জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর ১ম সমাবর্তন বঙ্গবন্ধু কে উৎসর্গ   

মোঃ জোবায়ের হোসেন খান, (জ.বি.): প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর প্রথমবারের মত ১১ই জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবর্তনে প্রায় ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েট কালো গাউন পরে উল্লাস করেছে। সমাবর্তনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাসে। যার প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে পুরান ঢাকাতেও।

সমাবর্তনের স্থান ধূপখোলা মাঠে নির্মাণ করা হচ্ছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গফিটের বিশালাকৃতির প্যান্ডেল। যেখানে সমবেত হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েট।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৬ টি বিভাগ ও দুটি ইন্সিটিটিউটের সমাবর্তন প্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদেরকে সমাবর্তন বা কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সনদ প্রদান করে আসছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে প্রাক্তন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা বরাবরই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাবর্তন দিতে হবে বলে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের জোর আন্দোলনে টনক নড়ে প্রশাসনের।

এরপর গত ০১ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ও সান্ধ্যকালীন ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা যারা অন্তত একটি ডিগ্রি জবি থেকে অর্জন করেছে তারাই অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে স্নাতক ১১ হাজার ৮৭৭ জন, স্নাতকোত্তর ৪ হাজার ৮২৯, এমফিল ১১, পিএইচডি ছয় ও ইভেনিং প্রোগ্রামের ১৫৭৪ জন অংশ নেবেনে। এর মধ্যে ছেলে ১৩ হাজার ৭৬২ ও মেয়ে ৪ হাজার ৫৫৫ জন।

যারা সুযোগ পেয়েও এ বছর সমাবর্তনে অংশগ্রহণ-আবেদন করেনি তারা আর কখনও সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সমাবর্তন উপলক্ষে ১৮ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট তৈরি করতে হচ্ছে। তবে সমাবর্তনে একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি সনদের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক ডিগ্রি অর্জনকারীরা সমাবর্তনের পর ডিগ্রির সনদ তুলতে পারবেন। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া সমাবর্তন গাউন শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে হচ্ছে না।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটরা আগামী ৭, ৮ ও ৯ জানুয়ারি অফিস চলাকালীন (সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা) সময়ে স্ব-স্ব বিভাগ হতে কস্টিউম, ব্যাগ ও গিফট সংগ্রহ করে। গ্র্যাজুয়েটরা আজ (১১ জানুয়ারি) বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত, ১২ জানুয়ারি ও ১৩ জানুয়ারি সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত স্ব-স্ব বিভাগ হতে মূল সনদ গ্রহণ করবেন। উল্লেখিত তারিখের মধ্যে কেউ সনদ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে মূল সনদ গ্রহণ করতে পারবে। জবির প্রথম সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এমিরিটাস প্রফেসর ড. অরুণ কুমার বসাক।

সমাবর্তন ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া  । ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও বিএনসিসি, রোভার স্কাউটদের প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারনায় আজ পুরান ঢাকায় থাকবে বাড়তি লোকারণ্য। বাড়তি চাপ সামলাতে পুরান ঢাকা এলাকায় ভারি যান চলাচল বন্ধ করে ট্রফিক পুলিশ।সমাবর্তন স্থলে শিক্ষার্থীরা সকাল ৮টা থেকেই ভেন্যুতে প্রবেশ করতে শুরু করে গ্র্যাজুয়েটরা। বেলা ১১টা ৫৫মিনিটে রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এদিকে সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন রুপে সাজানো হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনের রংয়ের কাজ করা হচ্ছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লাগানো হয়েছে ফুলের গাছ। আর সমাবর্তনের স্থান (ধূপখোলার মাঠ) আজ ইতিহাস গড়ে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমবেত হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনকে সামনে রেখে আগ্রহের কমতি নেই বর্তমান শিক্ষার্থীদেরও। তারাও সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের সাথে পরিচয় ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। সমাবর্তনের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগিত বিভাগের সাথে জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার মঞ্চ মাতাবেন বলে জানা যায়।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য্য জনাব আব্দুল হামিদ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অতপরঃ এমিরিটাস প্রফেসর ড. অরুন কুমার বসাক বক্তব্য রাখেন, তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নিকট তারা পড়াশোনা করে এত দূর আসতে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে ছাত্র ছাত্রীদের উৎসাহিত করেন।

উপচার্য্য জনাব প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন যে, গ্র্যাজুয়টদের কর্মস্থলে দক্ষতার পরিচয় দেখাতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য্য জনাব আব্দুল হামিদ বলেন যে, শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের চেয়ে প্রাইভেট ভার্সিটি আর ইভেনিং এর প্রতি বেশী আগ্রহী। নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। তাছাড়াও তিনি অত্র সমাবর্তন অনুষ্ঠান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে উৎসর্গ করায় ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ কে ধন্যবাদ জানান।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category