বিশ্বের যে প্রান্ত থেকে আজান শুরু হয়

বিশ্বের যে প্রান্ত থেকে আজান শুরু হয়

কালের সংবাদ ডেস্ক: অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে- পৃথিবীজুড়ে মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয় না আজানের ধ্বনি। ভৌগলিক অবস্থান থেকে বিচার করলে ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু হয় আজানের ধ্বনি। আর তা শেষ হয় পৃথিবীর শেষ প্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকায়। সময়ের তালে তালে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে নামাজের জন্য এ  আহ্বান- ‘আজান’। এটি ইসলামের প্রথম ও প্রধান ইবাদত নামাজের জন্য আহ্বান।

মুমিন মুসলমানের উপর প্রতিদিন নির্ধারিত ৫ সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। এ নামাজের জন্য মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে নির্ধারিত সময়ে উচ্চারিত হয় সুমধুর আজানের ধ্বনি। দেশব্যাপী সময়ের ব্যবধানে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে এ আজান। ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী পাপুয়া নিউগিনি ও ইন্দোনেশিয়ায় যখন ফজরের সময় হয় তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ধ্যা নামে। যেখানে সময়ের ব্যবধান প্রায় ৯ ঘণ্টা।

ভৌগলিক অবস্থান ও সময়ের ব্যবধানের কারণে পৃথিবীজুড়ে কোথাও মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকে না আজানের ধ্বনি। ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউগিনি থেকে ফজরের আজান শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে যেসব দেশ অতিক্রম করে অব্যাহতভাবে ফজরের আজানের ধ্বনি চলতে চলতে তা আমেরিকায় গিয়ে শেষ হয়। সেসব দেশগুলো হলো-

– ইন্দোনেশিয়া, পিলিপাইন, কোরিয়া, জাপান

– সুমাত্রা, চায়না, মঙ্গলিয়া, রাশিয়া

– মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মায়ানমার

– বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা

– ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান

– তুর্কমিনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখাস্তান

– ওমান, ইরান

– সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ইয়েমেন, ইরাক, সোমালিয়া, মোজাম্বিক, আজারবাইজান, তুরস্ক

– জর্দান, সিরিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইসরাইল

– মিসর, সুদান, উগান্ডা, রোমানিয়া, ইউক্রেন, কঙ্গো

– লিবিয়িা, চাঁদ, বুলগেরিয়া, গ্রীস, সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, কোস্টারিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন

– নাইজার, নাইজেরিয়া, ইতালি, তিউনেশিয়া

– আলজেরিয়া, ফ্রান্স, বুর্কিনাফাসো, মালি, ঘানা, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড

– মরক্কো, স্পেন, পুর্তগাল, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া

– ব্রাজিল, প্যারগুয়ে, ভেনিজুয়েলা, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি, কলম্বিয়া, পেরু, ইকুয়েডোর

– নিকারাগুয়া, গুয়েতেমালা, ম্যাক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকা।

এভাবেই এক দেশের পর আরেক দেশে ফজর থেকে জোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা হয়ে আবার ফজরের আজান শুরু হয়। পৃথিবীজুড়ে বিরামহীনভাবে চলতে থাকে এ আজানের ধ্বনি।

সাধারণত বাংলাদেশের একটি জেলা থেকে অন্য জেলায় মৌসুমভেদে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ৩ থেকে ৫-৭ ও ১১ মিনিট পর্যন্ত আজানের সময়ের ব্যবধান হয়ে থাকে। এভাবেই এক দেশ থেকে আরেক দেশ, মহাদেশ চলতে থাকে আজানের ধ্বনি। যা মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয় না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকায় যখন ফজরের আজান শুরু বা শেষ হয়, তখন ইন্দোনেশিয়া জোহরের আজান শুরু হয়। এভাবেই সময়ের ব্যবধানে চলতে থাকে আজান। আল্লাহু আকবার! আল্লাহ মহান! যিনি পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্তেই তার বড়ত্ব ও মানুষের কল্যাণের ঘোষণা অব্যাহত রেখেছেন। যা চলবে কেয়ামত পর্যন্ত। আর এতেই প্রমাণিত হয় যে, ইসলামই সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন ব্যবস্থা।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category