নওগাঁয় আদিবাসীদের কারাম উৎসব

মোঃ এমদাদুল হক দুলু, (বদলগাছী, নওগাঁ): আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কারাম পূজা। বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর উত্তরের সমতল ভূমির নওগাঁর আদিবাসীরা এই কারাম উৎসব পালন করে আসছে। শুক্রবার রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল মাঠে এ উৎসব পালিত হয়। এ উপলক্ষে কয়েকটি জেলা থেকে আগত আদিবাসী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে তাদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরেন।

এ উপলক্ষে শনিবার বিকেলে সেখানে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফতার সেলিম।

জাতীয় আদিবাসি পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আমিন কুজুরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহাদেবপুর সার্কেল আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম, মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান হাবীব ভোদন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, সদস্য অ্যাড: বাবুল রবিদাস, কেন্দ্রীয় কমিটির যুব পরিষদের সাধারন সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ মহাদেবপুর শাখার সভাপতি দিলীপ পাহানসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জানাগেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে নাটশাল মাঠে নিয়মিত পালন করা হয় কারাম উৎসব। কারাম একটি গাছের নাম। আদিবাসী বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির মানুষের কাছে এটি একটি পবিত্র গাছ। মঙ্গলেরও প্রতীক। প্রতি বছর বংশপরমপরায় ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় পালন করা হয় এই পূজা। এই উৎসবকে ঘিরে মূখরিত হয়ে নওগাঁর আদিবাসি বসবাসরত এলাকাগুলো।

পূজার সময় আদিবাসিদের সহদ্বয় দুই ভাই ধর্মা ও কর্মা’র জীবনী তুলে ধরা হয়। আদিবাসি বিশ্বাস করে ধর্ম পালন করায় ধর্মা রক্ষা পান সকল বিপদের হাত থেকে। আর কর্মা ধর্ম পালন করায় তার ক্ষতি হয়। ভাদ্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় আদিবাসি সম্প্রদায়ের লোকজন উপবাস করে কারাম গাছের গাল কেটে আনেন।

এরপর সন্ধ্যায় পুঞ্জিকা মতে পূর্ণিমা শুরু হলে কারামডাল কেটে অস্থায়ী মন্ডবে পুঁতে রেখে পূজা-অর্চনা আর নাচ-গান ও কিচ্ছা বলার মধ্য দিয়ে প্রতি বছর কারাম এ উৎসব পালন করে।

এ সময় পুরো এলাকা আদিবাসীসহ সকল সম্প্রদায় হয়ে উঠে মিলন মেলা। পূজা শেষে পরদিন কারাম ডাল উঠিয়ে গ্রামের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষ নেচে গেয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুকুরে জল বিসর্জন দেয়। আদিবাসিরা এ কারাম উৎসবের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। এ উৎসবে বিভিন্ন জেলার সাংস্কৃতিক দল তাদের নাচ-গান পরিবেশন করেন।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category