টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২০ সে. মি. উপরে

তন্ময় আহমেদ নয়ন, লালমনিরহাট: টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্ল¬াবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। পানির গতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বেলা ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। ফলে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বজলে করিম জানান, ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেওয়ায় প্রচন্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। ফলে তিস্তার পানিতে পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা- দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর,আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের এলাকার প্রায় ১০/১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার একর আমন ধানের বীজ তলাসহ অনেক ফসসি জমি তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে।

এদিকে তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেবমোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি রক্ষায় রাতভর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার রবিউল হাসান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুন।

চরাঞ্চলের পানিবন্দী খেটে খাওয়া মানুষগুলো শিশুখাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছে। তিনদিন পানিবন্দী থাকলেও সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ বা শুকনো খাবার পৌঁছানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো বন্যার পানি ডুবে যাওয়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category