নদীর তীরে নির্মিত আলোচিত মডেল সমবায় হাটের জায়গায় হাট বসানোর দাবী এলাকাবাসীর

এমদাদুল হক দুলু, (বদলগাছী, নওগাঁ): নওগাাঁর বদলগাছীতে ছোট যমুনা নদীর তীরে কাবিখা ও কর্মসৃজন প্রকল্পের ৩ কোটি ৬৭ লাখ ১১ হাজার ২২৩ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আলোচিত মডেল সমবায় হাটের জায়গায় হাট লাগানোর দাবী এলাকাবাসীর।

সম্প্রতি বদলগাছী উপজেলা পরিষদ হলরুমে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপজেলার সকল স্তরের জনগনকে নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের নিকট এলাকাবাসী উক্ত স্থানে হাট লাগানোর দাবী জানায়। ৯ বছর আগে নদীর তীরে মাটি ভরাট করে মডেল সমবায় হাটের জায়গা নির্মাণ করলেও হাট লাগাতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী কেন্দ্রীয় হাটের জায়গায় হাটবারের দিন জায়গা সংকুলান না হওয়ায় স্কুল মাঠে হাট বসে। স্কুল মাঠে হাট বসার কারণে বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল ও বদলগাছী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান ব্যাহত হয়ে পড়ে। যানবাহনসহ হাটুরিয়া ও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের পদচারণায় স্কুল মাঠ কর্দমাক্ত হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের খেলাধূরার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। নানা সমস্যার কারণে বদলগাছী কেন্দ্রীয় হাট নদীর তীরে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য নিয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ তৎকালীন এমপি ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওয়তায় বদলগাছী কেন্দ্রীয় বাজার সংস্কারের নামে ১টি প্রকল্প গ্রহন করে।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাজার সংস্কার না করে কর্মসৃজন ৪০ দিন কর্ম সূচির ৯৪৯ জন শ্রমিক দিয়ে বদলগাছী ডাক বাংলোর পূর্ব পার্শ্বে ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম ধারে অবৈধভাবে ব্যক্তি মালিকানা জমি জবর দখল করে সমবায় মডেল হাটের জায়গা নির্মান করেন। ২০১১ সালের ২১শে নভেম্বর এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ৮ ইউনিয়নের কর্মসৃজন প্রকল্পের সকল শ্রমিক টেনে এনে এ প্রকল্পে কাজ করান। কর্মসৃজন ১ম ও ২য় দফা সহ ৭২০ মে.টন কাবিখা পকল্পের চাল এ প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। সরকারী মূল্য অনুসারে মোট ৩ কোটি ৬৭ লাখ ১১ হাজার ২২৩ টাকা ব্যয় করে মডেল সমবায় হাটের জায়গা নির্মান করে। কিন্তু মালিকানা জমি হওয়ায় এখানে স্কুল মাঠ থেকে হাট সরিয়ে নিতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

ঐ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর পরই জমির মালিকেরা তাদের জায়গা দখল করে দোকান পাটসহ খন্ড খন্ড অংশে বাসবাড়ি নির্মান করে বসবাস করছে। অনেকে জমি কিনে নিয়ে এখানে বাসাবাড়ী নির্মান করছে। এ জমির মূল মালিক বদলগাছীর মুনির আলী ও তার ওয়ারিশগন। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেছে। এসএ ও আরএস খতিয়ান বর্তমান মালিকদের নামে রেকর্ড রয়েছে। জমির মালিক আমিনুর বলেন তৎকালীন এমপি জোর পূর্বক তাদের রবিশষ্য ফসল নষ্ট করে মালিকানা জমি জবর দখল করে নদীর বালি কেটে ভরাট করেছে।

অবৈধ ভাবে জমি ভরাট করতে বাঁধা দিলে তাদেরকে পুলিশ দিয়ে তাড়ানো হয়েছে। পরিশেষে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর তাদের জমি তারা দখল করে বাড়ি ঘর নির্মান করেছে। বদলগাছীর নারায়ন মুস্তফী জানায় মডেল সমবায় হাটের জায়গায় সাবেক সাংসদ তাদের ২ বিঘা পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে বালি ভরাট করেছে। তিনি ইউএনওর কাছে দাবী করেছেন তার জমি বের করে দেওয়ার জন্য। মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন জানান তার কলেজের নামে ২ বিঘা জমি সেখানে রয়েছে। তিনি শিঘ্রই মাপযোগ করে সীমানা পিলার দিয়ে ঘিরে নিবেন। এ প্রকল্পে প্রায় ১৩ বিঘা জমি ভরাট করা হয়েছে।

এ জায়গাতে বর্তমানে আলহাজ¦ মোঃ সুলতান রেজা খান ৬ তলা ভবনের ভিত দিয়ে ৩তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। আধাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী ডিসির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দাবি করেন এলাকাবাসীর স্বার্থে ও বদলগাছীর শিক্ষার পরিবেশ বহাল রাখতে নদীর তীরে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মডেল সমবায় হাটের জায়গায় হাট লাগানো হোক।

ঐ সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমা-ার মোঃ জবির উদ্দিন বলেন, নির্মিত হাটের জায়গায় তার নামে লিজ নেওয়া ভিপি সম্পত্তি এক থেকে দের বিঘা জমি ভরাট করে নিয়েছে ঐ প্রকল্পে। তার দাবি যদি হাট লাগে তাহলে এলাকাবাসীর স্বার্থে সে জায়গা তিনি ছেড়ে দিবেন কিন্তু হাট না লাগালে এই জায়গা তিনি দখল করে নিবেন। এলাকাবাসীর দাবীর মুখে জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য এবং হাটের জায়গায় যেকোন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে দখলদারদের কাগজপত্র দেখার আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ পদোন্নতিজনিত কারণে অন্যত্র বদলীর আদেশ হওয়ায় তিনি বিদায় নেওয়ার তৎপরতায় ব্যস্ত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত হাটের জায়গায় কেনো অবকাঠামো বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই হাটের জায়গায় নির্মিত ৩তলা ভবনের মালিক আলহাজ¦ মোঃ সুলতান রেজা খান হাটের জায়গায় কিভাবে ভবন নির্মাণ করছেন মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার কিনা সম্পত্তি। সিএস, এসএ এবং আরএস খতিয়ান জমির মালিকের নামে। মালিকানা জায়গা জোর করে দখল করে তো আর হাট লাগানো যায় না। এখানে যদি হাট লাগে তাহলে আমার আপত্তি নেই। আমি দোকান ঘর নির্মাণ করেছি। তা হাট লাগানোর জন্য সুবিধা হবে। জেলা প্রশাসক নির্মিত হাটের জায়গায় যেকোন স্থাপনা নির্মাণে নিষেধ করেছে তা আমি শুনেছি কিন্তু কোন চিঠি পাইনি। তাছাড়া যেসময় এখানে মাটি ভরাট করে সেসময় আমরা আদালতে মামলা করেছি। ২০১৪ সালে আদালত সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এখন পর্যন্ত সরকার পক্ষ নিষেধাজ্ঞা ভ্যাকেট করতে পারেনি।

এলাকাবাসী বলেন, নদীর তীরে নির্মিত মডেল সমবায় হাটের জায়গায় যদি হাট লাগে এবং স্কুল মাঠ থেকে এখানে হাট স্থানান্তর করা যায় তাহলে উপকৃত হবে এলাকাবাসী। হাইস্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরে আসবে শিক্ষার পরিবেশ এবং ফিরে পাবে খেলার মাঠ। আদৌও কি তা সম্ভব হবে এ প্রশ্ন জনগনের মুখে মুখে।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category