Saturday, October 31st, 2020




নওগাঁর মাটিতে থোকায় থোকায় ঝুলছে মিষ্টি-সুস্বাদু আঙ্গুর

মোফাজ্জল হোসেন, নওগাঁ: বিদেশী একটি জনপ্রিয় ফল আঙ্গুর। দেশের মাটিতে আঙ্গুর চাষ সত্যিই অভাবনীয়। সবুজ পাতার নিচে বাঁশের মাঁচায় থোকায় থোকায় ঝুঁলছে আঙ্গুর ফল যা দেখে যে কোন মানুষের চোখ জুড়িয়ে যাবে। আর এ দৃশ্য চোখে পড়ে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের পোষ্ট অফিস মোড় এলাকার ‘সেমন্তী হাট বাজার’ এর আঙ্গিনায়।

উপজেলায় আঙ্গুর চাষ অকল্পনীয় তারপর আবার মিষ্টি আঙ্গুর অনেকটা গল্পের মত হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও আইনজীবী সামিউন নবী সামিম। তিনি উপলোয় প্রথম মাচা পদ্ধতিতে আঙ্গুর ফলের চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

ইতিমধ্যে গাছে ব্যাপক ফলও এসেছে। তার প্রত্যাশা অচিরেই মহাদেবপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু হবে। এখন সামিমের চোখে সফলতার রঙিন স্বপ্ন। সাধারনত অষ্ট্রেলিয়া ভারতসহ বেশ কিছু দেশে মিষ্টি আঙ্গুরের চাষ হলেও বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের বাসিন্দা সামিউন নবী সামিম ২০১৯সালে রাজশাহী থেকে ২টি লাল ও ২টি কালো আঙ্গুরের চারা (কাটিং) নিয়ে আসেন। সেই চারা রোপণ করেন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায়। গত বছরের শেষের দিকে গাছে প্রথম ফল আসে। এ বছর অনেকটা পরিপূর্ণ ফল দেখে তিনি সফলতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

আঙ্গুর মিষ্টি হওয়ায় পরিপূর্ণভাবে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। ফলে দুই বছরের মাথায় প্রথমবারের তুলনায় ৫/৬ গুণ বেশি আঙ্গুর ফল ধরে। আঙ্গুর ফল যখন পাকা শুরু করে, তখনই এলাকায় হইচই পড়ে যায়। কারন মিষ্টি আঙ্গুর ফলের চাষ ইতিপূর্বে জেলার কোথাও হয়নি।

সম্প্রতি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় সামিমের আঙ্গুর বাগান পরিদর্শন করেন এবং এলাকার অনেকেই দেখতে আসছে। এতে সামিমও খুশি। অল্প জায়গাতে অধিক ফলন এবং সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এই চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

আঙ্গুর গাছ দেখতে আসা দর্শনার্থী ও এলাকাবাসী জানান, সামিমের আঙ্গুর বাগানের মাধ্যমে আমরা ফরমালিনমুক্ত সু-স্বাদু আঙ্গুর খেতে পারছি। এখন দরকার উদ্দ্যোগ নেওয়া। উদ্দ্যোগ নিলেই এটা ব্যাপক আকারে উৎপাদন করা সম্ভব। অপর একজন জানান, সামিমের এই চাষে আমি উদ্বুদ্ধ হয়েছি। তাঁর কাছ থেকে চারা নিয়ে আমিও চাষ শুরু করব ভাবছি।

জানতে চাইলে সামিউন নবী সামিম জানায়, গাছ লাগানোর অদম্য ইচ্ছা থেকে ৪টি আঙ্গুরের চারা রোপণ করে শুরু করেন আঙ্গুর বাগান। গত বছর তাঁর গাছে প্রায় ৬ কেজি ফল আসে। এবছরও ভাল ফলন হয়েছে। বাজারের কেনা আঙ্গুরের মতই সুমিষ্ট।

কিভাবে চারা রোপণ করলে ভাল ফলন এবং ফলের স্বাদ মিষ্টি হবে জানতে চাইলে তিনি জানায়, বর্ষা মৌসুমে গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। আলো বাতাস ও পর্যাপ্ত রোদের তাপ থাকে এমন জায়গাতে রোপণ করলে ফলের স্বাদের মিষ্টতা পাওয়া যেতে পারে। গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত পরিমানে জৈব সার দিয়ে গাছ রোপণ করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে গাছের যত্ন নিতে হবে।

গাছের ডাল দেখে মনে হবে তা শুকনো। ভুলেও এ ডালপালা ভেঙ্গে ফেলা যাবে না। শীতের শেষে গাছের ডালে নতুন পাতা ও কুশি বের হবে, আর তাতেই ফুল ধরবে এবং পরিণত বয়সে তা আঙ্গুরে রূপান্তরিত হবে। এসময় গাছের পাতায় মকর নাশক স্প্রে করতে হবে। কারন একজাতীয় পোকা এই গাছের পাতা ও ফল খেয়ে ফেলে। তাই প্রতিনিয়ত খেয়াল রাখতে হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, আইনজীবী সামিউন নবী সামিমের আঙ্গুর বাগান পরিদর্শন করা হয়েছে। আঙ্গুর চাষ করে ভাল ফলনও পেয়েছেন। মূলত শখের বসেই মহাদেবপুরে আঙ্গুর চাষ হচ্ছে। যা অনেকটা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে যে আঙ্গুরের জাতটি ভাল হয়ে থাকে তাতে বীজ থাকে। তবে মাটিভেদে এর স্বাদ কোন এলাকায় খুব মিষ্টি আবার কোন এলাকায় টক হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশে আঙ্গুর চাষ বাণিজ্যিক ভাবে করা যাবে কিনা তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে কৃষি বিজ্ঞানীরা।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category