নিবন্ধন নাই কিন্তু চক্ষু সার্জন!ভাঙ্গুড়ায় রুমি ড্রাগ হাউজে চেম্বার

সিরাজুল ইসলাম আপন, পাবনা: নিবন্ধন নাই কিন্তু চক্ষু সার্জন সেজে রোগী দেখেন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পৌরসভার রেল চত্তরে রুমি ডাগ হাউজে। ওই চিকিৎসকের নাম ডা: মো: আলমগীর হোসেন। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,প্রতি সপ্তাহে শনিবার বিকালে তিনি ওই চেম্বারে বসেন। এর আগের দিন রুমি ডাগ হাউজের মালিক মোঃ আব্দুর রব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করেন যে,সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল থেকে আগত চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ মোঃ আলমগীর হোসেন শনিবার রুমি ড্রাগ হাউজে রোগী দেখবেন।এ কথা শুনে অনেক রোগী এখানে ভীর জমান। পরে জানা গেল তিনি আসলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নন,তিনি একজন মেরামেডিক্স।

বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর নীতিমালা অনুযায়ী বিএমডিসির নিবন্ধন ব্যতীত কেহ ডাক্তার পরিচয়ে কোন রোগী দেখতে পারেনা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালায় বলা হয় বিএমডিসি অনুমোদিত যোগ্যতা ব্যতিরেক বানিজ্যিক ভাবে চক্ষু চিকিৎসা এবং চশমার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া আইনের বহির্ভূত। কিন্তু সে বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিয়মিত ভাঙ্গুড়ার রুমি ডাগ হাউজে ও চাটমোহরের জিরো পয়েন্টের হারডো এনজিও অফিসে চেম্বার খুলে চক্ষু রোগী দেখছেন।

চিকিৎসক নাম ধারি আলমগীর হোসেন বলেন, আমি একজন প্যারামেডিক্স ঈশ্বরদীর একটি চক্ষু হসপিটালে কর্মরত আছি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে চক্ষু রোগী দেখে আসছি,এখন থেকে ভাঙ্গুড়ায়ও নিয়মিত রোগী দেখব।

সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের চীফ কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ নাজমুল হক বলেন,আলমগীর হোসেন এক সময় সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের প্যারামেডিক্স ছিলেন। তিনি ডাক্তার নয় । তাই কোন চক্ষু রোগীর চিকিৎসা দিতেও তিনি পাররেন না।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ হালিমা খানম বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবোনা।প্রশ্ন হলো, ভুয়া চিকিৎসক সেজে রোগী দেখা এবং একটি স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী তাকে এনে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর হেতু কি ? এ ব্যাপারে অভিজ্ঞমহল উভয় ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category