নরসিংদী শ্রীনিধিতে স্টেশন মাস্টার নেই ৩ মাস ধরে ঝুলছে তালা

এম,লুৎফর রহমান, (নরসিংদী): নরসিংদীর শ্রীনিধি রেল স্টেশন মাস্টারের অভাবে তিনমাস ধরে রেলস্টেশনে তালা ঝুলছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন এলাকার সাধারণ যাত্রীরা। দীর্ঘদিনের এ অচলাবস্থার কারণে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনা। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনিধি এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় এখানে উৎপাদিত হয় শীত ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি। পণ্য পরিবহনে খরচ কম ও অধিক নিরাপদের কারণে ব্যবসায়ীদের পছন্দ রেলপথ। শ্রীনিধি স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারী না থাকায় তিন মাস ধরে তালা ঝুলছে এ রেল স্টেশনে।

এতে করে ট্রেন কখন আসবে, কোথায় আছে জানতে পারেন না যাত্রীরা। বন্ধ রয়েছে টিকিট বিক্রি ও মাল বুকিং। এতে যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পড়েছে দুর্ভোগে। এ ছাড়া এ স্টেশনে ব্যবসায়ীদের মাল বুকিং ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সবজিসহ অন্যান্য পণ্য সড়ক পথে ঢাকাসহ দেশের অন্য স্থানে আমদানি ও রপ্তানি করতে গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি দ্রুত এ স্টেশনটি সচল করা হলে রেল যাত্রীদের ভোগান্তি কমে যাবে

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টেশনটিতে কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, ঈশা খাঁ ও সিলেট সুরমা মেইল নামে তিনটি লোকাল ট্রেন থামে। স্টেশন মাস্টার বিহীন তালাবন্ধ স্টেশনটিতে ট্রেন আসা-যাওয়ায় বাজে না ঘণ্টা, নেই কোনো সিগন্যাল ব্যবস্থা। অভিযোগ রয়েছে প্ল্যাটফর্মের এক নম্বর লাইনের বদলে স্টপেজের সময় ট্রেন থামে মাঝ লাইলে। ভূমি থেকে ট্রেনের বগির উচ্চতা বেশি হওয়ায় উঠতে ও নামতে গিয়ে প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রীরা।

চার মাস যাবত স্টেশনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে যাত্রী সেবা ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসার ওপর। জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ২৭ কিলোমিটার অংশে রয়েছে ছয়টি রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো আমিরগঞ্জ, খানাবাড়ি, হাঁটুভাঙ্গা, মেথিকান্দা, শ্রীনিধি ও দৌলতকান্দি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশন শ্রীনিধি। স্টেশনটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ট্রেনে করে ঢাকা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করে থাকেন।

স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেনকে বদলি করা হয়েছে নরসিংদীর জিনারদীতে। তার বদলির পর এখানে অন্য কোনো স্টেশন মাস্টার নিয়োগ না দেওয়ায় অল্প দিনেই স্টেশনটি কর্মচারী শূন্য হয়ে যায় ফলে স্টেশন মাস্টার রুম, টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও পাবলিক শৌচাগার গুলো রয়েছে তালাবন্ধ। বসার স্থান না পেয়ে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। টয়লেটের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ থাকায়। শৌচাগারে যাত্রীদের যেতে হয় স্টেশনের পাশের বাড়ির কোনো টয়লেটে।

শাহ্ আলম নামে এক ফল ব্যবসায়ী জানায়, ট্রেনের জন্য তিনি অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। কলা নিয়ে যাবেন নরসিংদী শহরে। স্টেশন মাস্টার না থাকার কারণে ট্রেন আসার সঠিক সময় জানতে পারছেন না তাই সবার মতো তিনিও নিরুপায়। শাহ্ আলমের মতো আরও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, ট্রেন তিনটি দুই মিনিটেরও কম সময় যাত্রা বিরতি দেয় এ স্টেশনে।

ট্রেন এক নম্বর লাইনের পরিবর্তে মাঝ লাইনে থামায় ট্রেনের বগি বেয়ে উঠতে ও নামতে গিয়ে গত চার মাসে শ্রীনিধি স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে পুনরায় স্টেশনটি সচল করতে রেল কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার এটিএম মুছা যাত্রী দুর্ভোগের কথা শিকার করে বলেন, শ্রীনিধি স্টেশনে মাস্টার সংকটে যাত্রী সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

নতুন করে মাস্টার নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এ দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ ব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারী না থাকার বিষয়টি তিনি এতদিন জানতেন না। এ বিষয়ে কেউ তাকে লিখিত অভিযোগও দেয়নি বলে জানান তিনি। তিনি আরও  বলেন, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করা হবে।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category