নওগাঁয় দ্বিতীয় বারের মতো শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা

সাদাকাতুল বারী জয়- নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলায় তিনদিন ব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা। এ উপলক্ষে ইজতেমার মাঠ প্রস্তুতে বিশাল কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত তাবলিগ জামাতের নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে এমনটাই জানিয়েছেন আয়োজকরা। আগামী বুধবার মাগরিবের পর থেকে বয়ান শুরু হবে।

জেলায় দ্বিতীয় বারের মতো শহরের বাইপাস সান্তাহার সংলগ্ন দোগাছী মাঠে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারী থেকে তিনদিন ব্যাপী শুরু হবে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা। এ উপলক্ষে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার স্কয়ার ফিট (প্রায় ১৪ একর) জায়গা জুড়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। মাঠটি প্রস্তুত করতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার তাবলিগ জামাতের নিবেদিত প্রাণ কর্মী, মসজিদ ও হেফজ খানার মুসল্লি, রোভার স্কাউটের সদস্যরা স্বেচ্ছায় কাজ করছেন।

জেলার ১১টি উপজেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সমবেত হবেন ইজতেমায়। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হবে। ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা একত্রিত হয়ে পারস্পরিক ভাব ও ধর্মীয় জ্ঞান বিনিময় করবেন। এরপর সারা বছরের কর্মপন্থা নির্ধারণ করবেন এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ইসলাম প্রচারের কাজে ছড়িয়ে পড়বেন। ইজতেমায় মুসল্লিদের থাকা, খাওয়া, ওজু, গোসল ও পয়ঃনিষ্কাষসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইজতেমার সম্পন্ন মাঠে ছামিয়ানা (কাপড়) টাঙ্গানোর দায়িত্ব নিয়েছেন ডা. হোসাইন। তিনি বলেন, প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার স্কয়ার ফিট এলাকা জুড়ে ছামিয়ানা টাঙ্গানো হবে। ইতোমধ্যে ৮৬টি ছামিয়ানা টাঙ্গানো হয়েছে। বাকী ৬০টি ছামিয়ানা আগামী দুইদিনের মধ্যে টাঙ্গানোর কাজ শেষ হবে।
নওগাঁ জেলা রোভার সদস্য মহিউদ্দিন আশিক বলেন, রোভার স্কাউটের বাংলাদেশে বন্যা দূর্গত এলাকায় বিভিন্ন ভাবে সাহায্য ও সহযোগীতা করে থাকে। সেলক্ষে আমরা জেলা রোভারের ৭ জন সদস্য ইজতেমার মাঠ প্রস্তুত করতে স্বেচ্ছায় কাজ করছি।

মাওলানা আমির হোসেন বলেন, আমরা যারা দাওয়াতে তাবলীগ করি আল্লাহকে রাজী খুশি করতে স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছি। আখিরাতে বিষয়ে আমাদের চিন্তা চেতনা আছে। আখিরাত যেন ভাল ভাবে পাড়ি দিতে পারি।

নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্নভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করতে মাঠে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি সহ বিভিন্ন নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া মাঠে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
ইজতেমা সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক এবং মানুষের ভেতর থেকে হিংসা-হানাহানি দূর করে পৃথিবীতে শান্তির অমিয়ধারা প্রবাহিত করবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।

এসএম/কেএস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category