কলকাতায় বিজেপি মিছিলে ১০ হাজার ফুলের পাঁপড়ি ছড়ানো হবে

বিপ্রদ্বীপ দাস, (হুগলী, কলকাতা, ভারত): ভোট রাজনীতির বাজারে গাদা ফুলের চাহিদা একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। অত্যধিক গরমে যখন ফুল ছোট হয়ে যাওয়া থেকে পাপড়ি ঝরে যাওয়ার সমস্যায় জর্জরিত চাষিরা, তখন তাঁদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে রাজনীতির প্রচারে ফুলের মালা ও পাপড়ি কেনার হিড়িকে।ষষ্ঠ দফা লোকসভা নির্বাচনের পর এবার সপ্তম দফা লোকসভার নির্বাচন। আর শেষ দফার নির্বাচনের আগে রাজ্যে একাধিক সভার পাশাপাশি মঙ্গলবার কলকাতায় রোড শো করার কথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের।

বিজেপির দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ধর্মতলা থেকে সিমলা স্ট্রিট পর্যন্ত এই র‌্যালি চলাকালীন যাত্রাপথে রাস্তার দু’ধারের বহুতল থেকে গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দলের নেতাকে বরণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এদিনের এই অনুষ্ঠানে ফুলের পাপড়ি জোগানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলাকে। আর সেই মতো গত তিনদিন ধরে শতাধিক পুরুষ-মহিলা কর্মী রাতদিন ধরে গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছাড়ানোর কাজ করে চলেছেন।

জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারের র‌্যালিতে হাওড়া গ্রামীণ জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কেজি গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণে ফুল সংগ্রহ সম্পর্কে চাষিদের মতে হাওড়া জেলার বাগনানের বাকুড়দহ, বাঁশবেড়িয়া, চাঁদবেড়িয়া, বাগনান, আন্টিলা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া, হাউর থেকে গাঁদা ফুল সংগ্রহ করার পর ফুলের বোঁটা থেকে পাপড়ি আলাদা করে শুকিয়ে প্রস্তত করা হচ্ছে।রাজনীতির প্রচারে ফুল সরবরাহ করার বিষয়ে বাকুড়দহ গ্রামের ফুল চাষি পুলক ধারা বলেন, এমনিতে অত্যধিক গরমে গাঁদা ফুলের বাজার একদম তলানিতে ঠেকেছে।

তাই এত বিপুল পরিমাণে গাঁদা ফুল সরবরাহের বরাত পাওয়ায় আর্থিক দিক থেকে আমরা অনেকটাই লাভবান হব। আরেক ফুল চাষি পলাশ মাইতির মতে, অত্যধিক গরমে ফুলে পোকা হয়ে যাওয়া থেকে ফুল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সেভাবে বিক্রি না হওয়ায় অধিকাংশ দিন গাঁদা ফুল ফেলে দিতে হতো। সে কারণে আচমকা এত বিপুল পরিমাণে গাঁদা ফুলের বরাত পাওয়ায় সেই ক্ষতিতে অনেকটাই প্রলেপ দেওয়া যাবে।এ বিষয়ে বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রত্যূষ মণ্ডল বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট রাজ্যের অন্যতম ফুলের বাজার আর সেই কারণে এই বাজার থেকে এত পরিমাণ ফুল পাওয়া সম্ভব বলেই আমরা দায়িত্বটা নিয়েছিলাম।

তিনি জানান, এই বিপুল পরিমাণে ফুল সরবরাহে একদিকে যেমন আমাদের প্রয়োজন মিটছে, অন্যদিকে সেইরকম ফুল চাষিরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category