কেশবপুরে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া আ’লীগের ৯, বিএনপির ৩ প্রার্থী

মো:অহেদুজ্জামান, (যশোর,কেশবপু):    আসন্ন যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পেতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৯ প্রার্থী মরিয়া হয়ে উঠেছে। ধানের শীষ প্রতীক পেতে বিএনপির ৩ প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সরব থাকলে বিএনপির প্রর্থীদের তৎপরতা কম বলে জানা গেছে।

গত ২১ জানুয়ারী যশোর-৬ কেশবপুর আসনের এমপি সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুর পর এ আসনটি শুন্য হওয়ায় পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আগামী দিনের অভিভাবক কে হচ্ছেন এই নিয়ে রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলে চলছে চুলচেরা আলোচনা

এই আলোচনা-সমলোচনা শুধু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন হাট, বাজার, চায়ের দোকান, মাঠে ময়দানের সকল মানুষের মধ্যে। কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি এ আলোচনা যেন টক অব দি উপজেলায় পরিনত হয়েছে। আলোচনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের মতের বাইরে থেকে কাউকে মনোনয়ন দিবেন কিনা,

যদি মতের বাইরের কাউকে দেন তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হবে, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হলে উপজেলা নির্বাচনের মত নৌকার বিপরীতে কোন আওয়ামী লীগের কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাড়াবে কিনা- সেই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হতে পারে ইত্যাদি..ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনায় সরব কেশবপুরের রাজপথ।

সবমিলে এ আসনের সাধারন নেতা-কর্মী ও ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। জাতীয় সংসদীয় আসন ৯০ যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় দৌড়ঝাপে রয়েছেন, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস.এম রুহুল আমীন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ও কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হুসাইন মোহাম্মদ ইসলাম,

সদ্য প্রয়াত ইসমাত আরা সাকেকের মেয়ে প্রকৌশলী নওরীন সাদেক, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ.এম আমীর হোসেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহিন চাকলাদার, সাংবাদিক শ্যামল সরকার, চিত্র নায়কা শাবানার স্বামী ওয়াহেদ সাদেক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ রফিক ও সদ্য অবসরকৃত সিভিল সার্জন ডাঃ শামসুজ্জামান।

এই ৯ সম্ভব্য প্রার্থীদের মধ্যে এস.এম রুহুল আমীন, এ্যাড. ইসলাম, নওরীন সাদেক, আমীর হোসেন ও শাহিনচাকলাদার উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সাথে তারা মতবিনিময় ও গনসংযোগ অব্যাহত রেখেছে। বাকী প্রার্থীরা এখনও নির্বাচনী মাঠে অদৃশ্য রয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরের আগামী দিনের অভিভাবক হতে উক্ত আওয়ামী লীগের সম্ভব্য প্রার্থীরা নৌকার টিকিট পেতে দলীয় হাইকমান্ডসহ মনোনয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে যোগাযোগ ও তাদের খুশি করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন শুরু করেছে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ, অমলেন্দু দাস অপু ও কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএনপির নেতা আব্দুস সামাদ বিশ্বাস। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করলেও সরাসরি এখনও তাদেরকে নির্বাচনী মাঠে প্রচার করতে দেখা যাইনি।

গত ২৪ জানুয়ারি কেশবপুরে আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রায়ত ইসমাত আরা সাদেকের শোক সভায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। এ দল থেকে একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই নির্বাচন করবেন। দল চাইলে তিনি নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছেন।

এ আসনের মোট ভোটার প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার জন। দেশ স্বাধীনের পর কেশবপুর আসনে সর্বপ্রথম এম এন এ নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত সুবোদ কুমার মিত্র, ১৯৭৩ সালে অবিভক্ত কেশবপুর, মনিরামপুর অঞ্চরে সংসদ নির্বাচিত হন বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াতঃ গাজী এরশাদ আলী.

১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের, ১৯৯১ সালে জামায়াত থেকে মাওলানা সাখাওয়াৎ হোসেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ এস এইচ কে সাদেক, ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় এ এস এইচকে সাদেক, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল ওহাব, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ইসমাত আরা সাদেক ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে ইসমাত আরা সাদেক পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন।

 

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category