Wednesday, January 27th, 2021




বদলগাছীতে লালুকাবাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্পের খুলে পরছে দরজা জানালা পালিয়ে যাচ্ছে বসবাস কারীরা

বদলগাছীতে লালুকাবাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্পের খুলে পরছে দরজা জানালা পালিয়ে যাচ্ছে বসবাস কারীরা

এমদাদুল হক দুলু,(বদলগাছী, নওগাঁ): নওগাঁর বদলগাছী ছোট যমুনা নদীর পাশে লালুকাবাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণের দু’বছর অতিবাহিত না হতেই খুলে পড়ছে ঘরের টিন, জানালা, দরজা। আশ্রয়নে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যহত হওয়ার কারণে ঘর বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে গেছে অনেক পরিবার। যেকটি পরিবার বসবাস করছে তারাও অনেক ঝুকি নিয়ে বসবাস করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানাযায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে লালুকাবাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্পের মাটি কাটা হয় এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়।

সরজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, লালুকাবাড়ী আশ্রয়ন প্রকল্পের ৪৮ টি ঘর রয়েছে। প্রকল্পটি নদীর ভিতর হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে প্রকল্পের ঘরে ঘরে নদীর পানি ওঠে। এছাড়া ২/৩ টি ঘর শুধু খারা হয়ে রয়েছে কিন্তু ঘরের নিচে মাটি নেই। খুটির উপর টিনের ঘর দাড়িয়ে আছে। পাশে টয়লেটের ঘেড়া টিন খুলে পড়ে আছে। ৪৮ টি ঘরের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারের টয়লেট নেই খুলে পড়ে আছে। টিউবওয়েল গুলি বিকল হয়ে পড়ে আছে।

আশ্রয়নে বসবাসরত আবু বক্কর, আঃ মতিন, আঃ মান্নান, আতোয়ার হোসেন, রোজিনা বেগম বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে খুটির ওপর টিনের বেড়া টিনের ছাউনি দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিলেও ঘরের নিচে মাটি ছিল না। আমরা নিজেরা মাটি কেটে ঘরের মেঝে তৈরি করে এখানে বসবাস করছি। গত বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ওঠে প্রকল্পের মাটি বালি ধসে পড়ে পশ্চিম দিকের ঘরগুলি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় অধিকাংশ পরিবার পালিয়ে যায় ঘর ছেড়ে। টয়লেটের টিনের ছাউনি খুলে পড়েছে। যেমনতেমন ভাবে ঘরগুলি নির্মাণ করায় চতুরদিক দিয়ে বাতাশ আসে ঘরে। রাতে শীতে ঘুম আসে না।

তারা আরো জানায়, এমন অরক্ষিত যায়গা এখানে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ঘরের ভিতর নিয়ে একই সাথে থাকতে হয়। আলোর ব্যবস্থা নেই, মসজিদ নেই, স্কুল নেই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা কিভাবে শিক্ষা নিবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা আশ্রায়ন প্রকল্পের সকল ঘরগুলি পূর্ণনির্মাণ না করলে দু’এক বছরের মধ্যে সকল ঘরের ছাউনি ঘেরা এমনিতেই খুলে পড়বে। এখানে বসবাস করার আর কোন পরিবেশ থাকবে না।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ আবু তাহির-এর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ঘরগুলি নির্মাণ হয়েছে আমি এই উপজেলায় আসার আগে তবে আমি সমস্যাগুলি দেখেছি। উপর মহলে যোগাযোগ করে ঘরগুলি সংষ্কার, মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সুবিধা, স্কুল, মসজিদ নির্মাণসহ তাদেরকে আশে পাশের খাসজমি দেওয়া হবে চাষের জন্য। দেওয়া হবে কৃষি প্রমোদনা। শিঘ্রই দেওয়া হবে সকল পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার।

একে  খন্দকার/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category