আম্পানের পর চিংড়ি প্রকল্পে সরকারের করণীয় মন্তব্য করেন - সামিয়া স্রীম্প এক্সপোট লি.

ঘুর্ণিঝড় আম্পানের পর চিংড়ি প্রকল্পে সরকারের করণীয় মন্তব্য করেন সামিয়া স্রীম্প এক্সপোর্টিং লি.

নিজেস্ব সংবাদ দাতা (কালের সংবাদ ডেস্ক): সময়ের চাহিদার কারনে এখন দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৮২-৮৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে চিংড়ি চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সাতক্ষীরা-বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বর্ণ সম্পদ হিসাবে চিংড়ি চাষ শুরু হয় ঐ আশির দশকে। কিন্তু গত ৬-৭ মাসে দু-দুবার সাইক্লোন হয়ে গেলো ও মহামারী করোনা বর্তমান থাকার ফলে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন এদেশের স্বর্ণ হিসাবে পরিচিত চিংড়ি চাষীরা।

 

বাংলাদেশের উৎপাদিত চিংড়ির অধিকাংশই চাষই হয় এদেশের দক্ষিণের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায়। অবশ্য কিছু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় নোনাপানি ধরে রেখে স্বল্প পরিমাণে বাগদা ও গলদা চিংড়ির চাষ হয়তেছে বর্তমানে। আবার ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে চিংড়ি এক্সপোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো প্রায় ৫০০-৫২০ মিলিয়ন ডলার। কারন গত অর্থবছরে রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের চিংড়ি ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ।

 

বর্তমান মহামারী করোনাভাইরাসের ছোঁয়ার কারণে পশ্চিমা দেশগুলি ও আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী চলমান মহা বিপর্যয়ের পরিস্থিতির মহাধস এসে পড়েছে এদেশের বিকাশমান রপ্তানি খাত চিংড়িতেও । বিভিন্ন দেশের ক্রেতারাও এই ফেব্রুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত বহু ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে, যাহাতে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলেছেন ব্যবসায়ীরা। আমাদের নিজেস্ব প্রতিনিধি এদেশের একটি ১৬০০ বিঘা চিংড়ি প্রজেক্ট “সামিয়া স্রীম্প এক্সপোটিং লিমিটেড”-এর মালিকের সংগে ফোনে আলাপ কালে জানতে পারেন যে এই প্রকল্পেই তার গত কয়েক মাসে বিশাল অংক খতির মুখে পরেছেন যা সার্বিক সরাসরি সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই সামিয়া স্রীম্প এক্সপোটিং লি.- কে দাঁড় করানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। এই প্রকল্প সরকারি সহযোগিতা পেলে অতি সত্তর আবার দাঁড়িয়ে যাবে এবং এতে সরকার উপকৃত হবেন বেশী গুনে, বেকারত্ব দূর হবে, সরকারের অর্থনৈতিক সুবিধাও বাড়বে বলেছেন সামিয়া স্রীম্প এক্সপোটিং লি.-এর কর্ণধার।

 

এ মাসের প্রথম দিকে কিছু ক্রয়াদেশ আসতে সুরু করেছে বিদেশ থেকে কিন্তু গত ঘুর্ণিঝড় আম্ফান আবার এক মহাধস নিয়ে এলো এই মুহুর্তে। এই ক্রেতা গুলি দাম খুব কম বলছেন। অতীতে দাম ছিলো ২০ গ্রেডের মাছের প্রতি পাউন্ড ছয় হতে সারে ছয় ডলার করে বিক্রির ক্রয়াদেশ আসছিল, কিন্তু এখন ঐ সব ক্রেতারাই দাম বলছেন ৪ দশমিক ৮৫ ডলার হতে ৪ দশমিক ৯০ ডলার করে। এর ফলে চিংড়ি প্রজেক্টের ইনভেষ্ট তুলে আনা কষ্ট সাধ্য হয়ে পরবে বলেন সামিয়া স্রীম্প এক্সপোট লি.-এর মালিক।এটি এক্সপোট মুল্য। তিনি বলেন, যাহারা আমার ঘের থেকে কিনবেন তখন আমাকে দিচ্ছেন আরো অনেক কম মুল্য। আগে বাজারে দাম ছিলো ২০ গ্রেডের চিংড়ি প্রতি কেজি ৬৯০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত । এই পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরা জেলার হাজারো চিংড়ি চাষী লোকসানেই আছেন।

 

চাষীরা মনে করছেন এই মুহুর্তে সরকার যদি সরাসরি ঘের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে স্বল্প সুদে সরাসরি সহযোগিতা করেন তবেই এই এই চিংড়ি প্রকল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। এই মওসুমের প্রথমে চিংড়ির দামটা ছিল খুব ভালো। এই মহা করোনাভাইরাস হওয়ার আগ পর্যন্ত গলদা চিংড়ি বিক্রয় হয়েছিল প্রতি কেজি ১১৭৫ টাকা থেকে ১৪৮০ টাকা। আমাদের দেশের চিংড়ি চাষ খরচ বিশ্ববাজারের মূল্যের চেয়ে অনেক কম এখনও তাই সারা বিশ্বে অনেক চাহিদা আছে বা থাকবে সবসময়। মালিক আরো বলেন, বৈদেশিক বাজারে চিংড়ি বিক্রয় এর যোগ্যতা থাকে, ঘের থেকে ধরে হিমায়িত করার ছয়মাস পর পর্যন্ত । এতে কোন প্রকার গণগতমানের সমস্যা হয় না।

 

 

সাতক্ষীরায় চিংড়ি চাষ, পোনা প্রস্তুত ও হিমায়িতকরণ কাজের সহিত বহু মানুষ জড়িত আছেন বলেন সামিয়া স্রীম্প এক্সপোটিং লি. মালিক। তিনি মনে করেন, যদি সরকার এই মুহুর্তে সঠিক ভাবে পর্যালোচন করে এই প্রকল্পকে প্রণোদনা প্রদান করেন তবে এই খাতও সরকারের অর্থনৈতিক মোকাবেলায় একটি বড় হাতিয়ার হয়ে ফিরে আসবে। সামিয়া স্রীম্প এক্সপোটিং লি.-এর মালিক আরো বলেন, যদি এই সময়কালে চিংড়ির রপ্তানি প্রণোদনা পূর্বের শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০-২৫ শতাংশ করা হয় তবে কম মল্যেও বিক্রয় করলে কোন ক্ষতির মুখে পরবো না। এতে ক্রেতারাও এগিয়ে আসবেন কিছু কম দামে পাওয়ার জন্য।

 

 

ইণ্ডিয়ার ভেনামি চিংড়ি চাষ ব্লক, হিঙ্গলগজ্ঞ ও হাসনাবাদে করোনার কারনে অনেক ক্রেতাই বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়েছিল । কিন্তু এখন এই ঘুর্নিঝড় আম্পানের কারনে আমাদের দেশের ঘেরের এরিয়ার চেয়ে অনেক বেশী খতির মুখে পরেছে ।সামিয়া স্রীম্প এক্সপোট লিমিটেড এর মালিক মনে করেন,  ইণ্ডিয়ার ভেনামি চিংড়ি চাষ ব্লক, যার ফলে আবার ঐ ক্রেতা গুলিকে সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব যদি অনতিবিলম্বে চিংড়ির ঘের গুলির নিকট সরকার স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্হা করেন ।

 

 

এম কে ইসলাম/

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category