বাফুফের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে লাওস : বাংলাদেশ-লাওস যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

খেলার খবর: শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল থেমে থেমে বৃষ্টি। ঝড়ের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলো প্লাবিত হওয়ার খবর আসতে শুরু করে তখন থেকেই। তারপরও ফণির শঙ্কা নিয়েই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রস্তুত ছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ইন্টারন্যাশনাল গোল্ডকাপের ফাইনাল আয়োজনের জন্য।

বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শক। শিরোপা লড়াইয়ের জন্য শেষ মুহূর্তের ওয়ার্মআপও সেরে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ এবং লাওসের ফুটবলাররা। সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে প্রেস বক্সে শুরু হয় কানাঘুষা। ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা আসবে অচিরেই। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই গুঞ্জন সত্যি হলো। লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী দু’দলের ম্যানেজার এবং আসরের কমার্শিয়াল রাইটস হোল্ডার কে-স্পোর্টসের শীর্ষ কর্তাকে নিয়ে প্রেস বক্সে উপস্থিত হয়ে ম্যাচটি বাতিল এবং দু’দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন। মাঠে বল গড়ানোর আগেই এমন সিদ্ধান্তে উপস্থিত দর্শকরা গ্যালারি ছেড়ে গেলেন ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে।

ফাইনাল হলে কে জিততো? বাংলাদেশ নাকি লাওস? এর উত্তর দেয়া কঠিন। কারণ লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল। ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লাওসের কোচ কাওয়ামতো নাওকো বলেছিলেন, দুই দলের সম্ভাবনাই সমান। তবে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন নিজেদের এগিয়ে রেখেছিলেন ফাইনালে।

বঙ্গমাতার নামে ঘরের মাঠের প্রথম এই টুর্নামেন্টের ট্রফিটা জিততে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ-খেলোয়াড়রা। কিন্তু শেষটা ভালো হলো না-ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বাংলাদেশকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়ে।

লাওসের সামনেও ছিল ইতিহাসের হাতছানি। এ দেশটি যে কোনো পর্যায়ের নারী ফুটবলে প্রথম ফাইনালে উঠেছিল। তাদেরও ট্রফিটা এককভাবে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল।

বাফুফের ফাইনাল বাতিলের সিদ্ধান্তকে কিভাবে দেখছেন লাওস দলের কর্মকর্তারা? শুক্রবার দুই দলের ম্যানেজারকে পাশে বসিয়েই ফাইনাল বাতিল ও দুই যুগ্ম চ্যাম্পিয়শিপের ঘোষণা দিয়েছেন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ খেলার উপযুক্ত ছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে লাওস দলের ম্যানেজার গালদানসুক বলেছেন, ‘মাঠের যে অবস্থা ছিল, তাতে খেলা যেতো। কিন্তু সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাফুফের নেয়া সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান জানিয়েছি।’

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category