বুলুবুল’ এর ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে সকালে ঝড়ের কবলে উপকূলবাসী

তানজীম আহমেদ,(বাগেরহাট): ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আতংকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়াসহ উপকূলের লাখ লাখ মানুষের নির্ঘুম রাত কেটেছে। কখন জানি প্রবল ঝড় আছড়ে পড়ে লোকালয়ে। এই আতংকে রাতভর জেগে ছিলেন তারা। কিন্তু ঝড় আসেনি রাতে, রবিবার সকাল ১০ টার পরে উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

রবিবার দুপুরে ভৈরব নদীর তীরে, পানিগুছি নদীর তীরে, বিভিন্ন এলাকায় হাটতে দেখা যায় আতংকগ্রস্ত মানুষদের। কথা হয় তাদের সাথে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার সাদেক মোল্লা জানান, বুলবুল এর ভয়ে রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকি। রাতে থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হচ্ছিলো, যখন ভেবেছি ঝড় হবেনা তখনই শুরু হয়ে যায় ঝড়।

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মমিন মল্লিক জানান, রাতে এক মূহুর্তের জন্যও চোখের পাত্তা এক করিনি, কখন কি ঘটে যায়, রাতে কিছু ঘটেনি তবে সকালে ঝড় শুরু হলে আতংকিত হয়ে পড়ি।গৃহবধু রোজিনা আক্তার বলেন, মশায় হারা রাইত কামড়াইছে, মশা মারুম না ঘুমায়াম।শরণখোলায় নিজ বাড়িতে থাকা আশরাফ সিদ্দিকী জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে যাইনি, বাড়িতেই ছিলাম। কারণ ঝড় হোক বা বন্যা। চোর-বাটপারের তো ঠিক নেই।

সদর উপজেলার কাড়াপাড়া গ্রামের জোহর আলী জানান, সকালের ঝড়ে আমার একমাত্র সহায় বাড়িটি গাছ পড়ে ধসে গেছে।ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর আঘাতে ভেংগে পড়েছে অসংখ্যা গাছপালা, বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু সড়কের যান চলাচল। কিছু কিছু এলাকায় গাছ পড়ে ও ঝড়ে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ জানান, জেলা জুড়ে অসংখ্যা ঘর-বাড়ি ধসে গেছে, ঘের-বাড়ি তলিয়ে গেছে। সঠিক সংখ্যা জানতে আমরা চেষ্টা করছি, জানার সাথে সাথে আমরা জানিয়ে দিবো।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category