Wednesday, January 27th, 2021




ধামইরহাট পৌরবাসী ১০ বছর ধরে ভোটের অপেক্ষায়

ধামইরহাট পৌরবাসী ১০ বছর ধরে ভোটের অপেক্ষায়

কালের সংবাদ ডেস্ক: নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার নামে মামলা থাকায় ১০ বছর পর নির্বাচন হচ্ছে। সম্প্রতি মামলাটি শেষ হয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে পৌরসভাটি। সুপরিকল্পিত কোনো অবকাঠামো বা নাগরিক সুবিধা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পৌরবাসীর মাঝে একরকম চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আগামী ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে পৌরবাসীর মাঝে এক ধরনের উৎসব আমেজ বিরাজ করছে।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে আমিনুর রহমান, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপল ও স্বতন্ত্র থেকে নারিকেল গাছ প্রতীকে অ্যাডভোকেট আইয়ুব হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া নয়টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৬ জন এবং সংরক্ষিত আসনে ১৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৫ জুলাই ৮টি ওয়ার্ড নিয়ে ধামইরহাট পৌরসভাটি গঠিত হয়। সেখানে ১৮ মাস জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপল। তারপর ৩০ মে ২০০৬ প্রথম ও শেষ নির্বাচন হলে ছাতা মার্কা নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপলকে ২৬ ভোটে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমিনুর রহমান গরুর গাড়ি মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নিত করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর ২০১১ সালে মেয়র আমিনুর রহমানের মেয়াদকাল শেষ হলে পৌরসভার নির্বাচন হয়নি। এলাকা সম্প্রসারণের দাবিতে তালঝাড়ি গ্রামের নাইকি হাজদা গং আদালতে দুইটি মামলা করেন।

পরবর্তীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট আইয়ুব হোসেন জনস্বার্থে ৫/৮/২০১৮ তারিখে পক্ষভুক্ত হন। ফলে গত ৩১/৭/২০১৯ তারিখে শুনানি শেষে হাইকোর্টে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।

১০ বছর পর নির্বচন পেয়ে শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে প্রার্থীরা দিন-রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। নিজেদের বিভিন্নভাবে উপস্থান করছেন। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী প্রার্থীরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের জয়জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা রেজওয়ান ইসলাম বলেন, ভোটার হয়েছি ১৪ বছর আগে। ভোটার হওয়ার পর পৌরসভার কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে ভোট দেয়াও হয়নি। নাগরিক অধিকার থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছি, তেমন এলাকার উন্নয়নে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি এলাকার উন্নয়ন করুক এমনটাই প্রত্যাশা।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমিনুর রহমান বলেন, প্রায় ১৪ বছর ধরে পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দলমত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করছি। মামলার কারণে পৌরসভার তেমন উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ১৫০টি সোলার বাল্প বসানোর প্রকল্প এবং প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচিত হতে পারলে পৌরসভার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, রোড লাইটসহ আধুনিক পৌর ভবন নির্মাণ করা হবে।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপল বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ ভোট হলে বিজয়ী হব। ভোটের দিন প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষ আচরণের দাবি জানান তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আইয়ুব হোসেন বলেন, পৌরসভার নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাইকোর্টে আইনি লড়াই করেছি। তার ফলশ্রুতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমি আশাবাদী পৌরবাসী এ শ্রমের প্রতিদান অবশ্যই দিবেন।

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ধামইরহাট পৌরসভার নয়টি কেন্দ্রে ৩৮টি বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার রয়েছে ১২ হাজার ৬৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ২২৭ এবং নারী ভোটার ৬ হাজার ৪১৩ জন। ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এস হাসান/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category