Saturday, May 28th, 2022




বিএনপি ভোটে যাবে কি না, জানতে চায় বিদেশিরা

বিএনপি ভোটে যাবে কি না, জানতে চায় বিদেশিরা

কালের সংবাদ ডেস্কঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না, তা জানতে দেশের মানুষের যেমন আগ্রহ আছে; তেমনি কৌতূহলী বিদেশিরাও। বিএনপি ২০১৪ সালে ভোট বর্জন করেছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেয়। আসছে নির্বাচন নিয়ে দলটির অবস্থান কী—তা জানার আগ্রহ দেখাচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরাও।

সম্প্রতি বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অন্তত তিনটি দেশের রাষ্ট্রদূত, গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকরা ঘুরেফিরে এ প্রশ্নটির উত্তর খুঁজেছেন।

সম্প্রতি দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিএনপিসহ সব দলকে নিয়ে নির্বাচন করা হবে জানিয়ে সংগঠনকে প্রস্তুত করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন। তাঁর ওই বক্তব্যের আগে-পরে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা বৈঠক করেন। বিএনপি বরাবরের মতো তাঁদের বলেছে, নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না তারা।

গত ১৭ মার্চ গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্রোস্টার। ২৪ এপ্রিল বৈঠক করেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তফা ওসমান তুরান। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, দুই রাষ্ট্রদূতই বিএনপির কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে কি না বা এ নিয়ে দলের ভাবনা কী? জবাবে বিএনপি তাঁদের আগের অবস্থান তুলে ধরে।

ঈদের আগে বিএনপির দায়িত্বশীল এক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে প্রভাবশালী দুটি দেশের দুই কূটনীতিক। এরপর পশ্চিমা প্রভাবশালী এক দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তির সঙ্গেও বিএনপির ওই নেতার দীর্ঘ বৈঠক হয়। তিনটি বৈঠকেরই আলোচনাজুড়ে ছিল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এতে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না, সেই প্রসঙ্গ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেন, সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী একটি দেশের এক কূটনীতিকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাতে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না তা জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার এবং জামায়াতের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্ত কী, তা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন ওই কূটনীতিক।

ওই বিএনপি নেতা বলেন, জবাবে তিনি বলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে তাঁরা যাবেন না। যে নামেই হোক নির্বাচনকালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। তিনি এ-ও জানান, জামায়াতকে তাঁরা আন্দোলনে চান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগও জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। তবে জামায়াত নির্বাচনী জোটে থাকবে কি না, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বিএনপি নেতা আরো জানান, নির্বাচনের আগে তাঁরা জাতীয় সরকার চান না। বিএনপি নির্বাচন চায়। নির্বাচনের পর সব দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করার চিন্তা আছে তাদের। জবাবে ওই কূটনীতিক সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে ওই নেতা নির্বাচন নিয়ে তাঁর দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী দেশটি কী করতে পারে, এমন পরামর্শও চাওয়া হয় ওই নেতার কাছে। বিএনপি বলেছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তাঁদের সর্বোচ্চ নজর দেওয়া উচিত। জবাবে ওই কূটনীতিক বলেছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা করা দরকার তা-ই তাঁরা করবেন। এ বিষয়ে তাঁরা  সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন, আরো কথা বলবেন।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সব দেশের কূটনীতিকরাই বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছেন। বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন করবে—তাঁরা এমন মনোভাবই দেখিয়েছেন। এটা আগামী নির্বাচন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক।

বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব রাখছে এ অঞ্চলের এমন একটি দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতার বৈঠকে বলেছেন, তাঁরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তিনি বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে তাঁদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গেও তাঁরা ভালো সম্পর্ক রাখতে চান। সরকারের সঙ্গে তাঁরা ভালোভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চান। যে দলই সরকারে আসুক, তাঁর দেশ তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে কাজ করবে বলে জানান ওই কূটনীতিক।

তবে কোয়াড প্রসঙ্গে চীনা কূটনীতিক বলেন, এটি চীনবিরোধী জোট। এই জোটে কেউ গেলে তাদের সঙ্গে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সৃষ্টি হবে। চীনের কোনো বন্ধুরাষ্ট্র কোয়াডে যাক, তা তাঁরা চান না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পশ্চিমা রাষ্ট্রসহ অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থা—সবাই বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। তারা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ চায়। সবাই নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে কৌতূহলী। সরকারকে এসব বিষয় অনুধাবন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।

একে  আরিফ/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category