বাংলাদেশে বাণিজ্য-যোগাযোগ বাড়াতে ইচ্ছুক ভারতের ৭ অঙ্গরাজ্য

কালের সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে এখন সুবর্ণ সময় চলছে বলে মনে করছে ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত অঙ্গরাজ্যগুলো। প্রতিবেশী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদেরও এগিয়ে নিতে চান বলে জানান আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দা সনুয়াল। এক্ষেত্রে এনআরসি ইস্যু নিয়ে ভারত সরকারের নীতিতে ভুল আছে বলে মনে করছেন স্থানীয় আন্দোলনকারীরা।ভারতের সঙ্গে যতটা না তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে। রয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি আর মুক্তিযুদ্ধের সময় হৃদতার এক গভীর সম্পর্ক।

তাই ভারতের সাতটি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচলের সঙ্গে নানা সময়ে নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। তবে কেন্দ্রের বাণিজ্য নীতির কারণে অনেক জটিলতাই রয়ে গেছে অমীমাংসিত। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অগ্রসরমান অর্থনীতির কারণে প্রতিবেশী ভারতের রাজ্যগুলো উল্টো আগ্রহী সম্পর্ক বাড়াতে। প্রথমবারের মতো আসামে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সে প্রস্তাবই দিয়েছে রাজ্য কর্তারা।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ত্রিপুরাকে উন্নয়ন করতে হলে বাংলাদেশ ছাড়া উপায় নেই। কারণ লাগোয়া সীমান্ত।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দা সনুয়াল বলেন, এটাকে একটা শুভ সূচনা বলতে পারেন। দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্পর্ক রয়েছে, আমরা বাংলাদেশের মাধ্যমে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় দেশগুলোতে বিশেষ করে বিবিআইএনভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য বাড়াতে চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের সাচেয়ে বিশি অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন এ ব্যাপারে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কা ছড়াচ্ছে আসামের নাগরিকপঞ্জীতে ১৯ লাখ মানুষের বাদ পড়া। আসামের জাতীয়তাবাদ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতে নেতারা মনে করছেন, এনআরসি ইস্যুতে নিজেদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে ভারতকে।ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া বলেন, চলমান এনআরসি মুভমেন্ট কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হয়নি। এখানে সরকারের কিছু ভূমিকা রাখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। বর্তমান যে বিজেপি সরকার, এটা কিন্তু তাদের ভুল নীতি। ভারত সরকার তাদের কূটনৈতিক নীতি বা বৈদিশিক নীতি একটু বাংলাদেশের ওপর পরিবর্তন করা উচিত বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে বিনিয়োগ করলে তাদের ১৫ শতভাগ ভুর্তকি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে রাজ্যসরকার।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category