দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সব রকম প্রস্তুতি নেয়া আছে: প্রধানমন্ত্রী

কালের সংবাদ ডেস্ক: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের ভূমিকা অনন্য। দেশের বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়সহ সব ধরনের দুর্যোগে তাকে দেখা যায় দৃঢ় এবং দুর্গতদের সহায়তায় খুবই আন্তরিক। দুর্যোগে ‘আগাম প্রস্তুতি’ এবং দুর্যোগ ‘পরবর্তী পরিস্থিতি’ মোকাবেলায় তিনি ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এমনকি দুর্যোগপূর্ণ সময়ে তিনি রাত জেগে সবকিছুই খোঁজখবর নেন এবং মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশের সাধারণ মানুষের জানমাল বাঁচাতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন গণভবনে বসেই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছেন।দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব ও ডিসিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে যেন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেজন্য দেশবাসীর প্রতি দোয়া কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো বিশেষ করে ১০ নম্বর বিপদ সঙ্কেতকবলিত ৯ জেলার ১৮ লাখ মানুষকে ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে যেন জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব ও ডিসিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতি ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের গতিপ্রকৃতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা ইতোমধ্যেই যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেছি। আমাদের মানুষের জানমাল বাঁচাবার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ইতোমধ্যে আমরা ট্রাস্ট ফান্ড করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং  গ্লোবাল ওয়ার্মিং থেকে বাংলাদেশ যেন রক্ষা পায়, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, পৃথিবীতে বাংলাদেশই মনে হয় একমাত্র দেশ, যেখানে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের উপকূলের কাছেই চলে এসেছে অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগরে ৫ থেকে ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এজন্য অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ৯ ও কক্সবাজার ৪ নম্বর সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সকালে বাংলাদেশের উপকূলের ৪শ’ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করেছে বুলবুল।ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ দেখে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, স্পষ্টত এটি বাংলাদেশের খুলনা উপকূল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়টির বিষয়ে আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের কাছ দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সব রকম প্রস্তুতি নেয়া আছে। ঝড়-পরবর্তী সময়ে ত্রাণসহ সব প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৩ জেলার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে গতকাল আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলার জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১৩টি উপকূলীয় জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে (জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি (সাপ্তাহিক ও সরকারি) বাতিলসহ কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দিয়া আদেশ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ফেনী, খুলনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম।এক পৃথক আদেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলাসহ মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান এবং প্রয়োজনে ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী রাস্তাঘাট/কালভার্ট সংস্কার/মেরামতপূর্বক সচল রাখার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে উপদ্রুত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয়জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।তাছাড়া দুর্গত এলাকায় সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে সমন্বয়পূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category