জানা-অজানায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের প্রিয়জন

নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা: নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের প্রিয়জন সিনিয়র সাংবাদিক ফখরে আলম। ফখরে আলম ১৯৬১ সালের ২১ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। মা রওশনআরা বেগম গৃহিনী। বাবা শামসুল হুদা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭৭ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৭৯ সালে সরকারি এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৮১ সালে ঐ কলেজ থেকে তিনি বিকম পাশ করেন। ১৯৮৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।ফখরে আলমের এক ছেলে এক মেয়ের বাবা, স্ত্রী নাসিমা আলম তাঁর প্রেরণার উৎস। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

প্রকাশনা:- ফখরে আলমের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ…খবরের নায়কেরা : বিদ্যা প্রকাশ-ঢাকা , হাতের মুঠোয় সাংবাদিকতা: বিদ্যা প্রকাশ-ঢাকা, ডাকে প্রেম তুষার চুম্বন, দক্ষিণের জনপদ,সাগরদাঁড়ি থেকে হায়দ্রাবাদ, সুন্দরবনের মানুষ, নীলপদ্ম, আরও ভিন্ন ধরনের গ্রন্থ রয়েছে।পত্রিকায় তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের অজানা কথা ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছেন। বাংলার সাহসী মুক্তিযোদ্ধা নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছেন (নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তাঁর বংশধর : দৈনিক কালের কন্ঠ (সমপাদকীয় পাতা ), তারিখ: ০৮.০৭.২০১১। সিরাজ বংশধর : দৈনিক গ্রামের কাগজ, তারিখ: ২৩.৬.২০১৩। নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রিয় আম : দৈনিক কালের কন্ঠ (খবর, পাতা-২ ), তারিখ: ১৮.০৬.২০১৬)।সাংবাদিকতা:- ছাত্র জীবনেই তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮৫-৮৬ সালে ইত্তেফাক গ্রুপের সাপ্তাহিক ‘রোববার’ পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজের যশোর জেলা প্রতিনিধি পদে যোগ দিয়ে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। এরপর দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক যায়যায় দিন ও দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ১৯৯২ সাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতা:- কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় ফখরে আলম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ধান, ফুল, ফল, মাছ চাষ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচান্দা গ্রাম ও কৃষি বিপ¬বের নায়ক ওমর আলীকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখে দেশ জুড়ে সাড়া জাগিয়েছেন। তিনি গাইদঘাট কৃষি ক্লাব, বিষমুক্ত সবজি, কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেনকে নিয়ে কাজ করেছেন। এই অঞ্চলের কৃষির সম্ভবনা তার খবরের অন্যতম উপাদান। কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় তিনি ১৯৯৮ সালে বার্ক এর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। একই বছর তিনি কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় বিসিডিজেসি ও নোভার্টিজ এর ফেলোশিপ অর্জন করেন।

বৃক্ষ প্রেম:- ফখরে আলম একজন বৃক্ষ প্রেমিক। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ফুলের বাগান করে আসছেন। রাস্তার দুই ধারসহ কবরস্থানে কয়েকশ’ ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়েছেন। বিরল প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করা তাঁর শখ। তিনি এসব গাছের চারা কলম তৈরি করে অনেককে উপহার দিয়েছেন। তাঁর নিজের একটি বাগান রয়েছে। সেখানে ক্যাকটাস, অর্কিড, বনসাইসহ দেশ বিদেশের নানা প্রজাতির ফুল ফলের গাছ রয়েছে। তিনি প্রথম পুরস্কার, পুষ্প প্রদর্শনী, সৌখিন ফুল পাখি চাষি পরিষদ-১৯৯৫, প্রথম পুরস্কার, বৃক্ষ মেলা, জেলা প্রশাসন-বন বিভাগ, যশোর-১৯৯৬, প্রথম পুরস্কার, বৃক্ষ মেলা, জেলা প্রশাসন-বন বিভাগ, যশোর-১৯৯৭, ফল বৃক্ষ রোপনে জাতীয় পুরস্কার, কৃষি মন্ত্রণালয় ২০০৬, বৃক্ষ রোপণে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় পুরস্কার- ২০০৭ সহ যশোরের কৃষি ও বৃক্ষ মেলায় অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন।তার নিজস্ব একটি ভিন্ন ধরনের গাছের জাদুঘর রয়েছে। তিনি বিভিন্ন কবরস্থান, বসতবাড়ির আঙ্গিনা, রাস্তার দুই ধারে বৃক্ষ রোপন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সিনিয়র সাংবাদিক জনাবফকরে আলম বলেন, “১৭৫৭ সালের ০২ জুলাই বাংলার শেষ স্বাধীন বাংলার বীরদেশপ্রেমিনবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। অনেকের স্বৃতিতে না থাকলেও নবাব সিরাজউদ্দৌলার বংশধরদের কাছে দিনটি শোকের। তাঁরা এই দিন নবাবের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে, শ্রদ্ধার সংগে তাঁদের বংশের বাংলার বীরদেশপ্রেমিনবাবকে স্বরণ করেন। বাংলার বীরদেশপ্রেমিনবাব সিরজদ্দৌলার বংশধররা এখন ঢাকায় বসবাস করছেন। তাঁরা হচ্ছেন নবাবের ৮ম বংশধর সৈয়দ গোলাম মোস্তাফাএবং ৯ম বংশধর সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেবওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অব: প্রাপ্ত নির্বাহি প্রকৌশলি সৈয়দ গোলাম মোস্তাফাবর্তমানে সমাজ সেবা মূলক কাজের সংগে যুক্ত। আর বাংলার লক্ষকোটি প্রাণের যুবরাজ” নতুন প্রজন্মের সিরাজউদ্দৌলা- নবাবজাদা আব্বাসউদ্দৌলা “বীরদেশপ্রেমিনবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে গবেষনা করছেন। গড়ে তুলেছেন ঝঐঅইফ্রেন্ডশিপ গার্ডেন নামের একটি সংগঠন। তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা একাডেমিওনবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিষদের নির্বাহী প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকার খিলক্ষেত বারিধারার লেকসিটি কনকর্ডে নবাবের এই বংশধররা বসবাস করছেন।

বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন বীরদেশপ্রেমিনবাব সিরাজউদ্দৌলার রক্ত তাঁদের শরীরে প্রবাহিত হলেও তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে গেছেন। সাধারন মানুষের মতো বাসে চাপছেন, কাঁচাবাজারে যাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জীবন জীবিকার জন্য লড়াই সংগ্রাম করছেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলাপরিবারের রক্তধারা বংশধর হিসেবে তাঁরা বিশেষ কোন সুযোগ সুবিধা পাওয়া বা ফয়দা লোটার জন্য কখনোই নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেননি। নবাব আলীবর্দী খানের জন্ম ও মাতৃভূমি ইরানের সিরাজ প্রদেশে।আলিবর্দী খান ইরান থেকে এসে ১৭৪০ সালে বাংলার নবাব হন। তাঁর প্রাণপ্রিয়নাতী যুবরাজসিরাজউদ্দৌলা১৭২৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন দু বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার মসনদে বসেন। ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই মিরজাফরের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মিরনের নির্দেশে মোহাম্মদি বেগের হাতে তিনি নিহত হন। বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাব সিরাজ উদ্দৌলা পরিবারের ৯ম রক্তধারা প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলার পূর্ববর্তী বংশধরের কুষ্ঠি বিশ্লেষণ করে জানা যায় :- *নবাব সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে-উম্মে জোহরা ওরফে কুদসিয়া বেগম (নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার প্রথম বংশধর)।

(পিতা-নবাবসিরাজউদ্দৌলা, মাতা- বেগম লুৎফুন্নিসা, স্বামী-মুরাদউদ্দৌলা, পিতা-ইকরামউদ্দৌলা, নবাব সিরাজউদ্দৌলার ভ্রাতুষ্পুত্র)।

*জোহরার ছেলে-শমশের আলী খান, স্ত্রী-সৈয়দা আলীয়াতুন্নিসা বেগম (নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার দ্বিতীয় বংশধর)। মমতাজ বেগম, অল্প বয়সে মৃত্যু (২য় )।ফূননা বেগম, অল্প বয়সে মৃত্যু (২য় )।

*শমশেরের ছেলে- সৈয়দ লুৎফে আলী (নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার তৃতীয় বংশধর)। জায়নাল আবেদীন, নিঃসন্তান (৩য় )।

*লুৎফের মেয়ে- ফাতেমা বেগম, স্বামী-সৈয়দ মোহাম্মদ রেজা, বেগম লুৎফুন্নিসা পরিবারের ৪র্থ বংশধর (নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার চতুর্থ বংশধর)।

*ফাতেমার মেয়ে- হাসমত আরা বেগম, স্বামী-সৈয়দ আলী রেজা,ভারতের বীর টিপু সুলতান পরিবারের রক্তধারা বংশধর (নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার ৫ম বংশধর)। লুৎফুন্নেসা বেগম, নিঃসন্তান (৫ম )।

*হাসমত আরার ছেলে-সৈয়দ জাকি রেজা,স্ত্রী- ইয়াকুতি বেগম (নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার ৬ষ্ঠ বংশধর)।

*জাকির ছেলে-গোলাম মোর্তজা, স্ত্রী- নিখাত আরা, নবাব সরফরাজ খানের রক্তধারার অন্যতম বংশধর (নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার ৭ম বংশধর)। সৈয়দ বাবু, নিঃসন্তান (৭ম )।সৈয়দা কানজো, অল্প বয়সে মৃত্যু (৭ম )।চাঁদ বেগম, অল্প বয়সে মৃত্যু (৭ম )।

*গোলাম মোর্তজার ছেলে-প্রকৌশলী এস.জি. মোস্তাফা, স্ত্রীসহধর্মিনী- সৈয়দা হোসনে আরা বেগম,বেগম লুৎফুন্নিসা পরিবারের ৮ম বংশধর(নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার ৮ম বংশধর)। গোলাম মুজতবা, নিঃসন্তান (৮ম )।বেবি হামিদা বানু মুন্নি, নিঃসন্তান (৮ম )।

*এস.জি. মোস্তাফার ছেলে-সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা(নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার ৯ম বংশধর প্রজন্ম)। নবাবের ৯ম রক্তধারা প্রজন্মনবাবজাদা আব্বাসউদ্দৌলা সিরাজ পরিবারের আদর্শ, চেতনা, ভালবাসা ও স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ভালোবাসা বিনয় সততাদেশপ্রেমে কাজ করে যাচ্ছেন। নবাবজাদা আব্বাসউদ্দৌলা বলেন, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের শিক্ষা নেওয়ার ইতিহাস। এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলে তা প্রিয়জনের প্রতি ভালবাসা, দেশের প্রতি ভালবাসা, দেশি-বিদেশি দুষ্ট শক্তি ও কুচক্রীদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে আমাদের সাহায্য করবে।”নবাব সিরাজউদ্দৌলা বিষয়ক সাংবাদিকতায় ফখরে আলম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। বাংলারনায়ক নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখে দেশ জুড়ে সাড়া জাগিয়েছেন। তিনি নবাব সিরাজ উদ্দৌলা প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলাকে নিয়ে কাজ করেছেন।নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রজন্মের প্রতিতার সম্মাননা আদর ভালবাসা অনেক।আলাপচারিতার প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের ৯ম প্রজন্ম অর্থাৎ আমাকে যেসব সম্মাননা ও ভালোবাসা দিয়েছেন তা সবসময় আমার জীবনে সুন্দরতম স্মরণীয় মুহুর্তহয়েথাকবে।কিন্তু বিধি বাম দীর্ঘ অসুস্থতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা বিষয়ক গবেষক জনাব ফকরে আলম আজও শারিরীক ভাবে সুস্থ নন।নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের প্রিয়জন ও ভক্তশ্রদ্ধেয় জনাব ফকরে আলমের জন্য বাংলার সকলের দোয়া চাই।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category