0

গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা কতটুকু?

তন্ময় আলমগীর, ঢাকা: সড়কে নারীদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলোর পাশাপাশি ঘটে চলেছে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা হলেও গণপরিবহনে নারীর নিপীড়িত-নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি খুব কমই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ নারী অধিকার সংগঠকদের।

নারী নেত্রীরা বলছেন, সড়কে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা কমাতে নানা পর্যায় থেকে বিভিন্ন দাবি-পরামর্শ উপস্থাপিত হলেও আড়ালেই থেকে যাচ্ছে গণপরিবহনে চলাফেরায় নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি। নারীবান্ধব যানবাহন না থাকাই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নারীবান্ধব যানবাহন, চালক ও সহকারী থাকতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে যাত্রীদের মানসিকতায়ও।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে নারীর নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষিত ড্রাইভারের অভাব একটি বড় সমস্যা। নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়তে ও পেশাগত নারী গাড়িচালক তৈরির কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নারী গাড়িচালক প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ব্র্যাকের ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় ৯৪ শতাংশ নারী মৌখিক, শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারাই যৌন হয়রানির শিকার হন বেশিরভাগ নারী, যার হার ৬৬ শতাংশ। নারীদের যৌন হয়রানির মূল কারণ হচ্ছে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা, বাসে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনে পর্যাপ্ত আলোর অভাব ইত্যাদি।

ঢাকার অনেক পরিবহনে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারীদের, আর এমনই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে যৌন নিপীড়করা

প্রতিবেদনে বলা হয়, শারীরিকভাবে যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে ৮১ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা চুপ থাকেন এবং ৭৯ শতাংশ বলেছেন আক্রান্ত হওয়ার স্থান থেকে সরে যান।

এ ব্যাপারে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি প্রোগ্রামের জেন্ডার স্পেশালিস্ট হোসনে আরা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, সমান অধিকারের কথা বললেও সমঅধিকার নীতি এখনো আমরা করতে পারিনি। শুধু গণপরিবহন নয়, নারীর চলাচলের সবদিকই আমাদের ভাবতে হবে।

গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তার কথা বলছি, কিন্তু পরিবহনে হয়রানির পর শুধু কয়েকটি সংগঠন বা কয়েকজন নারীই প্রতিবাদ করেন। স্বাধীনভাবে গণপরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থা বা ধর্মীয় সংগঠনের এগিয়ে আসা উচিত।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category