নড়াইলে স্বল্প পরিসরে কোরবানির পশু বেচা-কেনা শুরু

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল: জেলায় স্বল্প পরিসরে কোরবানির পশু বেচা-কেনা শুরু হয়েছে।হাট-বাজারে পশু বেচা-কেনার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে কোরবানির পশু বেচা-কেনার অনলাইন অ্যাপস এর উদ্বোধন হয়েছে।করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাগম এড়াতে অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে কোরবানির গরু-ছাগল বেচা-কেনায় ক্রেতা-বিক্রেতা আগ্রহী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের লক্ষ্যে নড়াইল জেলায় ২৪ হাজার ৫শ’ পশু চাহিদার বিপরীতে কোরবানির জন্য ২৯ হাজার ৫শ’৩২টি পশু মজুদ রয়েছে।এর মধ্যে গরু ১৮হাজার ৮শ’১টি এবং ছাগল ১০হাজার ৭শ’৩১টি।দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ কর্মসূচির আওতায় খামারিদের কাছে বর্তমানে ২৯ হাজার ৫শ’৩২টি পশু মজুদ রয়েছে। যা দিয়ে জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে ৫ হাজার পশু থাকবে অতিরিক্ত। ছোট বড় মিলে জেলার তিন উপজেলায় পশুর খামার রয়েছে ৪ হাজার ১শ’৪৩টি।এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ১হাজার ৩শ’৮৩টি পশুর খামার, লোহাগড়া উপজেলায় ২হাজার ২শ’২২টি এবং কালিয়া উপজেলায় ৫শ’৮৩টি ছোট-বড় পশুর খামার রয়েছে।ছোট বড় মিলে জেলায় পশুর হাট রয়েছে ৬টি।

জেলার মাইজপাড়া, মাদ্রাসা-নাকশী, পহরডাঙ্গা, লোহাগড়া কোরবানির পশুরহাটের ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজারাদারের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশুরহাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আস্তে আস্তে জমে উঠছে পশু বেচা-কেনা।ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্য জেলা থেকে কিছু গরু ব্যবসায়ী এসে স্বল্প পরিসরে গরু কেনা শুরু করেছেন। বাজারে ১১০ থেকে ১২০ কেজি মাংস হবে এমন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।

নড়াইল পৌরসভার দূর্গাপুর এলাকার গরু খামারী (কৃষক) মোশারফ হোসেন জানান, কোরবানি উপলক্ষে তার খামারে দেশিজাতের ৯টি বিক্রিযোগ্য গরু ছিল।ইতোমধ্যে তিনি দুটি গরু ১লাখ ৪২হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর কোরবানিকে সামনে রেখে ক্রেতার সংখ্যা একটু কম বলে তিনি জানান।

সূত্রে জানা যায়, গরুর পাশাপাশি ছাগলও ঊঠেছে হাট-বাজারে। ১৫ থেকে ২০ কেজি মাংস হবে এমন ছাগল ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার পর্যন্ত দাম করতে দেখা গেছে।জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: মারুফ হাসান জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত সময়ে যাতে পশু কেনা যায় সেদিকেলক্ষ্য রাখার জন্য পশুর হাটের ইজারাদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত বছরেরন্যায় এবছরও জেলায় মোট ২শ’৭০ খামারীকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণীসম্পদ বিভাগের ভ্যাটেনারী সার্জনের নেতৃত্বে ৬টি টিম আগামি ১৫জুলাই থেকে হাট-বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category