এ মাসে মাঝামাঝি কমতে পারে পেঁয়াজের দাম : টিপু মুনশি

কালের সংবাদ ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, পেঁয়াজ আমদানির জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওপর শতভাগ নির্ভর থাকা ভুল ছিল। এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী রমজানে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নতুন পদক্ষেপ নেবেন। আর বেড়ে যাওয়া দাম এ মাসের মাঝামাঝি থেকে কমে আসতে পারে বলে তার ধারণা।রোববার জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাজার সিন্ডিকেট বলতে আসলে কিছু নেই। ব্যবসায়ীরা সরকারের বন্ধু। তাদের সহযোগিতা নিয়েই সরকার কাজ করতে চায়। ধরপাকড় করে বা জবরদস্তি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, মোহাম্মদ হাছান ইমাম খাঁন, সেলিম আলতাফ জর্জ এবং সুলতানা নাদিরা অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ মিশর থেকে এলে এবং দেশে উৎপাদিত বাজারে আসার পর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ দাম কমতে পারে।

কবে নাগাদ পেঁয়াজের দাম কমবে- এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, মিশর থেকে আমদানিতে প্রতি কেজিতে খরচ পড়বে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। শুধু মিশর থেকে এনে চাহিদা মিটলে দাম অনেক কমে আসবে। সেই জায়গায় যেতে আরো সময় লাগবে। অনেক চেষ্টা করার পর মাত্র পরশু প্রথম চালানটা এসেছে। চাহিদার বেশিরভাগ সেখান থেকে আনার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, চলমান সমস্যা সমাধানের একটাই পথ। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো। তার জন্য কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের উৎপাদন বাড়লে আমদানি কমিয়ে দেওয়া হবে। ডিসেম্বরর মাঝামাঝি বা শেষের দিকে নিজেদের পেঁয়াজ বাজারে উঠবে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ইতোমধ্যে আসতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা হয়েছে যে, আমদানি করার পেঁয়াজের জন্য একটি দেশের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ২ থেকে ৩ অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীসহ তিনি দিল্লীতে ছিলেন। ভারত কথা দিয়েছিল মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের পর তারা রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। কিন্তু তারা সেটা করেনি।

পেঁয়াজের দাম এত বেড়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার বন্ধ রাখবেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, সেটা আমার জানা নাই। আমাদের পরিবারে চেষ্টা করি, সবাইকে বলবো, কম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।’

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনার কথা জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী রমজানে যাতে বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট তৈরি না হয় সেজন্য এক সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে এবারের সঙ্কট সম্পূর্ণভাবে আকস্মিক। যার ফলে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে দোষারোপ করে কোন লাভ নেই। দেশে পিয়াজের মোট চাহিদার ৬০ ভাগ দেশে উৎপাদন হলেও ৪০ ভাগ আমদানি করতে হয়। আমদানির ৯০ ভাগই আসতো ভারত থেকে। ভারত হঠাৎ করেই টন প্রতি দাম ৩৫০ ডলার থেকে ৮৫০ ডলার করে ফেলে। পরে তারা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশেই এখন পেঁয়াজের দাম বেশি। মিয়ানমারে কম ছিল। এখন বেড়েছে। ভারতে পেঁয়াজের দাম বাংলাদেশি টাকায় ১৪২ টাকার মত। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ বাড়ির খোলা জায়গায় পিঁয়াজ চাষ করবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ইনশাল্লাহ পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বাজারে পণ্যের দামবৃদ্ধি নিয়ে বেশি বেশি খবর প্রকাশ না করে ‘সাহায্য’ করার আহ্বান জানান গণমাধ্যমকর্মীদের।তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যত্র জিনিসপত্রের দাম বাড়লে মিডিয়া তা প্রকাশ করে না। মিডিয়ায় এসব খবর প্রকাশ করলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ফলে দাম আরো বেড়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে শীতকালীন সবজির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, পরিবহণ খরচের কারণে ঢাকার বাজারে সবজির দাম বেশি। ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোজ্য তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারেই বেশি।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category