নওগাঁয় ৩মাস পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণ চেষ্টার আসামিকে গ্রেফতার করেননি পুলিশ !

 ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, নওগাঁ: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পবাতৈড় গ্রামে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযুক্ত আসামী “পবাতৈড় স,প্রা, বিদ্যালয়ের” দপ্তরীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ !

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ পবাতৈড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ও একই গ্রামের শ্যামল চন্দ্রের ছেলে শ্রী পলাশ কুমারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নির্দেশ দিলে গত পহেলা জুলাই থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিগত ২-৩ বছর থেকে শ্রী পলাশ কুমার ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করে এবং রাস্তাঘাটে কু-প্রস্তাব দেয়। এ সকল বিষয়ে ওই গৃহবধূ তার স্বামী ও স্থানীয়দের জানালে গ্রাম্য সালিশ হয় এবং আর কখনো এমন আচরণ করবেনা মর্মে শ্রী পলাশ কুমার সালিশে অঙ্গীকার করে।

গত ১২ জুন বুধবার রাত ১২ টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়ার জন্য ঘর থেকে বাহিরে আসলে একপর্যায়ে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে এবং তার স্বামী শ্রী পলাশ কুমারকে ধরে ফেললে সে লাথি মেরে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত শ্রী পলাশ কুমার অফিসিয়াল কাজে বাহিরে এবং স্কুলে না থাকায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তার দাবি যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহাদেবপুর থানার এসআই এরশাদ মিঞা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, যথা সময়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

মহাদেবপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স গতকাল শনিবার দুপুরে তদন্তে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এরশাদকে জনসম্মুখে প্রশ্ন করে বসেন যে, কেনো এতোদিন আসামীকে আটক করেন নাই? আসামীকে অতিদ্রুত আটকের জন্য তিনি নির্দেশ প্রদান। সে অনুযায়ী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এরশাদ তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলে যান। কিন্তু অভিযুক্ত আসামী স্কুলে না থাকায়। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মাহফুজা খাতুনকে রিকুইজিশন দিয়ে বলা হয় যে, আগামীকাল থেকে যেনো ও আর স্কুলের এ্যাটেন্ডেন্স খাতায় সহি স্বাক্ষর দিতে না পারে। আসামীকে আগামীকালই নওগাঁ জজ কোর্টে গিয়ে জামিন নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওর সরকারী চাকুরিতে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করার কোনো সুযোগ নেই।

পবাতৈড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহফুজা খাতুন বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারীভাবে কোনো চিঠি না পাওয়ায় তাকে কর্মে বহাল রাখা আছে। তবে কোন নির্দেশ পাওয়া মাত্রই আমি ব্যবস্থা নিতে পারবো। নির্দেশনা পেলে তাকে চাকুরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category