করোনা-ভাইরাসঃ-অমীমাংসিত-যতো-প্রশ্ন

করোনা ভাইরাসঃ অমীমাংসিত যতো প্রশ্ন

মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন:

১৭২০ সালের মহামারীঃ বিউবোনিক প্লেগ

বিউবোনিক প্লেগ ইউরোপে কয়েক শতাব্দীকাল ধরে টিকে ছিলো। ১৩৪৭ সালে প্রথম বড় আকারে বিউবোনিক প্লেগ সংক্রমণ ঘটে, যেটিকে ব্ল্যাক ডেথ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭২০ সালে সর্বশেষ যে বিউবোনিক প্লেগের সংক্রমণ ঘটে সেটি বৃহৎ আকারের মহামারী ছিলো, এটিকে মার্সেইয়ের দুর্দান্ত প্লেগও বলা হয়। ধারণা করা হয় যে, এই ব্যাক্টেরিয়া সংক্রামিত মাছি দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে।

১৭২০ সালের মহামারী

                                                                                        ১৭২০ সালের মহামারী

ইউরোপের সমাজ কাঠামো ভেঙে দিয়েছিলো প্লেগ। ১৭২০ সাল থেকে পরবর্তী ২ বছরে গ্রেট প্লেগ অব মার্সেইতে ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ফ্রান্সে শুধু মার্সেই শহরে মারা যায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। ফ্রান্সের জন্মহার প্রায় ৪৫ বছরের জন্য কমে গিয়েছিলো এই প্লেগের প্রভাবে। মধ্যযুগীয় ইতিহাস গবেষক ফিলিপ ডেইলিভার তাঁর এক নিবন্ধে লিখেছেন, চার বছর মেয়াদী প্লেগ মড়কে ইউরোপের ৪৫-৫০ ভাগ জনসংখ্যা বিলীন হয়ে যায়, যা প্রায় ২০ কোটি।

১৮২০ সালের মহামারীঃ কলেরা

১৮০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে কলেরা শুরু হয়। এটি অতি মহামারী আকার ধারণ করে ১৮১৭ সালে। ১৮২৪ সাল পর্যন্ত এর প্রভাব থাকলেও ১৮২০ সালে তা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করে। ১৮২০ সালে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কলেরায় আক্রান্ত এলাকার দৃশ্য ছিলো একেবারেই ভিন্ন। এশিয়াটিক কলেরা নামে পরিচিত এই অতি মহামারী শুরু হয় কলকাতার ব্রিটিশ সেনাদের মধ্যে। পরে তা প্রায় অর্ধেক বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই মহামারীতে কতো লাখ লোক মারা গিয়েছিলো তা পরিষ্কার জানা যায়নি। তবে পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ব্যাংককেই মারা গিয়েছিলো প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

১৮২০ সালের মহামারী

১৮২০ সালের মহামারী

থাইল্যান্ডে কলেরা মহামারী প্রথম ধরা পড়েছিলো ১৮২০ সালে, এরপরে ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন সহ এশিয়ার দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিলো। ১৮২০ সালে এই জীবাণুটির কারণে এশিয়ায় ১ লাখ এরও বেশি মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছিলো। ১৮২০ সালের মহামারী নদীর দূষিত পানি খাওয়ার কারণে শুরু হয়েছিলো বলে জানা যায়।

 

১৯২০ সালের মহামারীঃ স্প্যানিস ফ্লু

স্প্যানিশ ফ্লু নামে নতুন ধরণের ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রথম দেখা গিয়েছিলো ১৯১৮ সালের ৪ মার্চ কানসাসের আমেরিকান সেনা সদস্যদের মধ্যে। পরে ঝড়ের গতিতে ছড়াতে শুরু করলো সেই জ্বর। সারা পৃথিবীকে গ্রাস করতে চাইলো এই মরণব্যাধী। ১০০ বছর আগে যখন স্প্যানিশ ফ্লু দেখা দিয়েছিলো, সেই সময় লোকেরা H1N1 ফ্লু ভাইরাসের সাথে লড়াই করছিলো। ক্রমাগত স্প্যানিশ ফ্লু জিনগত ভাবে পরিবর্তন হতো, যার ফলে ভাইরাসটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক উঠেছিলো। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলো এবং বিশ্বের ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলো। ১৯২০ সালের মহামারীটি ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনা ছিলো।

১৯২০ সালের মহামারী

                                                                                      ১৯২০ সালের মহামারী

কিন্তু বর্তমান বিশেষজ্ঞগণ প্রতি শতকের মহামারীর মাঝে মিল থাকার এ ধারণাকে একদম নাকচ করে দিয়ে বলেন, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এএফপিকে বলেছেন, নির্দিষ্ট ভাইরাস মৌসুমী হলেও এই দাবীর কোনো ভিত্তি নেই যে প্রতি শতাব্দীতে একবার ভাইরাল মহামারী ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, কিছু রোগের মহামারী বারবার ঘটে। তবে কোভিড-১৯ মহামারী একটি অজ্ঞাত এবং সম্পূর্ণ নতুন রোগ।পর্ব-৫৪

৫০ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন : kalersangbad.com/করোনা-ভাইরাসঃ-অমীমাংসিত-12/
৫১ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন : করোনা ভাইরাসঃ অমীমাংসিত যতো প্রশ্ন
৫২ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন : করোনা ভাইরাসঃ অমীমাংসিত যতো প্রশ্ন
৫৩ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন : kalersangbad.com/করোনা-ভাইরাসঃ-অমীমাংসিত-15
৫৫ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন: করোনা ভাইরাস: অমীমাংসিত যতো প্রশ্ন
৫৬ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন : করোনা ভাইরাসঃ অমীমাংসিত যতো প্রশ্ন
৫৭ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন: করোনা ভাইরাস: অমীমাংসিত যতো প্রশ্ন
এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category