গান ডাউনলোডের অন্তরালে জমজমাট পর্ণ ছবির ব্যবসা

এস.এম সহিদুল ইসলাম, (কালীগঞ্জে, লালমনিরহাট): দেশ ও জাতির উন্নয়নে আধুনিক পদ্ধতির বিকল্প নেই। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সব কিছুতেই লাগছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এর যেমন রয়েছে সুফল তেমনি রয়েছে কুফলও। পর্নোগ্রাফির সহজলভ্য হওয়ায় প্রযুক্তিকে অপব্যবহার করে যুব সমাজে অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে পর্নোগ্রাফি এরই ফলে হারাচ্ছে যুবকরা মূল্যবোধ ও নৈতিকতা।এ কারণে তারা ইভটিজিং ও ধর্ষনের মত নানা সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছে।প্রতিনিয়ত ঘটছে ইভটিজিং ও ধর্ষণের মত ঘটনা।
 যে কারণে স্কুল মাদ্রাসা কলেজের শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে অভিভাবক মহল। দেশের অবৈধ এ পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র মোবাইলের মেমোরিতে ধারণ ও বিপনণ ব্যবসা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি আইন থাকলেও সরকারের প্রনীত এ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উপজেলার বিভিন্ন  কম্পিউটারের দোকান ও ষ্টুডিও তে  নির্ভয়ে চালানো হচ্ছে অবৈধ অশ্লীল ভিডিও চিত্রের লোড কার্যক্রমের জমজমাট ব্যবসা।
এসব পর্ণ ছবির ছোবলে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা বিপথগামী হচ্ছে। প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা ডাউনলোডের অন্তরালে বিশেষ ইশারায় এসব পর্ণ ভিডিও মেমোরিতে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এলাকার অভিভাবক মহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলায় যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে কম্পিউটারের দোকান।এ সকল দোকানে দিন-রাত প্রকাশ্যেই মেমোরি লোডের মাধ্যমে সমাজের জন্য ক্ষতিকর নীল ছবির জমজমাট ব্যবসা চলছে।এসব ব্যবসায়ীরা আলাদা হার্ডডিক্স ও পেইনড্রাপে পর্নো ছবি সংরক্ষণ করে রাখে। মাত্র ১০-১৫ টাকার বিনিময়ে খুব সহজেই এসব পর্নো ছবি লোড করতে পারায় দোকানগুলোতে উঠতি বয়সের যুবক ও ছাত্রদের ভিড় লেগেই থাকে। কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম, কালভৈরব  বাজারের মা টেলিকম, প্রোঃ আমির হোসেন, নয়ন কম্পিউটার,প্রোঃ নয়ন,আকাশ কম্পিউটার,প্রো: আকাশ,প্রতিক কম্পিউটার, প্রোঃ  প্রকাশ চন্দ্র রায়, বিপ্লব কম্পিউটার, প্রোঃ বিপ্লব, মমিদুল কম্পিউটার প্রোঃ মমিদুল ইসলাম, রবিন কম্পিউটার,প্রোঃ জেনারেটর রবিন্দ্রনাথ বাবুল সহ  নাম না জানা অনেক হাট বাজারে পর্ণগ্রাফি ব্যাবসায়ী রয়েছেন।
এসব ব্যাবসায়ীর সরকারি নেই কোন অনুমোদন কিংবা ট্রেড লাইসেন্স। বর্তমানে তরুণ ও যুবসমাজের একটি বৃহৎ অংশের কাছে এখন মাদকের নেশার চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে দেখা দিয়েছে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও দর্শন করা। এ কারনে যুবসমাজের দ্রুত চারিত্রিক ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েরাও জড়িয়ে পড়ছে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে। এতে করে এলাকায় অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের মাঝে যৌন বিষয়ে আগ্রহ বাড়ার সাথে সাথে যৌন হয়রানি এবং ইভটিজিং-এর প্রবণতা বাড়ছে।  পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৮/৩ ধারা অনুসারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট,মোবাইল ফোন বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য সর্বেচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
উত্তর দলগ্রাম আর্দশ স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ এ পর্নো ছবি ব্যবসার ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কম্পিউটার প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জব্দ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নয়তো দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাবে তাদের সন্তানদের জীবন।
এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category