পাবনা-৩ এলাকার আলোচনায় আওয়ামী লীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী বায়েজিদ দৌলা বিপু

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ৭০ পাবনা-৩ (চাটমহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) এলাকায় স্থানীয় সচেতন মহলের আলোচনায় স্থান করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী বায়েজিদ  দৌলা বিপু , ১৯৫৪ সালের আওয়ামী লীগ দলীয় যুক্তফ্রন্টের এমএলএ প্রয়াত আবু মুহম্মদ ইউনুস আলীর কনিষ্ঠ পুত্র সময়ের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক মোহাম্মদ বায়েজিদ দৌলা বিপু। আওয়ামী রাজনীতির শক্তিশালী পারিবারিক পটভূমি, যোগ্যতা, সততা ও নিষ্ঠা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষিত মেধাবী ও প্রগতিশীল রাজনীতিক বায়েজিদ দৌলা ক্রমশঃ সর্বস্তরের জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।

বায়েজিদ দৌলা একজন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মী, রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ববিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট, শিক্ষাবিদ,  লেখক ও সাংবাদিক। উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, সামাজিক ও  নীতি গবেষণা, প্রকল্পমূল্যায়ন, সাংবাদিকতা, যোগাযোগ, পলিসি অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন, নেটওয়ার্কিং ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন

মানব মর্যাদা ও অধিকার, জেন্ডার, জনবান্ধব সুশাসন, জীবিকায়ন ও দারিদ্র্যবিমোচন, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন,

দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস, এবংপানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) বিষয়ে তাঁর রয়েছে দীর্ঘ মাঠ ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা ও গবেষণা দক্ষতা।

ভাঙ্গুড়ার কৃতি সন্তান হিসেবে সুপরিচিত বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক বায়েজিদ দৌলা বিপু ১৯৬৩ সালের ০৭ মার্চ এক উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত আবু মুহম্মদ ইউনুস আলী ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, কোলকাতায় বেকার হোস্টেলের রুমমেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর।

আবু মুহম্মদ ইউনুস আলী ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে  পাবনার আটঘরিয়া-চাটমহর-ফরিদপুর এলাকার আইন পরিষদ সদস্য (এম.এল.এ.) নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন অত্র এলাকায় আওয়ামীলীগ দলীয় রাজনীতির উদ্যোক্তা , প্রধান নেতা, ও জনপ্রিয় ১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিক, ছয় দফা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী, এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আহত মুক্তিযোদ্ধা।

উল্লেখ্য, আবু মুহম্মদ ইউনুস আলী ১৯৭১ সালে বৃহত্তর পাবনা জেলার শাহজাদপুর, বাঘাবাড়ি, নগরবাড়ি ও চলনবিলের নিভৃত এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এবং যুদ্ধে আহত হন। এক পর্যায়ে রাজাকার-আলবদর বাহিনীর সদস্যরা অমানুষিক নির্যাতন করে তাঁকে পঙ্গু করে দেয়, এবং এমনকি তারা ভাঙ্গুড়ার সারুটিয়ায় অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বসতবাড়িও ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সরকারি তত্ত্ববধায়নে সার্জারি চিকিৎসার পর তিনি সীমিত চলৎশক্তি ফিরে পান। ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গুড়ায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন “জনগণের এমএলএ ইউনুস”।

আওয়ামী লীগের প্রয়াত জননেতা ও ত্যাগী রাজনীতিক পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরী বায়েজিদ দৌলা বিপুর পাঠ শুরু ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৭৬ সালে জুনিয়র বৃত্তিলাভের পর তিনি পাবনা জিলা স্কুলে মাধ্যমিক ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৩-৮৪ শিক্ষাবর্ষে মেধাতালিকায় প্রথম হয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তিনি ইংরেজি বিভাগের বি.এ. অনার্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন, এবং এম.এ. পরীক্ষায় উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন, এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিপার্টমেন্ট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস’ হতে ফরাসি (ফ্রেঞ্চ) ভাষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরবর্তীতে, ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগে অধ্যয়ন করেন, এবং অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ‘‘মাস্টার অব রিসার্চ ইন ইন্টারন্যাশনাল ডিভেলপমেন্ট” ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯১ সালে তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইংরেজি সংবাদপত্র ‘দি ডেইলি স্টার’ এ সহ-সম্পাদক পদে যোগদান করেন। এছাড়াও ‘দি মর্নিং সান’ সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেন। তাঁর অসংখ্য রিপোর্ট, উপসম্পাদকীয়, আর্টিকল ও ফিচার দেশবিদেশে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও জার্ণালে ছাপা হয়েছে। এখনো লিখছেন তিনি সীমিত পরিসরে।

বায়েজিদ দৌলা বিপু বাল্যকাল থেকেই গভীর চিন্তা ও দীপ্ত চেতনার অধিকারী । তদুপরি, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ এবং রাজনীতিক পিতার জীবনবোধ চিন্তা ও কাজ তাঁর চেতনা ও কর্মজীবনকে গভীরভাবে আলোকিত, উদ্দীপিত ও প্রভাবিত করে।

১৯৯৩ সালে নিপীড়িত, শোষিত বঞ্চিত বিপন্ন মানবতার সেবা মিশন গ্রহণ করেন বায়েজিদ দৌলা, এবং “প্রান্তজন” এর সেবার প্রত্যয় নিয়ে যোগ দেন ব্রিটিশ সাহায্য ও উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইডে। ছিন্নমূল বিত্তহীন জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক জীবনের মানোন্নয়নে তিনি বিচ্ছিন্ন অনিরাপদ উপকূলীয় জনপদ চরফ্যাশন, চরকচ্ছপিয়া, চরমোতাহার, চরপাতিলা, ঢালচর, মনপুরা, লালমোহন, তজুমুদ্দিন, সন্দীপে বসবাসরত সাইক্লোন ও জলোচ্ছাসের নিত্য ও নির্মম শিকার অসহায় ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সাথে তিনি প্রায় পাঁচ বছর সুনিবিঢ়ভাবে কাজ করেন।

১৯৯৮ সালে তিনি ‘ইন্সটিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যানালাইসসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (ইডপা)’ নামক একটি নীতি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন, এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ইডপা’তে তিনি কর্মসূচি সমন্বয়কারী ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৫ সালের ২৬ মার্চ ‘সিভিক বাংলাদেশ’ নামক একটি অলাভজনক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, এবং মর্যাদার সর্বজনীন ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে ২০০৬ সালে তিনি ক্যাম্পেইন নেটওয়ার্ক ‘বাংলাদেশ ডিগনিটি ফোরাম’ প্রতিষ্ঠা করেন, এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর সাংগঠনিক ও প্রচারণা কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করেন। ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ‘সবার জন্য মর্যাদা’ বিষয়ক জাতীয় নাগরিক আন্দোলন ও ক্যাম্পেইনের মূখ্য সংগঠক ও সঞ্চালক হিসেবে তিনি ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে “Dignity for All: Bangladesh as a Model for the Global Community” বিষয়ক জাতীয় করফারেন্স আয়োজন করেন। উক্ত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, এবং একটি মর্যাদাশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় জনগনের অংশগ্রহণের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। বায়েজিদ দৌলার নেতৃত্বে পরিচালিত ক্যাম্পেইনটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দৃষ্টি ও স্বীকৃতি লাভে সক্ষম হয়।

সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে তিনি ঢাকায় গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘ডেভকেয়ার লিমিটেড’ স্থাপন করেন এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসমূহে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে তিনি সুনামের সাথে কাজ করেন।

উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রয়োজনে মো. বায়েজিদ দৌলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএ), যুক্তরাজ্য (ইউকে), ভারত,নেপাল, থাইল্যান্ড ও উগান্ডাসহ

বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকলেও নিজ এলাকার উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মো. বায়েজিদ দৌলা বিপু। উল্লেখ্য, এলাকায় বিশ্বমানের শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে ভাঙ্গুড়ার দক্ষিণ সারুটিয়ায় আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “শিক্ষায়তন” পুনর্নিমাণ করেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ করেন, এবং মসজিদ সংষ্কার ও উন্নয়নে তহবিল যোগান দেন। এছাড়াও, স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিশেষ করে ভাঙ্গুড়া রেল স্টেশনের উন্নয়নে প্লাটফরম উঁচুকরণ ও শেড নির্মাণের দাবির সাথে এলাকার জনগণকে সম্পৃক্ত করেন, এবং স্টেশনটির উন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছেন।

পাবনা-৩ এলাকায় তথা চাটমহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর উপজেলায় টেকসই উন্নয়ন ও দ্রুত সমৃদ্ধি অর্জনের সংকল্প নিয়ে বায়েজিদ দৌলা ‍বিপু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন ও দোয়া কামনা করছেন।

২০২১ সালের মধ্যে “মধ্য আয়ের দেশ” ও ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত “উন্নত বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অত্র এলাকায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী  “ইউনুস এমএলএ” এর সুযোগ্য উত্তরসূরী বায়েজিদ দৌলা বিপু।

এসএম/কেএস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category