প্রমাণ করবো এতো বড় বাজেটও বাস্তবায়ন সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

কালের সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবে। কারণ মানুষই আমাদের প্রাণশক্তি। তিনি বলেন, আমরা প্রমাণ করবো, এত বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দেয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমাদের শিকড় হলো কৃষি। আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষিখাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেখান থেকে এখনো আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই কৃষিখাতই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক মৌলিক এলাকা।

তিনি বলেন, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্য জোগান দিতে পারব, ইনশাল্লাহ। আমাদের কঠোর পরিশ্রমের আত্মপ্রত্যয়ী কৃষক ভাইদের কারণে অতিসম্প্রতি ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনে আমাদের অবস্থান করে নিয়েছি। গত ৫০ বছরে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ। যা বিশ্বে একটি রেকর্ড।

‘করোনার কারণে যারা কাজ হারিয়েছে- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতী, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ সব পেশার মানুষ। পান দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র কুটির এবং ছোটবড় সব ব্যবসায়ী, সব শ্রেণির, নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্যই এবারের বাজেট। এদেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত আমাদের বাজেট ঘাটতিও।’

মন্ত্রী বলেন, সত্য যে বড় কঠিন। তাই সব জেনেশুনে আমরা কঠিনকে ভালোবেসেছি। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এবারের বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ এটি আকারে অনেক বড়। কিন্তু আমরা এই বাজেটটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

এ প্রসঙ্গে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরের প্রত্যেকটি বাজেটে আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তার চাইতে প্রকৃত অর্জন আরো অনেক বেশি ছিলো। বিগত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ। যা বিশ্বের সবার ওপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিলো চায়না (চীন) ১৭৭ শতাংশ নিয়ে। আর ভারত ছিলো ১১৭ শতাংশে। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে তিনগুণ।

তিনি বলেন, বাজেট উপস্থাপনের সাতদিন পরেই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরেকটি গবেষণা করে। সেখানে তারা দেখিয়েছেন, এ বছর বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আমাদের প্রক্ষেপণ হলো ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আমাদের কাছাকাছি তাদের প্রক্ষেপণ। সুতরাং, আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সক্ষম হবো আমাদের এই বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে।

মন্ত্রী বলেন, বারবার একটিমাত্র কথা উঠে আসে, আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপির অনুপাত একদম কম, অনেক কম ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ পার্সেন্টের নিচে না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি ১৪ ভাগে উঠতে পারি, মাত্র চারভাগ, তাহলে আমাদের বছরে আমরা অর্জন করতে পারি আরো এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরো বেশি করতে পারলে তো আরো বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য কী কাজ দরকার? একটিমাত্র কাজ-সেটি হচ্ছে আমাদের অটোমেশন।

তিনি আরো বলেন, আমরা গতবছর (অটোমেশন) শুরু করেছিলাম, শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এই করোনার জন্য শেষ হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, যতদ্রুত সম্ভব এই বছর এটা আমরা বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ। এটা করে আমরা প্রমাণ করবো, এতো বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category