Wednesday, November 18th, 2020




কিশোর স্মৃতি

কবি:- এ কে সরকার শাওন

কাব্যগ্রন্থঃ পথে-প্রান্তরে

——————————–

 

বাবার কাঁধে দোল খেতে খেতে

কুমিল্লা থেকে বরিশাল,

শস্য-শ্যামল বিস্তৃত জল,

নদী-বিল খাল আর খাল।

সুগন্ধ্যা, ধানসিঁড়ি আর

বিষখালী নদীর পাড়ে,

প্রিয় ঝালকাঠির স্মৃতিতে আজও

মন আছে ভরে!

স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলতাম

স্কুলের ও দলের একাদশে!

সেরা খেলোয়াড় স্বপন কাকু,

শেখাতেন ভালবেসে!

খাল কাটতে গেছিলাম দূরে

ছাত্র শিক্ষক মিলে,

কিশোর আমিও খাল কেটেছি,

ধানসিঁড়ি নদীর কোলে!

তুলা পট্টির খোকন রুপম

কাপড়িয়া পট্টির নান্না খোকন,

কাঠ পট্টির গৌতম নট্ট,

গোপাল আর প্রিয় ইকবাল;

কাসা পট্টির বিপুল গৌতম

সাহা পট্টির রহিম বাচ্চু

আর বনিক নিতাই শ্যামলাল,

আরও কত বাল্যবন্ধু,

ছুটছে তো ছুটছে জনে জনে;

কে কোথায় আছে বিধাতা জানে;

সবাইকে খুব পড়ে মনে।

বন্ধু ইউনুস হারিয়ে গেল

নদীর স্রোতের তোড়ে!

তাঁর হাসির ঝিলিক আজো,

তীর হয়ে বিঁধে অন্তরে!

ভর দুপুরে দল বেঁধে নাইতে নামা,

প্রমত্তা বিষখালীর ডাকঘাটার ঘাটে!

নৌকায় চড়ে হাওয়া হয়ে যাওয়া

বাসন্ডা ও নবদীপের হাটে!

মুকুন্দ স্যারের বেতের বাড়ি,

হাই বেন্চে জিভ বের করে,

দাড়িয়ে সঙ সাজা কান ধরে,

কাঠপট্টির বিশাল চরে!

নদীর পাড়ে আমরা সবাই রাজা!

স্কুল ফাঁকি দিয়ে কত কি খেতাম,

নোনতা বিস্কুট চানাচুর ভাজা,

কাউফল ডাব তরতাজা;

আর প্রিয় তিলের খাজা!

ঝালকাঠি পুড়ে ছাই হলো

একাত্তরের এপ্রিলে;

ইছানীল থেকে আমরা দেখলাম

চোখের নোনাজলে!

শীতলাখোল থেকে বাসন্ড়া,

ডাকঘাটা থেকে ষ্টীমার ঘাট,

কত কথা মনে পড়ে।

গাজী রকেট আর অস্ট্রিচের

ভেপুর শব্দ ঠাঁই নিয়েছে

আমার মনের নীড়ে!

কত সুর কত গান কত স্মৃতি

হারানো দিনগুলি ঘিরে!

শৈশবের সেই সোনালী দিনগুলি;

ইশ যদি আবার আসতো ফিরে!

দিনের পর দিন যায়,

স্মৃতির পরে স্মৃতি,

তবু আজো আগের মতই আছে

কিশোর বেলার স্মৃতি!

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category