চাকুরির প্রলোভনে ঢাকায় গিয়ে ধর্ষিত নওগাঁর কলেজ ছাত্রী !

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, নওগাঁ: চাকুরির প্রলোভন দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক করে ধর্ষণে শিকার হয়েছেন এক কলেজ ছাত্রী (২১)। ‘হ্যালো ডক্টরস বিডি’ তে চাকুরির প্রলোভোনে ঢাকায় গিয়ে ধর্ষণের স্বীকার হয় সে। একাধিকবার ধর্ষণে ওই কলেজ ছাত্রী অন্তসত্তা হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাড়ি মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউ’পির সাবাইহাটে। সে রাজশাহী মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। আর প্রেমিক সাফিউল আল মাসুম (২৯) চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার ঘিওন গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। ঘটনায় ওই ছাত্রী একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী চাকুরির জন্য ‘হ্যালো ডক্টরস বিডি’ তে অনলাইনের মাধ্যমে জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) প্রদান করেন। সিভি থেকে প্রাপ্ত ফোন নম্বর নিয়ে চাকুরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে সাফিউল আল মাসুম বিভিন্ন সময় ফোনে কথা বলেন। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে তার সাথে পরিচয় হয় এবং চাকুরি দেয়ার কথা বলে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় দেখা করতে বলে। সেখানে তার সাথে দেখা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে চাকুরির নিয়োগপত্র দেয়ার কথা বলে ঢাকার শ্যামলীতে দেখা করতে বলা হয়। শ্যামলীতে যাওয়ার পর একটি অজ্ঞাতনামা হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে সাফিউল আল মাসুম বিয়ের প্রলোভন দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর থেকে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় ডেকে নেয় এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সময় অতিবাহিত করে। গত ৩/১/১৯ ইং তারিখে ঢাকার আমিন বাজারে মিম হাউজ নামে তার ভাড়া করা বাসায় বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে আবারও ধর্ষন করে এবং ২৯/০৩/১৯ তারিখ পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে। সেখানে বসবাসের সময় বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানান তালবাহানা শুরু করেন সাফিউল আল মাসুম। পরবর্তীতে বিয়ে না করায় ওই ছাত্রী সেখান থেকে রাজশাহী চলে আসে।

পরবর্তীতে সাফিউল আল মাসুম রাজশাহীতে এসে আবারও ওই ছাত্রীকে বিয়ে কথা বলে চট্টগ্রামে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে ৭/৫/১৯ তারিখে অংলকার হোটেলে থাকার সময় আবারও ধর্ষণ করে। এতে ওই ছাত্রী অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়ে। বিষয়টি সাফিউল আল মাসুমকে জানানো হলে বাচ্চা নষ্ট না করা হলেও বিয়ে করবে না জানিয়ে দেয়া হয়। এতে ওই ছাত্রী গত ১০/০৬/১৯ তারিখে গর্ভপাত করে। কিন্তু তারপরও সাফিউল আল মাসুম আজকাল বিয়ে করবে বলে সময়ক্ষেপন করছেন। নিরুপায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী মান্দা থানার মাধ্যমে সাভার থানায় একটি অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি মামলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ঘটনাটি ঢাকার সাভার থানায়। ওই ছাত্রীসহ তার পরিবারসহ আমার কাছে আসছিল। সাভারে মামলা করার জন্য তাদের আইনগত পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category