বিশ্বক্রয়

কাব্যগন্থঃ বাঁশিওয়ালা 
এ কে সরকার শাওন, ঢাকা।
 যৌবনে প্রিয়ার মন কাড়িবার তরে
আমি বাঁশিওয়ালা হতে চেয়ে;
বাড়ীর কোনে কোনে বাবার সেই
বাঁশীটি খুঁজেছিলাম হন্যে হয়ে!
 
নিস্ফল খোঁজা খুঁজি! 
দু’চোখে নামলো জলের ঢল!
কোন চামার চণ্ডাল চুরি করে নিল,
বাবার-আমার  প্রিয় শখের সম্বল!
 
বাবার বানানো সেই প্রিয় বাঁশি
চুরি হয়ে গেল নিজ অংগনে; 
চার দশক অভিশাপ আসে মনে,
দংশিত হই কল্পিত সাপের দংশনে!
 
একাত্তরে বাবা ফেলেছিলেন ছুড়ে
পাসপোর্ট ছবি সব সুগন্ধার জলে!
বাসা বাড়ী হারিয়েও তিনি সেই বাঁশিটি 
ভালবেসে আগলে ছিলেন  বগলে!
 
বাঁশিটি পাকিদের হাতে রক্ষা পেলেও
রক্ষা পায়নি স্বজনদের হাতে!
সে কথাতো প্রমাণিত সত্য
মধ্য আগষ্টের  কাল রাতে!
 
শত উপকারী  লিয়াকত ভাই
কার না কাজে লেগেছে?
সবাই তাকে ব্যবহার করে
কত না ফায়দা লুটেছে!
 
সেই ভালমানুষ টি আজ নেই
চলে গেছেন পরপারে!
স্বার্থপর মানুষ কেউ নয় আপন
তিনি জেনে গেছেন হাড়ে হাড়ে!
 
সেই লিয়াকত ভাই বললো মমতায়,
“চল, তোরে বাঁশি কিনে দেই!
ভোলাচংয়ের মেলা আছে খোলা 
চোখ মোছ, ছেলেদের কাদঁতে নেই!”
 
ভোলাচং গেলাম দুই মাইল হেটে
মোটে সাত টাকা ছিল পকেটে,
পথে দুই ভিক্ষুক নিয়ে নিল আধা  টাকা, 
টংয়ে  চা-সিংগারায় দুই টাকা গেল কেটে!
 
দোকানী বাঁশির দাম হাঁকে পাঁচ টাকা,
সাড়ে চার আছে; আধা টাকা পাবো কোথায়?
পাঁচ পকেট খুঁজে ভাই দিলেন আধা টাকা,
বাশীঁ নয় বিশ্ব কিনে ফিরলাম আপন গায়!
 
এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category