ক্রিকেটার চামেলীর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন মেয়র, সাকিব-মুস্তাফিজ সহ প্রথম সারির ক্রিকেটাররা

খেলার খবর:  বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অলরাউন্ডার চামেলী খাতুনের (২৭) সহায়তায় এগিয়ে এলেন মেয়র, সাকিব-মুস্তাফিজ সহ জাতীয় দলের প্রথম সারির ক্রিকেটাররা।সেই সাথে দাঁড়াতে শুরু করেছেন সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বুধবার অসুস্থ ক্রিকেটার চামেলী খাতুনকে দেখতে যান মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য নগদ এক লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন তিনি।

এ সময় মেয়র লিটন সাংবাদিকদের বলেন, অসুস্থ ক্রিকেটারের পাশে আমার দাঁড়ানো উচিত মনে করেই তাকে দেখতে এসেছি। চামেলী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারলাম, তারা নিদারুণ সংকটে আছেন। চামেলী খাতুনের চিকিৎসার পুরোপুরি ব্যয়ভার মেটাতে যা করা দরকার করবো। সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও করবো। জরাজীর্ণ যে বাড়িতে তারা বসবাস করছেন, সেটি নিয়ে কী করা হয় পরবর্তীতে সেটাও করবো। এছাড়া চামেলীর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করবো।

অন্যদিকে  চামেলীর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান।

চামেলী জানান, আমার এই কঠিন সময়ে এগিয়ে এসেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। গতকাল রাতে ফোন দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান ভাইও। তারা দুজনই আমাকে সর্বাত্মক আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

বাদ যায়নি জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম সারির ক্রিকেটাররা। এরই মধ্যে বিসিবির উচ্চ পর্যায় থেকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আশ্বাসও মিলেছে। খোঁজ নিয়েছেন আনসার বাহিনীর প্রধানও।

২০০৮ সালে চামেলীর ডান পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এর কমাস পর ছিঁড়ে হাতেরটা। চিকিৎসায় একটু সুস্থ বোধ করলেও খেলা ছাড়েননি। ২০০৯-এ ব্যায়ামাগারে ভারোত্তোলন করতে গিয়ে প্রথম কোমরে ব্যথা পান। বিশ্বকাপ খেলার জন্য সে ব্যথাও সহ্য করেছিলেন বছর দুয়েক। কিন্তু তারপর আর পারেননি।

বিশ্বকাপ শেষে দেশের প্রথম প্রমীলা নারী দলের সবাইকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল আনসার ভিডিপি সদর দফতর থেকে। চামেলির আনসার ক্রমিক ৬৭২। চাকরি সরকারিকরণ হওয়ার পর তিনি ২০১২-তে খেলা ছেড়ে দেন। তত দিনে কোমর ও পিঠের ব্যথাটা বেশ বেড়েছে। বাবাসহ পরিবারের তিনজন সদস্য এখনো তার ওপর নির্ভরশীল। বছর খানেক আগে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন তার ভার্টিভারা কলামের অর্থাৎ মেরুদণ্ডের মূল হাড়ের যে জয়েন্ট, তার ফাঁকে যে ডিস্ক থাকে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসক দ্রুত সার্জারির পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে চামেলি তা করতে পারেননি। বছর না ঘুরতেই অবস্থার অবনতি হয়ে যায়। এখন অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে পুরো ডান পাশ তার অবশ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় একমাত্র চাকরিটাতেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন তিনি।

ক্রিকেটার চামেলী খাতুন জানান, গণমাধ্যমের কল্যাণে এখন অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এনআই/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category