক সকাল সাড়ে ৯ টায় সমাজ সেবা কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে বাচ্চাদের সাথে আসা চাচী ফুফিদর সাথে অসজন্যমুলক আচরন করেন। এ ব্যাপারে প্রবেশন কর্মকর্তাক লিখিত অভিযাগ জানানা হয়ছে।

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারর ছোট ভাই এ্যাডভাকেট হাবিবুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ ছিল ভয় ভীতিহীন পরিবেশে বাচ্চাদের জবানবন্দী গ্রহন করতে হবে। জবানবন্দী গ্রহণকালে তদন্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টের আদেশের বাইরে অতিরিক্ত একজন লোক নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। জবানবন্দী গ্রহণকালীন সময় তদন্ত কর্মকর্তা কক্ষের বাইরে এসে উর্দ্ধতন একজনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতে সমাজসেবা কার্যালয়ের ছাদে চলে যান। এছাড়া ঝিনাইদাহ থেকে পিবিআই’র একটি টীম সকাল এসে সমাজ সবা কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এর মাধ্যমে শিশু বাচ্চারা মানসিকভাবে চাপ পড়ে। তিনি বলেন, এটি আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট লংঘন। এ ব্যাপারে আমরা মহামান্য আদালতকে অবহিত করবো।

তিনি আরাও জানান, বাবুল আক্তার এর শিশু সন্তান মাহমুদ মাহিররের এর আগেও জবানবন্দী গ্রহন করছিল সিএমপি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান। এই তদন্ত কর্মকর্তা মিতুর বাবা মোশারফ হোসন, শাহিদা মোশারফ, শায়লা মোশারফ, কাজের মেয়ে ফাতমা বেগম ,বাপ্পি মনোয়ারা ও সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সাত্তার এর জবানবন্দী গ্রহন করন। এ্যাডভাকট হাবিবুর রহমান বলেন, এখন নতুন করে আবার তাদের জবানবন্দী গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উদ্দশ্য প্রণাদিত ভাবে বাবুল আক্তারকে ফাঁসানার জন্য এটি করছে। এ ছাড়া তিনি আরা বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে আমরা দেখছি এহতেশামুল হক ভোলা নামের একজনকে ক্রসফায়ারর ভয় দেখিয়ে বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়ছে। এতে প্রমান হয় বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযাগ সম্পূর্ণ সাজানা এবং বানায়াট। ঊর্ধ্বতন

পিবিআই কর্মকর্তার নির্দেশে বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে এ সব করা হচ্ছে। গত দেড় বছর যাবৎ অন্যায়ভাব তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়ছে। তার বিরুদ্ধ এখনও পর্যন্ত কোন অভিযাগ আনতে পার নি। আমরা বাবুলের মুক্তি দাবী করছি এবং সমপূর্ণ নতুন ভাবে তদন্ত করে ঘটনার সাথ জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি। এই মামলার মুল পরিকল্পনাকারী কামরুল শিকদার মুছা কে পুলিশ গ্রেফতার না করে আড়াল করে রেখেছে। আমরা সরকারর কাছে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী জানাচ্ছি।

মিতু হত্যা মামলার পিবিআই এর তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ওমর ফারুক জানান, মাহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে আমার মাগুরা জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে এসেছি ।মিতু হত্যা মামলায় তার শিশু সন্তানদের স্বাক্ষ্য গ্রহনর জন্য। আমাদের যতটুকু প্রোয়াজন আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আক্তার মাহমুদ মাহিরর এর আগেও জবানবন্দী গ্রহন করেছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থ একাধিকবার স্বাক্ষ্য গ্রহন করতে পারি।

উল্লখ্য, ৫জুন ২০১৬ তারিখ শিশু সন্তানকে বাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে নির্মম ভাবে খুন হয় মাহমুদা খানম মিতু। ঐ সময় আক্তার মাহমুদ মাহিরর বয়স ছিল ৬ বছর এবং কন্যা তাবাছুমের বয়স ছিল ৪ বছর।

এস রিমন/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category