ভুল অপারেশনে দুই রোগীর মৃত্যু ; দুই হাসপাতাল সিলগালা

আশরাফুল ইসলাম, (বড়াইগ্রাম, নাটোর): নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস মোড়ের কলাহাটা এলাকায় এবং রাজাপুর বাজারের সৌরভ হাসপাতালে ভুল অপারেশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার দুপুর ও সন্ধায় ইউএনও আনোয়ার পারভেজ উপস্থিত থেকে ওই দুটি হাসপাতাল সিলগালা করান।

বনপাড়ায় ভুল অপারেশনের ফলে মৃত্যুরোগী সুমাইয়া খাতুন (১৫) উপজেলার তালশো গ্রামের রাহাবুল ইসলামের মেয়ে বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। অপরটি ঈশ্বরদী থানার মুলাডুলি গ্রামের নীলা খাতুন (২২)।

বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নজমুল হক সুমাইয়ার পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, শনিবার বিকেলে পেটের ব্যাথা নিয়ে সুমাইয়াকে বনপাড়া হেলথ কেয়ার হাসতপালে ভর্তি করে। রাত সাড়ে আটটার দিকে তার অস্ত্রপচার করা হয়। পরে রোগীতে বেডে দিলে তার বুকে ব্যাথা শুরু হয়। রোববার ভোররাতে তাকে তাকে এক নার্স ব্যাথা নাশক একটি ইনজাকশন পুশ করলে সে ঘুমিয়ে পরে। সকাল আটটার দিকে অস্ত্রপচারকারী ডা. সামিয়াতাবাচ্ছুম আক্তার সাথী ও এক নার্স আরিফা খাতুন এসে রোগির প্রেসার মেপে চলে যায়। তারা রোগী মৃত্যুর কথা না বলে হাসপাতাল থেকে গা ঢাকা দেয়। পরে রোগির লোকেরা ১০টার দিকে জানতে পারে সুমাইয়া মারা গেছেন। খবর পেয়ে ইউএনও আনোয়ার পারভেজ, বড়াইগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ খালেদ মাহমুদ সিদ্দিকী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে রোগির কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে জানা যায়, ডা. সাথী সার্জন না হয়েও অপারেশন করেছেন। হাসপাতালে সার্জন ও এনেসথেসিয়া ছাড়া অপারেশন করায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ইউএনও আনোয়ার পারভেজ জানান, অপারেশনের আগে রুগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাব ছিল। তিনি আরো বলেন, তিনটি ক্যাবিন ও ১৪টি বেডবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাব, যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল নাই। হাসপাতালটি ২০১৬ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ছিল কিন্তু পর থেক আর নবায়ন করা হয়নি। সার্বিক বিবেচনায় হাসপাতালটি বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। অপরদিকে রাজপুর সৌরভ হাসপাতাল নামে অপর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে এ্যাপেনডিসাইটের রুগী নীলার ভূল চিকিৎস্য়া মারা যাওয়ার অভিযোগে রুগীর লোকজন ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল, জানালা ও কাঁচ ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে সেটারও কাগপত্র পরীক্ষান্তেত্রুটি থাকায় সিলগালা করে দেয়া হয়।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নিহত সুমাইয়ার মা মোমেনা বেগম বাদী হয়ে হাসপাতালের পরিচালক সুজন মাহমুদসহ ৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে রাজাপুরের ঘটনায় এখনো কেই মামলা করতে আসে নাই। দুটি লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category