Tuesday, December 1st, 2020




তোমার জন্মের আগে থেকে সেঞ্চুরি করি- আফ্রিদি

তোমার জন্মের আগে থেকে সেঞ্চুরি করি- আফ্রিদি

কালের সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক:  নাভিন-উল-হকের জন্ম ১৯৯৯ সালে। আফগান পেসারের জন্মের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব ঘটে গেছে শহীদ আফ্রিদির। শুধু আন্তর্জাতিক অভিষেকই নয়, ওয়ানডের দ্রুততম সেঞ্চুরিও তত দিনে হয়ে গেছে আফ্রিদির। একটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাও তত দিনে হয়ে গেছে। দুজনের মধ্যে তাই তুলনা চলে না কোনোভাবেই। তবে নিজের এত অর্জনের কথা কাল আফ্রিদি নাভিনকে মনে করিয়ে দিলেন আরেকবার।

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে কাল মুখোমুখি হয়েছিল ক্যান্ডি টাস্কারস ও গল গ্ল্যাডিয়েটরস। প্রথমে বেশ টান টান উত্তেজনার হবে বলেই মনে হচ্ছিল ম্যাচটা। কিন্তু শেষ দিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ম্যাচ শেষেই বরং বারুদে লড়াইয়ের আভাস মিলল। প্রতিবেশী দেশের এক তরুণের আস্ফালন দেখে দম্ভ করে আফ্রিদি বলেছেন, তাঁর জন্মের আগ থেকেই তারকা তিনি।

গতকাল ক্যান্ডির কাছে ২৫ রানে হেরেছে আফ্রিদির দল। ম্যাচ শেষে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ঘটা এ ঘটনা জানা গেছে সাজ সাদিকের সুবাদে। পাকিস্তান ক্রিকেটের ব্যাপারে অন্যতম বিশ্বস্ত এই সাংবাদিক টুইটে লিখেছেন, ক্যান্ডি টাস্কারস ও গল গ্ল্যাডিয়েটরসের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে শহীদ আফ্রিদি ও আফগানিস্তানের ২১ বছর বয়সী নাভিন-উল-হকের মধ্যে পরিস্থিতি গরম হয়ে উঠেছিল। আফ্রিদি বলেছেন, ‘ছেলে, তোমার জন্মের আগ থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করছি।’

ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য নাভিন ও মোহাম্মদ আমিরের মধ্য দিয়ে। শেষ ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল গলের। নাভিনের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন আমির। দুজনের মধ্যে একচোট তখনই হয়ে যায়। এর পর টানা দুটি ডট বল দিয়েছেন নাভিন। সে সঙ্গে দুকথা শুনিয়েও দিয়েছেন আমিরকে। দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি চলেছে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও। এমন তর্কাতর্কির মধ্যে অন্যরা এসে নাভিনকে থামানোর চেষ্টা করলেও থামেননি আফগান পেসার।

দুই দল যখন ম্যাচ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে হাত মেলাচ্ছিলেন (বর্তমানের কনুই ঠোকাঠুকি), তখনই আফ্রিদি সতীর্থের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। ক্ষুব্ধ আফ্রিদি নাভিনকে জিজ্ঞেস করেন, কী হয়েছে? নাকমুখ কুচকে আফ্রিদির এমন রাগ প্রকাশ ভালো লাগেনি নাভিনের। তাই নাভিনও কিছু একটা বলে বসেন তাঁকে। এর জবাবটাও আফ্রিদি দিয়েছেন সেভাবে। গতকাল ১৯৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছিল গল। দানুশকা গুনাতিনলকা দারুণ খেললেও অন্য প্রান্তে উইকেট পড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির দিকেই চেয়েছিল দল। কিন্তু ছয়ে নামা আফ্রিদি প্রথম বলেই ফিরেছেন।

নিজে ব্যর্থ হয়েছেন, দলও টানা তিন ম্যাচ হেরেছে, এরপর আবার স্বদেশি একজনকে আফগানিস্তানের এক তরুণের কাছে অপদস্থ হতে দেখছেন। তাই রাগ হতেই পারে আফ্রিদির। নাভিনের এভাবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার খেপিয়ে তুলেছে প্রায় সবাইকে। তবে আফ্রিদির এমন আচরণেও দোষ খুঁজে পেয়েছেন কেউ কেউ। এক ভারতীয় তো মজা করে বলেছেন, ‘আফ্রিদি সম্ভবত ভুলে সেঞ্চুরির কথা বলেছেন। আসলে বলতে চেয়েছেন, “ছেলে, তোমার জন্মের আগ থেকে গোল্ডেন ডাক পাচ্ছি, আজও গোল্ডেন ডাক পেয়েছি। আমাকে সম্মান করো।”’

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category