41584652544

প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘ ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ

কালের সংবাদ ডেস্ক: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ এবং এ ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ-প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেছেন।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘ ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হলো:-

১। এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

২। করোনাভাইরাস বিস্তারের প্রেক্ষাপটে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান টিভিতে সম্প্রচার করেছি। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। জনসমাগম হয়— এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাই।

৩। সংকটে ধৈর্য ধরুন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ আমাদের মেনে চলতে হবে। আমাদের যত দূর সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।

৪। মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন এবং অন্যান্য ধর্মের ভাইবোনদেরও ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

৫। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।

৬। মঙ্গলবার পর্যন্ত কোভিড পরীক্ষার জন্য ১৩ হাজার কীট মজুত ছিল। আরো ৩০ হাজার কীট শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে। ঢাকায় আটটি পরীক্ষাযন্ত্র আছে।

৭। কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৮। সরকারি গুদামগুলোতে ১৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত আছে।

৯। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ তহবিলের অর্থ দিয়ে কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।

১০। মোবাইলে ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

১১। নিম্ন আয়ের মানুষের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা দেয়া হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেয়া হবে।

১২। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

১৩। প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুটি সমুদ্রবন্দর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনসহ সব স্থলবন্দরের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮১ জন যাত্রীর স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

১৪। ঢাকায় ১০ হাজার ৫০টিসহ সারাদেশে ১৪ হাজার ৫৬৫টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সারাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য ২৯০টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে ১৬ হাজার ৭৪১ জনকে সেবা দেয়া যাবে।

১৫। মাত্র ১৪ দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়া–প্রতিবেশী, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category