গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপিকে সংসদে যোগদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কালের সংবাদ ডেস্কঃ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে গণতন্ত্রের স্বার্থে জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন, কাজেই বিএনপি’র দুর্নীতির মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

তিনি বলেন, ‘যে কয়টা সিটে তারা (বিএনপি) জিতেছে। তারা যদি চায় তাহলে গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের সংসদে আসা প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কৃতকর্মের জন্য, দুর্নীতির জন্য যেসব মামলা হয়েছে সেসব মামলা তার আপন গতিতে চলবে। কেননা বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন।’

শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানী বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার প্রারম্ভিক ভাষণে এ কথা বলেন।

নিজেদের দোষেই এবারের বিএনপি’র ভরাডুবি হয়েছে, এমন ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে এই দোষ তারা কাকে দিবে। দোষ দিলে নিজেদেরকেই দিতে হয়। কারণ, একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে তাহলে সেই রাজনৈদিক দল কিভাবে নির্বাচনে জেতার কথা চিন্তা করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের মাঝে আজকে এই উপলব্ধি এসে গেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে তারা ভাল থাকে, তাদের জীবন-মান উন্নত হয়। দারিদ্র্যের কষাঘাতে তাদের জর্জরিত হতে হয় না। তারা শান্তিতে থাকতে পারে। তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটানা ১০ বছর হাতে সময় পেয়েছিল বলেই বাংলাদেশ আজকে সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার উল্লেখ করে বলেন, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় ছিল নারী, তরুণ এবং প্রথম ভোটার হওয়া ভোটার সহ সর্বস্তরের ভোটারদের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ততা। আর ভোট দানের প্রতি তাদের আগ্রহ ও লক্ষ্যণীয় ছিল।
তিনি বলেন, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, মেহনতী মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সবার মনে একটা আকাঙ্খা ছিল- আওয়ামী লীগ আসলে তাঁরা ভাল থাকবে, দেশটা ভাল চলবে, দেশটা উন্নত হবে।

এবারের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা গুটিকতক স্থানে বিএনপি-জামাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ এনে বলেন, ‘কোথাও তারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে, কোথাও তারা নির্বাচনটাকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের অপকর্মের জন্য বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে। যার মধ্যে আমাদের দলের নেতা-কর্মীরাও রয়েছে।’

তাঁর কাছে নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রমাণ রয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল যেকোনভাবে যেন নির্বাচনটা বানচাল করা যায়।’

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি তারা করেছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, এই মামলাতো আওয়ামী লীগের দেওয়া না। এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেওয়া। আর ঘুষ দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিং এরতো আন্তর্জাতিকভাবেই খবর বেরিয়েছে।’
আমেরিকা, কানাডা এবং সিঙ্গাপুরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তেই এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, এমনকি আমেরিকা থেকে এদেশে এসে এফবিআই সাক্ষ্যও দিয়ে গেছে, বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা শুধু এইটুকুই বলতে পারি আমরা যখনই সরকারে এসেছি দেশের জন্য দেশের জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমরা কিন্তু কোন রিভেঞ্জ (প্রতিশোধ) নিতে যাই নি বা কাউকে কোন হয়রানি ও করতে যাইনি।’

সুত্র: বাসস

এনআই/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category