Tuesday, November 17th, 2020




নগরে নবান্ন উৎসব

নগরে নবান্ন উৎসব

কালের সংবাদ ডেস্ক: অগ্রহায়ণের এই সময়টাতে বদলে যায় গ্রামবাংলার প্রকৃতি। গ্রামের আলপথে দেখা যায় ধান বয়ে নিয়ে ছুটে চলা কৃষকের সারি। নতুন ধানে ভরে ওঠে কৃষকের বাড়ির উঠান। কিছুটা হলেও প্রশান্তির সুবাতাস বয়ে যায় কৃষক-কৃষাণির ঘরে। আসে উৎসবের আমেজ। তৈরি হয় নতুন ধানের পিঠাপুলি। ম ম গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে হেমন্তের বার্তা পৌঁছে যায় চিরায়ত বাংলার ঘরে ঘরে। ধান তোলা শেষ হলেই শুরু হয় আবহমান সাংস্কৃতিক আয়োজন। কোথাও বসে গানের আসর, কোথাও বা যাত্রাপালা; যদিও সময় আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনেক কিছুতেই ছেদ পড়েছে। তার পরও কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকের অবদানের কথা স্মরণ করার প্রয়াস চলে।

ইট-পাথরের এই যান্ত্রিক নগরীর বাসিন্দাদের কাছে আবহমান চিরচেনা নবান্ন এখন রূপকথার গল্পের মতো। তাই রাজধানীর বাসিন্দাদের কাছে নবান্নের ঐতিহ্য তুলে ধরতে বরাবরের মতো এবারও নবান্ন উৎসব আয়োজন করেছে জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদ। প্রতিবছর এই উৎসব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় হলেও এবার করোনার কারণে তা কিছুটা বড় পরিসরে নিয়ে আসা হয়েছে। এবারের আয়োজনটি ছিল শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে। গতকাল সোমবার বিকেলে নবান্নের এই বর্ণিল আসরে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি আর কথামালায় তুলে ধরা হয় চিরচেনা নবান্নের অপরূপ সৌন্দর্য।

সিঁদুররাঙা বর্ণ আর শ্বেত-শুভ্রতায় সাজানো মঞ্চে উৎসবের সূচনা ঘটে যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বুলবুল মহলানবীশ, সমর বড়ুয়া, সুরাইয়া পারভীন, আরিফ রহমান, আঁখি বৈদ্য, অনিকেত আচার্য্য, আবিদা রহমান সেতু প্রমুখ। আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, রেজিনা ওয়ালী লীনা, শাহাদত হোসেন নিপু, মাশকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, ফয়জুল্লা পাপ্পু, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি, তামান্না তিথি ও সৈয়দ ফয়সাল আহমেদ। দলীয় সংগীত, দলীয় নৃত্য ও শিশু-কিশোর পরিবেশনায় অংশ নেয় বিভিন্ন দল। সঙ্গে ছিল পিঠাপুলি আর গ্রামীণ বাহারি পণ্যের মেলা।

উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। নবান্ন কথনে অংশ নেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। স্বাগত বক্তব্য দেন নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক নাঈম হাসান সুজা। সভাপতিত্ব করেন পর্ষদের সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম। পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসানের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ করেন শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ।

কে এম খালিদ বলেন, ‘লোকজ উৎসবে আমাদের আন্তরিকতা কমে গেছে। কারণ আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে। তাই উৎসবগুলোতে হৃদয়ের ছোঁয়াও কমেছে। কিন্তু এই নবান্ন উৎসব যখন ঢাকা শহরে উদযাপিত হচ্ছে, তখন তার একটি ভালো দিকও আছে। নগরজীবনে গ্রামবাংলার উৎসবগুলোর আবহের কিছুটা ছোঁয়াও তো পাই।’

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘নবান্ন উৎসব মূলত বাংলাদেশের কৃষকের উৎসব। নগরায়ণের ফলে আমরা যেন এ উৎসবগুলোকে হারিয়ে না ফেলি, তাই নানাভাবে উপস্থাপন করছি নগরবাসীর সামনে।’

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category